দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় টেকনাফে আটকা অর্ধ-শতাধিক সেন্টমার্টিনবাসী

teknaf_2.jpg

দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ ও স্থানীয় ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকায় টেকনাফে আটকা পড়েছেন অর্ধ-শতাধিক সেন্টমার্টিনবাসী।

নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজারসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ফলে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত পাঁচদিন ধরে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ ও স্থানীয় কোন ট্রলার ছেড়ে যায়নি।

এতে বৃহস্পতিবার ও তার আগে টেকনাফে চিকিৎসা, নানান কাজকর্ম বা বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করতে গিয়ে অবস্থান করা সেন্টমার্টিনবাসীরা শুক্রবার সেন্টমার্টিন ফিরতে পারেননি।এতে আটকা পড়া সেন্টমার্টিনবাসীর মাঝে অভাব অন্টন দেখা দিয়েছে।

টেকনাফে আটকা পড়া সেন্টমার্টিনবাসী ২নং ওয়ার্ডের আব্দুল করিম জানান, মা বোনদের নিয়ে টেকনাফে চিকিৎসার জন্য আসি। ৪দিন ধরে টেকনাফে আটকা পড়েছি। টাকা পয়সাও শেষ।দিনে একবেলা খেলে আরেক বেলা রুটি কলা খেয়ে থাকি। রুম ভাড়াও প্রতিদিন ৫০০টাকা হারে গুনতে হচ্ছে।আমরা গরীব মানুষ।আমাদের দেখার কেউ নাই।

সেন্টমার্টিন বিডি নিউজ’র সম্পাদক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন-সেন্টমার্টিন পর্যটন শাখার সভাপতি এম কেফায়েত উল্লাহ খাঁন জানান, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময়ে সেন্টমার্টিনবাসী, বিভিন্ন শ্রেণীর দোকানদার, হোটেল রিসোর্ট বা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা আগত সম্মানীত পর্যটকগণদেরকে বিভিন্ন ডিস্কাউন্টের মাধ্যমে সেবায় নিয়োজিত থাকেন। এমনকি সবকিছুই ফ্রি হয়ে যায়। একদিকে প্রশাসন, সাংবাদিক, নেতাগণ পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সীমা ছাড়িয়ে তদবির হয়ে উঠে।আর অন্যদিকে নিরবিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অসহায় লোকজন যখন পেটের তাগিতে, চিকিৎসা নিতে বা প্রয়োজনীয় নানান কাজে সাগরপাড়ি দিয়ে টেকনাফ গিয়ে দিনের পর দিন বা সাপ্তাহ উর্দ্ধেও আটকা পড়ে যায় তখন অসহায় দ্বীপবাসীর জন্য ফ্রি সেবা তো দূরের কথা, খোজ খবর পর্যন্তও আর কেউ রাখে না। সেন্টমার্টিনবাসীর জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন, সাংবাদিক ও নেতা মহোদয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সেন্টমার্টিন ইউপি সচিব সরওয়ার কামাল জনান, দূর্যোগ আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া পর্যটকগণদের সেবা ও নিরাপত্তা জনিত অনেক কিছুই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে।অবহেলিত ও নিরবিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিনবাসীর জন্যও কিছুটা হলেও মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।

সেন্টমার্টিন কোষ্টগার্ড ইনচার্জ জানান, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে শুক্রবারও পর্যটকবাহী জাহাজ সহ স্থানীয় ট্রলারগুলো স্বাভাবিক চলাচল ছিল।আবহাওয়া বা সতর্ক সংকেত নিটল হয়ে গেলে স্থানীয় সার্ভিস ট্রলারগুলো চলাচলে নির্দেশ দেওয়া হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সাথে এসব বন্দরের উপকূল দিয়ে চলাচলকারি নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দূর্যোগ আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসী টেকনাফ এসে আটকা পড়ে যায়। এমনিতে অসহায় দ্বীপবাসী সাগরের সাথে সংগ্রামী জীবন যাপন।দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রতিটি পন্যের দামও দ্বিগুণ হারে কিনতে হয়।দ্বীপে কোন ভিক্ষুক না থাকলেও অধিকাংশ লোকজনেরই কোন রকমের জীবনচক্র।এমতাবস্থায় দ্বীপের সর্বোপরি মহলের কতৃপক্ষ বরাবরে একটাই প্রাণের দাবি, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় যেন টেকনাফে আটকা পড়া দ্বীপবাসীকে পর্যটকগণদের মত পুরো ফ্রি সেবা না হলেও অন্তত অসহায় দ্বীপবাসীদের জন্য কিছুটা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।।

Top