দুই বছরের ব্যবধানে ২৬ টাকার রসুন ২০০ টাকা

rason.jpg
দৈনিক নয়াদিগন্ত
‘দুই বছর আগেও এক কেজি আমদানি করা রসুন কিনেছি ২৬ টাকায়। রসুনের ওপর কী গজব পড়ল যে, এ সময়ের মধ্যে দাম বাড়তে বাড়তে ২০০ টাকা হয়ে গেল!’। আক্ষেপ করে মন্তব্যটি করছিলেন রাজধানীর মালিবাগ সুপার মার্কেট সংলগ্ন কাঁচাবাজারের ক্রেতা হাবিবুর রহমান। তার ক্ষোভ, ‘গত দুই বছর ধরেই দাম বাড়ছে। সরকার সবই দেখছে; কিন্তু কিছুই করছে না।’
হাবিবুর রহমানের সাথে সহমত প্রকাশ করে ওই বাজারের বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, ‘দুই বছর আগে যখন দেশী পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ২০ থেকে ২৫ টাকায়, তখন রসুনের দাম ছিল ২৬ থেকে ৩০ টাকা। আর এখন ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হলেও রসুন বিক্রি করছি ২০০ থেকে ২১০ টাকা। এটা আল্লাহর গজব ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এ সময়ের ব্যবধানে ৮০ থেকে ৯০ টাকার আদা একই দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান সোলায়মান।
গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা এবং এক মাসের ব্যবধানে ৩০ টাকা বেড়েছে সব ধরনের রসুনের দাম। এক বছরের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির এ পরিমাণ কেজিতে অন্তত ৬০ টাকা। যদিও রসুনের এই ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির জন্য খুচরা বিক্রেতারা দূষছেন পাইকারদের। আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের আঙুল আমদানিকারকদের দিকে। সামনে উৎপাদন মওসুম থাকায় আমদানি কমিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান অভিযুক্তরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন রসুনের আশায় আমদানি কমেছে, যার কারণে দাম বেড়েছে। এ ছাড়া চীনে রসুনের দাম বেশি থাকায় আমদানি কমার একটি বড় কারণ। দেশী পুরনো রসুনের মওসুম এখন প্রায় শেষ। নতুন রসুন উঠতে আরো মাসখানেক সময় লাগবে। এ সময়টা বেশি দামেই রসুন কিনতে হবে বলে জানান তারা। যদিও বিশ্ববাজারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রসুনের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানান বিশ্লেষকেরা।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, এক মাস আগে আমদানি করা যে রসুনের পাইকারি দাম ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, সে রসুন এখন কিনতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮২ টাকায়। খুচরা বাজারে এ রসুন বিক্রি করা হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। আর দেশী রসুন পাইকারি কিনতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪২ টাকা কেজি। খুচরায় বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অথচ এক মাস আগে এ রসুনের দাম ছিল পাইকারিতে ১২০ থেকে ১২৫ এবং খুচরায় ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা।
এ দিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম একটু কমেছে বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাজারে গতকাল প্রতি কেজি নতুন আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, করল্লা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শালগম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
মাছের বাজারে গতকাল মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হয় প্রতি হালি ২৪০০ থেকে ৩২০০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৭০, রুই-কাতল ২২০ থেকে ৩৮০, পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা, চিংড়ি, আইড়, বাইম প্রভৃতি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। গরুর গোশত ৪৩০ থেকে ২৫০ টাকা, খাসি ৫৫০ থেকে ৬০০ এবং ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।
খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম এখনো ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৫২ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে আমন ধান কাটতে শুরু করায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে নতুন চাল বাজারে পাওয়া যাবে এবং দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খুচরা বাজারে ডিমের হালি এখন ৩৩ থেকে ৩৬ টাকা। সয়াবিন তেলের লিটার ৯২ থেকে ৯৬ টাকা। দেশীর মশুর ডালের কেজি ১৫০ টাকা। লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি দরে।
Top