ডিসি’র নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না আদালত চত্বরের হকাররা

COXSBAZAR-D.C-OFFICE.jpg

মোহাম্মদ শফিক :

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা করছেনা আদালত চত্বরে ভ্রাম্যমান হকাররা। বরং তাদেরকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে পান, চা, সিগারেট বিক্রি করে পুরো চত্বরটিকে মাদকের হাটে পরিণত করছে এই হকাররা। এতে প্রতিদিন প্রশাসনের গাড়ি পার্কিং, আইনী সেবাপ্রত্যাশী ও কোর্ট সংশ্লিষ্টদের চলাফেরা বিঘ্নিতসহ আদালতের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। হকার বেশে যদি রাজধানী ঢাকার কূটনৈতিক এলাকার হলি আরটিজন রেস্টুরেন্ট এর মত কোর্ট চত্বরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে এই দায়ভার নেবে কে? এমনটায় প্রশ্ন কক্সবাজারের বিজ্ঞজনদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতিযোগিতামূল ভাবে আদালতের চারপাশ দখল করে বসে যায় ভ্রাম্যমান হকাররা। শুরু হয় পান, চা, সিগেরেট এর বিকিকিনি। সিগারেটের ধোয়ায় দুষিত হয় পুরো আদাত প্রাঙ্গণ। এতে আদালত চত্বরে বেড়েছে ছিনতাইকারী, চোর, পকেটমার, প্রতারক চক্র, ও মাদকসেবীদের দৌরাত্ন্য। ফলে দিন দিন আদালতের নিরাপত্তা হুমকির মূখে এমনটাই দাবী কোর্ট সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, শহরে চিহ্নিত অপরাধীরা ভ্রাম্যামান দোকানীর বেশে ঘুরছেন আদালত পাড়ায়। এতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ও ছিনতাইকারীদেও হাতে সর্বস্ব হারাচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আগত সেবা প্রার্থীরা। কিন্তু জেলা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে এই হকারগুলোর দৌরাত্ন্য থামানো যাচ্ছে না একাধিক সূত্রের দাবী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদালত চত্বরের একাধিক হকারদের দাবী, প্রশাসনের লোক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রতিদিন তাদের নির্দিষ্ট একটি চাঁদা দিতে হয়। এরপর সেখানে তারা দোকানগুলি বসান। তারা আরো জানান, মাঝে মধ্যে যখন প্রশাসন অভিযান চালায়, তখন তাঁরা উঠে যায়। কিন্তু বর্মি নাগরিক চা বিক্রেতা ফরিদসহ কয়েকজন হকার দাপটের সাথে কোর্ট চত্বর দখল করে দোকান করা অব্যাহত রাখে। তাকে দেখে তারাও পূনরায় দোকান খুলে বসে। তাদের প্রশ্ন যদি ফরিদ দোকান করতে পারে তাহলে তারা কেন দোকান করতে পারবে না? আর যদি সে উঠে যায় তাহলে স্বেচ্ছায় তারা চলে যাবে।

সিনিয়র এডভোকেট সাজ্জাদুল করিম, মো: মামুন, ইমাম হোছেন চৌধুরীসহ অনেকেই জানান, আদালত চত্বরে বেপরোয়া ভ্রাম্যমান দোকান বসার কারণে অপরাধ প্রবতার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এর কারণে আদালতে সৌন্দর্য্য নষ্ট এবং পাশাপাশি আদালতের নিরাপত্তা চরম বিঘ্নিত হচ্ছে।

কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহজাহান নূরী জানান, ভ্রাম্যমান দোকানের কারণে অদালতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। আদালতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের পক্ষ থেকে গত ১৫ জুলাই ৮২৭ নম্বর স্মারকমূলে ও ৩ অক্টোবর ১১৫৬ নং স্মারকমূলে পুলিশ সুপারকে দু’দফা চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পরে পুলিশ প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালালেও এর স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি।

কক্সবাজার আইনজীবি সমিতির সভাপতি জিপি মোহাম্মদ ইসহাক জানান, ভ্রাম্যমান দোকানের কারণে আদালত পাড়ায় অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে। এসব হকারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, “ আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমান হকারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজাও দেওয়া হবে। তবে এর আগে কোর্ট সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটু বসতে হবে”।

Top