ট্রাম্পের সরকার গঠনের উদ্যোগে স্থবিরতা

trump-4.jpg

ভাটা পড়েছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার গঠনের উদ্যোগে। ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এমনটা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন আসছে বছরের ২০ জানুয়ারি। মার্কিন রীতি মেনে,  প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ের দিন থেকে শুরু করে ট্রাম্পের শপথের আগ পর্যন্ত কাজ করছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গঠিত এক অন্তবর্তী দল। প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশন অ্যাক্ট নামের আইনের অধীনে এই দল অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার গঠন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়াসহ পরামর্শ দিয়ে  করে।

ট্রাম্পের  অন্তবর্তী দলটি ১৬ সদস্যের । ওই নির্বাহী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি। নির্বাচনী প্রচারে যে কয়জন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিককে ট্রাম্প নিজের পাশে পেয়েছিলেন, ক্রিস্টি তাঁদের অন্যতম। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই ক্রিস্টিকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর স্থানে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সান্ত্বনা হিসেবে ক্রিস্টিকে এই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।  ক্রিস্টির পদাবনতির পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সও এই কমিটি থেকে সরে গেছেন। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা বলে বিবেচিত হতেন তিনি। বলা হচ্ছে, ট্রানজিশন টিমের সাবেক প্রধান ক্রিস ক্রিস্টির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই নাকি  পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তিনি।   নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলা হয়, এছাড়া এই টিমের আরেক সদস্য ম্যাথিউ ফ্রিডম্যানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গেও ক্রিস্টির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, ক্রিস ক্রিস্টিকে ট্রাম্পের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ক্রিস্টি ও তার কয়েকজন সহযোগী এখন আর ওই উপদেষ্টা কমিটিতে কাজ করছেন না।  এজন্য তারা অভ্যন্তরীণ সঙ্কটকেই দায়ী করেছে। নির্বাচনী প্রচারে যে কয়জন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিককে ট্রাম্প নিজের পাশে পেয়েছিলেন, ক্রিস্টি তাঁদের অন্যতম। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই ক্রিস্টিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, যে ক্রিস্টির নেতৃত্বে ওই অন্তবর্তী দল কাজ করছিলো তিনি জচলে যাওয়া্য় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ম,ন্থর হয়েছে কাজের গতি। সবমিলে স্থবিরতা নেমে এসেছে রিপাবলিকান শিবিরে।

.অ্যাশ কার্টার

প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ কার্টার বলেছেন, তিনি এ সপ্তাহে ট্রাম্প ট্রানজিশন টিমের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী। তবে গর্ডন ট্রোবিজ নামে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। অবশ্য এ ব্যাপারে ট্রাম্প ট্রানজিশন টিম বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তাড়াহুড়ো করে এতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বলেই এমনটা হচ্ছে। ট্রাম্পের মুখপাত্র জ্যাসন মিলার পলিটিকোকে বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী ছয়দিনে আমাদের দলটির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং আমরা তাড়াহুড়া করে এতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন জনগণ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে এবং তারা এ ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স আমেরিকাকে প্রাধান্য দিয়ে সবসময় কাজ করতে বদ্ধপরিকর এমন উৎসাহী ও সফল নেতাদের নিয়ে প্রশাসন গড়ার চেষ্টা করছেন।’

সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং পলিটিকোর খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্থবিরতার নেপথ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

২০০৫ সালে নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিস্টি জ্যারেড কুশনারের ব্যবসায়ী পিতা চার্লসকে ‘লোভ, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ অভিযোগে দুই বছরের জন্য জেলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সে কারণে ক্রিস্টিকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ট্রাম্প টাওয়ারের অভ্যন্তরীণ দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে নাকি বেননকেই চিফ অব স্টাফ করতে চাইছিলেন। তবে কুশনারের হস্তক্ষেপে নাকি মতামত পাল্টেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জামাতার কথাই শুনেছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি –আরএনসির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রিয়েবাসকে চিপ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি।

এরমধ্যে আবার শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট এ দুই শিবির থেকেই একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যে দুজনের কথা ভাবছেন তাদের নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ট্রাম্পের শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রুডি গিউলিয়ানি রয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে। পলিটিকো রুডিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রুডি টাকার বিনিময়ে বিদেশি সরকারের জন্য কনসাল্টিং-এর কাজ করে থাকেন। ‌আর আরেকজন হলেন নিউ ইয়র্কে সাবেক মেয়র ও জাতিসংঘের সাবেক দূত জন বল্টন। তিনি কট্টর নব্য রক্ষণশীল। তার মনোনয়ন ঠেকাতে এরইমধ্যে উঠে-পড়ে লেগেছেন রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল। ট্রাম্পের কথিত নতুন ধারার পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী পল মনে করেন, ‘ট্রাম্পের এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত যারা তার পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন করবে’।  পলিটিকোকে পল বলেন, ‘জন বল্টনের মতো কাউকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে না দেওয়ার জন্য যা কিছু করতে হয় আমি করব।’

এতো কিছুর পরও অন্তবর্তী দলে কোন্দলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘সুসংগঠিত প্রক্রিয়ায় সবকিছু এগোচ্ছে, এর ভিত্তিতেই আমি পরবর্তী মন্ত্রিসভা ও অন্যান্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেব। তবে শেষ পর্যন্ত কারা থাকছে তা কেবল আমিই জানি!’ নির্বাচন পরবর্তী সপ্তাহটা ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারেই কাটিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

Top