টেকনাফ পল্লানপাড়া প্রাইমারী স্কুলের ২য় ব্যাচে জেএসসি পরিক্ষার্থী ৩১ জন

teknaf-pic-18.11.2016.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
প্রাইমারী ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত হলেও টেকনাফের পল্লানপাড়া সরকারী প্রাইমারী স্কুল থেকে ৩১ জন পরিক্ষার্থী এবারে জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে। প্রাইমারী স্কুলে লেখা-পড়া করে মাধ্যমিকের জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নেয়ার বিষয়টি সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। ২০১৫ সালে ১ম ব্যাচে ১৭ জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এরা পরিক্ষা দিয়েছে টেকনাফ এজাহার গার্লস হাইস্কুল কেন্দ্রে। ১৭ জনের মধ্যে ছিল ১০ জন ছাত্রী এবং ৭ জন ছাত্র। ২০১৬ সালের জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নেয়া ২য় ব্যাচের ৩১ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন ছাত্রী এবং ১৬ জন ছাত্র।

টেকনাফ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর মোঃ ইলিয়াছ জানান বর্তমান সরকার ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসাবে ২০১২ সালে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারী প্রাইমারী স্কুলে ৮ম শেনী পর্যন্ত চালু করেছিল। এসব স্কুলে ৫ম শ্রেনীতে উর্ত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২০১৩ সালে ৬ষ্ট শ্রেনীর প্রথম ব্যাচের ক্লাস চালু করা হয়। ২০১৫ সালে ৮ম শ্রেনীর লেখাপড়া সমাপ্ত করে প্রথম ব্যাচটি সর্বপ্রথম জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

এবারে অংশ নেয়া ২য় ব্যাচের সৌভাগ্যবান ৩১ জন হচ্ছে আবদুল মতলব ও ফাতেমা খাতুনের পুত্র মোঃ কায়েস, মুজাম্মেল হক ও নুর খাতুনের পুত্র মোঃ ফেরদাউস, শামসুল আলম ও সাবেকুন্নাহারের পুত্র মোঃ ওয়াশিমুল আলম, নুরুল আজিম ও নাসিমা আক্তারের পুত্র মোঃ মামুনুর রশিদ, মুজাম্মেল হক ও নুর খাতুনের পুত্র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম ও হান্নান বেগমের পুত্র মোঃ শাকিল, মোঃ নুর ও আয়েশা বেগমের পুত্র মোঃ সুলাইমান, ছৈয়দ আলম ও দিলদার বেগমের পুত্র আবদুল খালেক, সুলাইমান ও মরিয়ম বেগমের পুত্র মোঃ শাকিব, জাফর আলম ও গুলতাজ বেগমের পুত্র মোঃ রিয়াদ, নুরুল ইসলাম ও মরজিনা বেগমের পুত্র আজিজুর রহমান, মোঃ হোছাইন ও খদিজা বেগমের পুত্র মোঃ আলী, আলী আহমদ ও নুর জাহানের পুত্র মোঃ ইয়াছিন, আবদুর রশিদ ও ছৈয়দা বেগমের পুত্র মোঃ আমিনুল হক, কবির আহমদ ও মাহমুদা বেগমের পুত্র আবদুর রশিদ, আবদুস শুক্কুর ও জাহেদা বেগমের পুত্র মোঃ মিনহাজ উদ্দিন, কবির আহমদ ও মাহমুদা বেগমের মেয়ে মুর্শিদা পারভিন, নবী হোছন ও লাইলা বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার, নুরুল হক ও নুর বেগমের মেয়ে ফাতেমা খাতুন, নবী হোছন ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে রমিদা বেগম, আবদুল জব্বার ও সুরা খাতুনের মেয়ে নাজমা আক্তার, নুরুল বশর ও নুর আয়েশার মেয়ে ফরিদা ইয়াসমিন সুমাইয়া, নুরুল আলম ও পারভিন আক্তারের মেয়ে শাহীন সুলতানা রীমা, বশির আহমদ ও রুনা আক্তারের মেয়ে আল-হুমাইরা, আলী আহমদ ও লাইলা বেগমের মেয়ে হালিমা আক্তার, আবদুল হাফেজ ও শাহেনা আক্তারের মেয়ে কহিনুর আক্তার, মোঃ ইসলাম ও ফরিদা খাতুনের মেয়ে উম্মে কুলসুম, মোঃ তৈয়ব ও লাইলা বেগমের মেয়ে সনজিদা তৈয়ব সোমা, বাদশাহ মিয়া ও ফিরোজা বেগমের মেয়ে কহিনুর আক্তার, মোঃ ইকবাল ও জরিনা খাতুনের মেয়ে সুফাইরা পারভিন, মোঃ ইউসুফ ও সোনা বেগমের মেয়ে নাসিমা আক্তার রুনা।

১ম ব্যাচের সৌভাগ্যবান সেই ১৭ জন পরিক্ষার্থী ছিল আবদুল করিম ও ফরিদা বেগমের মেয়ে রুবি আক্তার, মোঃ ছিদ্দিক ও জুলাইখা বেগমের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার, আমির হোসেন ও গুলবাহার বেগমের মেয়ে ছমিরা আক্তার, মোঃ আনোয়ার ও আয়েশা বেগমের মেয়ে শহিদা আক্তার, খুইল্লা মিয়া ও রাবিয়া বেগমের মেয়ে ফাতেমা বেগম, আবদুল গফুর ও রহিমা বেগমের মেয়ে আজিজা বেগম, বশির আহমদ ও রহিমা বেগমের মেয়ে ছলিমা আক্তার, মোজাম্মেল ও নুর খাতুনের মেয়ে সাবেকুন্নাহার, আমির হোসেন ও গোলবাহার বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, আবুল হাশেম ও শামসুন্নাহারের মেয়ে মরিয়ম আক্তার, দুদু মিয়া ও আমিনা বেগমের পুত্র মোঃ রাশেদুল ইসলাম, কবির আহমদ ও মাহমুদা বেগমের পুত্র জাকের হোসেন, মোঃ আনোয়ার ও দিলদার বেগমের পুত্র গিয়াস উদ্দিন, মোঃ ইয়াকুব ও নুর জাহান বেগমের পুত্র মোঃ ইউসুফ, লাল মিয়া ও ও সুফিয়া বেগমের পুত্র জসিম উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও রাজিয়া বেগমের পুত্র মোঃ ফায়সাল, সিরাজ উদ্দিন ও রহিমা বেগমের পুত্র নুরুল মোস্তফা। বর্তমানে উক্ত স্কুলে ৬ষ্ট শ্রেনীতে ৪৮ জন এবং ৭ম শ্রেনীতে ৩৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। পরিক্ষার্থীরা প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করে একই স্কুল থেকে জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নিতে পেরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি আবদুল গফুর ও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম জানান বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অনুপাতে কমপক্ষে ১৩ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্ত বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত পদ রয়েছে মাত্র ৭টি। তম্মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। এরা হলেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আমিন, অর্জুন দাস, জয়তুন বাহার, শাহিদা আক্তার। তারেক আলী ও রাশেদা বেগম নামে ২ জন শিক্ষককে ডেপুটেশনে নেয়া হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

Top