টেকনাফে আমনের বাম্পার ফলন

Teknaf-pic-16-11-2016-2.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
টেকনাফে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এবছর প্রাকৃতিক পরিবেশসহ সবই কৃষকের অনূকুলে থাকায় আগের বছরের চাইতে ফলনও ভাল হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী ধান উৎপাদন হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কৃষক-কৃষাণীরা পাকা ধান কেটে আটি বেঁধে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ মাড়াইয়ের কাজ করছেন। আবার অনেকে কুলা ও ফ্যান দিয়ে ধান পরিস্কারের কাজ করছেন। আবহমান বাংলার কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে নবান্ন উৎসব।

টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় এবছর উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে ৫ হাজার ৩৮০ হেক্টর, হ্নীলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, টেকনাফ সদরে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর, সাবরাংয়ে ১ হাজার হেক্টর, বাহারছড়ায় ১হাজার ৪০০ হেক্টর, পৌরসভায় ৫ হেক্টর ও সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে ৯০ হেক্টরসহ ১০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমি চাষাবাদের কথা থাকলেও বেড়িবাঁধের ভাঙ্গনে ৫ হেক্টর জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়নি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে ১০ হাজার ৮২০ হেক্টর জমির মধ্যে ৫০ হেক্টরে ব্রি ধান-১১, ১০০ হেক্টরে ব্রি ধান-২৩, ১ হাজার হেক্টরে ব্রি ধান-৩২, ৩ হাজার ৭০ হেক্টরে ব্রি ধান-৩৩, ২ হাজার ২০ হেক্টরে ব্রি ধান-৩৯, ২৫০ হেক্টরে ব্রি ধান-৪০, ২০০ হেক্টরে ব্রি ধান-৪১, ২ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৪৯, ১০০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫১, ১৫০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫২, ২১০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫৩, ১৫০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫৪, ৩০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫৬, ২০ হেক্টরে ব্রি ধান-৫৭, ৩০০ হেক্টরে বিনা-৭, ২০ হেক্টরে বিনা-৯ সহ মোট ৯ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে ১৬ প্রকার উফশী জাতের চাষ করা হয়।

অন্যদিকে ৩০ হেক্টরে এরাইজ গোল্ড নামের হাইব্রিড ধানের চাষ করা হয়। আবার ২০০ হেক্টরে লেম্ব্র, ৩০০ হেক্টরে বিন্নি, ৩০০ হেক্টরে লাল পাজাম, ২৫০হেক্টরে কালাম পাজাম নামের স্থানীয় জাতের চাষ করা হয়। তবে ব্রি ধান-৩৩ ও ব্রি ধান-৩৯ জাতের ধান চাষে বেশী করতে দেখা গেছে। উপজেলায় এবারে আমন ধানের চাউলের লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৩২১ মেট্রিক টন। অর্জিত হয়েছে ৩০ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চাউল। সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণে কৃষকরা জমিতে চারা রোপন করে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটে। অন্য মৌসুমের তুলনায় এবছর কার্তিক মাসের শুরুতেই ধান কাটার রীতিমত ধুম পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ধানের ফলন ভালই হয়েছে। এবারে তারা ধান ক্ষেতে অতিরিক্ত পার্সিং করায় কম খরচে ধানের ভাল ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। পাশাপাশি এ পদ্ধতি অনুসরণ করায় পোকা মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় বাড়তি খরচ হয়নি। এতে কৃষকের যেমনি টাকা সাশ্রয় হয়েছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকরা বেশী ধান হাসিমুখে ঘরে তুলতে পেরেছেন। এবছর হাইব্রিড প্রজাতির এরাইজ গোল্ড জাতের ধান প্রতি ৪০ শতক জমিতে ১০০ আড়ি (১৪ কেজিতে ১ আড়ি) ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নাটমুরা এলাকার কৃষক জালাল উদ্দিন জানান। দমদমিয়া এলাকার কৃষক ঠান্ডা মিয়া ও আবুল হাসেম জানান ধানের ফলন ভাল হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লোনা পানি প্রবেশ করাতে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। লেদা এলাকার হোসন আহমদ জানান সুন্দর বর্ষা ও যথাসময়ে জমিতে সার দিতে পারায় ধানের ফলন আগের তুলনায় অনেক বেশী হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম কুতুবী জানান কৃষকরা জমিতে পার্সিং পদ্ধতি করাতে ফলন বেশী হয়েছে। কৃষি উদ্ভাবনীয় আধুনিক পদ্ধতিতে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হয়েছে অন্যদিকে বিষ প্রয়োগ না করায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়েছে। তাছাড়া কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী মৌসুম থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষের মাধ্যমে ফলন আরো বেশী বৃদ্ধি করা যেতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিসার মো: শহিদুল ইসলাম বলেন চলতি সনে সারের সংকট না থাকায় কৃষকরা সুষম সারের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জমিতে সার প্রয়োগ, আবহাওয়া অনুকূল, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় পার্সিং ও লাইনিং পদ্ধতি কৃষকরা অনুসরণ করাতে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশী ফলন হয়েছে। আগামীতে কৃষকদের মাঝে আরো বেশী পাসিং, লাইনিং সহ বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Top