টেকনাফে অসহায় মানুষের পাশে ‘৬ সাংবাদিক’

Teknaf-19.11-2.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ৬ জন সংবাদকর্মী ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন। অল্প সময়ে সর্বমহলের প্রশংসা কুড়ানো পদ-পদবী বিহীন ব্যতিক্রমধর্মী সংবাদকর্মী সংগঠনের নাম “অসহায় মানুষের পাশে আমরা ৬ জন”। সেই ৬ জন হলেন গিয়াস উদ্দিন, আবদুল্লাহ মনির, সাইফুল ইসলাম সাইফী, জেড করিম জিয়া, আবদুর রহমান ও আবুল আলী। পেশাগতভাবে ৬ জনই সক্রিয় সংবাদকর্মী।

প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা বলেন ‘টেকনাফে হয়তো সুনামের চেয়ে বদনাম বেশী থাকতে পারে কিন্তু তবুও আমরা ৬ জন মিলে কিছু করতে চাই অসহায় মানুষদের জন্য। যাদের পাশে কেউ নেই তাদের পাশে দাড়াঁনোর প্রতিজ্ঞা আমাদের। আমাদের নেই কোন বিপুল সম্পদ, তারপরও নিজদের মেধা, শ্রম ও সততা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই সারাজীবন।

বিনা আহ্বানে অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের অসহায়তা দুর করার অসাধারণ মানবিক কাজের মাধ্যমে এ পর্যন্ত শিশু আয়াতসহ ৪ জন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আর একেই বলে মানবতার ডাক। কেবল অপার্থিব মানবতার ডাক শুনতে পেলেই এটাই সম্ভব। আর এ ডাক সবাই শুনতে পান না, কেবল আমরাই শুনতে পাই। তাই বিনা স্বার্থে আমরা তাদের পাশে থেকে অসহায় মানুষের সমস্যা দুর করতে কিছুটা সক্ষম হয়েছি। তাঁরা হলেন শিক্ষা ক্ষেত্রে সলিমা আক্তার, মো. জোবাইর, পঙ্গু শামসুল আলম ও পায়ুপথ বিহীন শিশু আয়াত উল্লাহ। তম্মধ্যে সব চেয়ে বেশী আলোচিত ছিল পায়ুপথ বিহীন শিশু আয়াত উল্লাহ। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মহেশখালিয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম ও বেলুজা খাতুনের জন্ম নেওয়া শিশু আয়াত উল্লাহ। তার কোন পায়ুপথ ছিল না। দীর্ঘ ২ বৎসরেরও বেশি সময় ধরে অর্থ অভাবে অপারেশন করতে না পারার খবর পেয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় “অসহায় মানুষের পাশে আমরা ৬ জন”। শিশু আয়াত উল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন উপহার দেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করি। সেই অসহায় শিশু আয়াত উল্লাহর অপারেশন বাস্তবায়নে শুরু হয় পরিকল্পনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেটে আর্থিক সাহায্যের প্রচারনা অব্যাহত রাখেন “অসহায় মানুষের পাশে আমরা ৬ জন”। আর্থিক সচ্ছতা নিশ্চিত করণে অসহায় পরিবারের নামে খোলা হয় ব্যাংক একাউন্ট। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের অনেক লোকজন অসহায় পরিবারের ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন ২ লক্ষাধিক টাকা। পায়ুপথ বিহীন শিশু আয়াত উল্লাহ দীর্ঘ একমাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর অবশেষে গঠিত হয় বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে ৫ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পযর্ন্ত টানা ৫ ঘন্টা অস্ত্রোপাচার সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। মা বেলুজা খাতুন বলেন, বর্তমানে আমার সন্তান সুস্থ ও নিরাপদ আছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে আগামী কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে। যারা আমার সন্তানের চিকিৎসায় আর্থিকভাবে এগিয়ে এসেছেন। তাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের অনেক লোক আমার ছেলে জন্য আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে, টেকনাফের সংবাদকর্মী সংগঠন “অসহায়দের পাশে- আমরা ৬জন” আমি কোন দিন তাদের ভূলবনা, আল্লাহ যেন সবাইকে নিজ হাতে ভাল প্রতিদান দেন এ দোয়া করছি।

প্রক্রিয়ায় তাঁরা আরও বলেন কত অসহায় মানুষ রোগসহ বিভিন্ন কারনে কষ্ট পাচ্ছেন। এর মধ্যে কয়েক জনের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর কাজ শুরু করি আমরা। আর প্রতিজ্ঞা করি যত সামান্য আয়ই করি না কেন, তা খরচ করব অসহায় মানুষেদের জন্য। বিশেষ করে অসহায় রোগীদের জন্য কিছু করতে মন চায়। কারণ তাদের দেখভাল করার ও খরচ দেওয়ার কেউ নেই। অসহায় মানুষের জন্য কিছু একটা করার প্রত্যয়ে আমাদের অগ্রযাত্রা। শিক্ষা ও সচেতনতায় পিছিয়ে থাকা টেকনাফের চারদিকেই সমস্যা ও সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের যেসব মেধাবী মুখ অর্থের অভাবে শিক্ষা চিকিৎসা ও অবহেলিত তাদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের এ পথ চলা। আমরা জানি আমাদের উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করবেই। তাতে আমাদের কান দেওয়ার সময় নেই। কাজেই আমাদের পরিচয় হবে।

Top