টেকনাফের বড়ডেইল একই জমি ২ বার বিক্রির পায়ঁতারা

teknaf_2.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ  :

৩১ বছর আগে বিক্রিত জমি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পুনরায় বিক্রি করার পায়ঁতারা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্রিত জমি পুনরায় বিক্রির পায়ঁতারায় বিক্রেতা তমিজা খাতুন ছাড়াও জহির উদ্দিন নামে আবেদনকারীদের এক সহোদর ভাই এবং মিডিয়া হিসাবে শীলখালী গ্রামের হাফেজ আহমদ, বড়ডেইল গ্রামের সালাহ উদ্দিন ও দলিল লেখক জাহাজপুরা গ্রামের ছৈয়দুর রহমান জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল গ্রামে ঘটেছে এঘটনা। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে রেজিস্ট্রার্ড দলিল মুলে ক্রয়কৃত ৩৩ শতক জমির দীর্ঘ ৩১ বছর ভোগদখলীয় মালিক বড়ডেইল গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন মাস্টারের পুত্র মাওঃ নেজাম উদ্দিন ক্রেতাদের পক্ষে টেকনাফ সাব-রেজিস্টার বরাবরে আবেদন করেছেন।

মাওঃ নেজাম উদ্দিন লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন টেকনাফ উপজেলার ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল মৌজার জেএল নং-৭, আরএস খতিয়ান নং-৫৫, ১৭৩, ৯, ১২৮ এবং আরএস ১৯৬৩, ১৯৬৪, ২২৪৭, ২২৪৮, ২২৫৪, ২২৫৬, ২২৭২, ২২৭৮, ২২৮০, ১২৪৩১, ১২৪৩৯, ১২৪৪০, ১২৪২৮, ৭৮ ও ১৮৬ দাগাদির আন্দর ০.৩৩৩৩ একর (স্থানীয় মতে ১০০ কড়া) জমি ১৯৮৫ সালের ১৯ অক্টোবর বড়ডেইল গ্রামের মৌলভী ইজ্জত আলীর স্ত্রী তমিজা খাতুন থেকে ১০২৪ নম্বর রেজিস্ট্রার্ড দলিল মুলে ক্রয় করে দীর্ঘ ৩১ বছর ভোগদখল করে আসছে। রেজিস্ট্রার্ড দলিল মুলে ক্রয়কৃত ৩৩ শতক জমির ক্রেতা ছিলেন বড়ডেইল গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন মাস্টারের ৪ পুত্র যথাক্রমে গিয়াস উদ্দিন, জহির উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও মাওঃ নেজাম উদ্দিন। খরিদা স্বত্বীয় ও ভোগদখলীয় জমি থেকে ৩ ভাইকে বঞ্চিত করার কুমানসে ৩১ বছর আগে খরিদা জমি ভাই জহির উদ্দিন এজমালী সম্পত্তি হিসাবে ভোগদখলে থাকার সুবাদে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পূর্ববর্তী মালিক তমিজা খাতুনকে প্রভাবিত করে পুনরায় বিক্রি করার পায়ঁতারা করছে।

এদিকে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে ক্রয়কৃত জমি পুনরায় বিক্রির প্রতারণার ঘটনা ১ নভেম্বর টেকনাফ সাব-রেজিস্টার অফিসে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। বড়ডেইল মাদরাসার বর্তমান মুহতামিম দৈনিক সাগর দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা মুফতি কিফায়তুল্লাহ শফিকের সময়োচিৎ বলিষ্ট উদ্যোগ ও হস্তক্ষেপে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও দলিল সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে ক্রয়কৃত জমি পুনরায় বিক্রির চক্রান্ত সাব-রেজিস্ট্রারের তৎক্ষনাৎ উচিত সিদ্ধান্ত ও ন্যায়পরায়ণতায় ভন্ডুল হয়ে যায়।

প্রতারণার আরও দু’টি জ্বলন্ত প্রমাণ উল্লেখ করে টেকনাফের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীণতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়ার মুহতমিম, কক্সবাজার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্টাতা পরিচালক, বড়ডেইল ও জাদিমুরা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টানের পরিচালক, একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা, আর্ন্তজাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব দৈনিক সাগরদেশ ও মাসিক আল-আবরার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক আল্লামা মুফতী আলহাজ্ব কিফায়তুল্লাহ শফীক্ব (০১৮১৭০০৯৩৮৩-০১৮৬৮৫১৫১৫১) জানান বাহারছড়া বড়ডেইল হোসাইনিয়া ফয়জুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার নামে বিগত ১৯৯৪ সালের ৯ অক্টোবর বড়ডেইল মৌজার ৪১৫ ও ৪১৭ নং বিএস খতিয়ানভূক্ত ৩৩৩৭ ও ৩৩৩০ বিএস দাগের ৪০ শতক জমি টেকনাফ এসআর অফিসের ৯৯৭ নং সাব বিক্রয় কবলামূলে খরিদ করা হয়। তথা হতে অদ্যাবধি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সকলের জ্ঞাতসারে ভোগদখলরত অবস্থায় বার্ষিক ধান্য চাষ করে আসছে। তৎপ্রমাণে উপজেলা ভূমি অফিসে মাদরাসার নামজারী ও জমাভাগ মামলা চলমান আছে। এরইমধ্যে একই খতিয়ানের একই দাগের একই জমি পূর্ববর্তী মালিক তমিজা খাতুন স্বামী মৃত মৌলভী ইজ্জত আলী গোপনে অন্যত্র বিক্রয় করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এমতাবস্থায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্বীয় স্বত্বদখলীয় উক্ত জমি রক্ষার জন্য সারাদিন টেকনাফ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পাহারাদার নিয়োগ করেন। অপরদিকে রাত ৮ টার সময় গোপনসূত্রে সংবাদ পাওয়া যায় লোকচক্ষু ফাঁকি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক বাহারছড়া নিবাসী সৈয়দুর রহমান পিতা ফজলুল হক সনদ নং ৬৬/২০০৫ এর উদ্যোগে স্থানীয় মিডিয়া হাফেজ আহমদ পিতা সিকান্দর মেম্বার ও মৌলভী সালাহুদ্দীন পিতা জহিরুদ্দিন এর সহযোগিতায় অফিসের বাইরে কমিশন রেজিস্ট্রির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার এর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে চলমান চক্রান্তের ব্যাপারে অবহিত করলে সাব-রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আব্দুল মালেক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে শুনে দলিল লেখক সৈয়দুর রহমান থেকে উক্ত প্রতারণামূলক প্রস্তুতকৃত দলিলটি তলব করেন। প্রস্তুতকৃত দলিলটি তিনি নিজে পাঠ করে দেখেন যে ঠিক একই জমিকেই ২য় বার বিক্রির জন্য দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। অত:পর তিনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে এ দলিল কখনো অনুমোদিত হবেনা বলে আশ্বস্ত করেন।

তাছাড়া একই মৌজার বিএস ৫০৪ খতিয়ানের বিএস ৫৩৬৯, ৫৩৭৩, ৫৩৭৪ দাগাদির আন্দর ৮০ শতক জমি স্থানীয় নোয়াখালী গ্রামের হাজী সৈয়দ হোছন পিতা মৃত মকবুল আহমদ গং কর্তৃক ১৩৯৩ ও ১৩৯৪ নং সাব কবলা মূলে খরিদা সম্পত্তি হয়। কিন্তু গ্রহীতাদের নামজারী ও জমাভাগ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বর্তমানে বিজ্ঞ যুগ্মজেলা জজ আদালত কক্সবাজারে ৭২/১২ নং মামলা চলমান। হাজী সৈয়দ হোছন গং এর স্বত্বদখলীয় উক্ত ৮০ শতক জমির মূল বিএস খতিয়ানে ভুলক্রমে স্থানীয় মৃত বুজুরুজ মিয়া পিতা হাজী আশ্রফ মিয়ার নাম লিপিবদ্ধ হওয়ায় তার মরণে তৎ ওয়ারিশগণ গোপনভাবে অন্যত্র বিক্রি করে অবৈধ টাকা উপার্জনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার মুহাম্মদ ইলিয়াছ কোম্পানি (০১৮১৭-৭৮৯৬৯৫) স্থানীয় দুইজন দালাল কর্তৃক এই প্রতারণার কথা শুনেছেন বলে স্বীকার করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দেন। এমতাবস্থায় টেকনাফ এলাকার জমি ক্রয় করা বড় কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অসংখ্য ক্রেতা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে একই জমি একাধিক বারের মতো ক্রয় করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অসদুপায়ে খতিয়ান তৈরি করলেও জমির দখলে যেতে পারছেন না বলে অহরহ অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার টেকনাফ উপজেলার নির্ধারিত অংশকে এক্সক্লুসিভ জোন ঘোষণার পাশাপাশি ককসবাজার থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন করায় স্বাভাবিকভাবে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং মৌজা, টেকনাফ মৌজা-২, লেঙ্গুরবিল মৌজা, বড়ডেইল মৌজা, শিলখালী মৌজাসহ উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় জমি পুনরায় ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতিযোগিতা চলছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরলমনা ক্রেতাগণ স্থানীয় কতিপয় দালাল ও কুচক্রিমহলের হাতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

Top