জয় পেল আর্জেন্টিনা

aurgentina_1.jpg

জমিয়ে রাখা আতশবাজিগুলো অবশেষে পোড়াতে পারল আর্জেন্টিনা। স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকা দলের আসল বারুদগুলো আবারও ঝলসে উঠল। চার ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখলেন এদগার্দো বাউজা। ব্রাজিল-লজ্জার পর দলকে জেগে ওঠার আহ্বান জানানো লিওনেল মেসিই নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন, করালেন আরও দুটি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের কক্ষপথে ফিরল আর্জেন্টিনা।

এই ম্যাচ হারলে বাউজা চাকরি হারাতেন বলেই খবর ছিল আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমে। এই ম্যাচ হারলে যে আর্জেন্টিনা আরও ছিটকে পড়ত ২০১৮ বিশ্বকাপের দৌড় থেকে। কোণঠাসা আর্জেন্টিনা জ্বলে উঠল ঠিক সময়ে। ১০ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে প্রথমে এগিয়ে যাওয়া। ২৩ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে প্রাতোর নিখুঁত নিশানার হেডার করে ফেলল ২-০।

ম্যাচে ফিরতে মরিয়া কলম্বিয়াকে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ প্রান্তে ছিটকে দিল অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার গোল। বক্সের ডান প্রান্তে কলম্বিয়া রক্ষণের সামান্য ভুলের চড়া মাশুল তুললেন মেসি। তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া বল হিগুয়েইনকে পেরিয়ে গেলেও ডি মারিয়া ভুল করলেন না। ৮৩ মিনিটে স্কোর হয়ে গেল ৩-০। কলম্বিয়াকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলেও পেকারম্যানের দলকে পেরিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার স্বস্তিটা বেশি বাড়ছে না অবশ্য। কারণ এখনো পয়েন্ট টেবিলের নিরাপদ চারে ফিরতে পারেনি তারা। দিনের আরেক ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত উরুগুয়েকে ৩-১ গোলে হারাল চিলি। এই ম্যাচটা চিলি ড্র করলেও আর্জেন্টিনার সুযোগ ছিল সেরা চারে ওঠার। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে যে চারটি দলই সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলকে পেরোতে হবে প্লে অফ নামের আরেক বাধা। আর্জেন্টিনা এখন পাঁচ নম্বরেই আছে।

আর্জেন্টিনা অবশ্য যা পেয়েছে তাতেই খুশি। আগামী মার্চের আগে ম্যাচও নেই। শেষ ৬ ম্যাচের জন্য ঠান্ডা মাথায় সব হিসাব আর দলকে আরও গুছিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় পাবেন বাউজা।

এ ম্যাচে প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল আর্জেন্টিনা কোচ। সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল হিগুয়েইন-আগুয়েরো দুজনকেই বসিয়ে প্রাতোকে সুযোগ দেওয়া। সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন অনেক দেরিতে জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শুরু করা এই ২৮ বছর বয়সী।

তবে ম্যাচের আসল নায়ক ছিলেন মেসিই। অনেক দিন পর প্রতিটা সেট পিসেও আর্জেন্টিনাকে ভয়ংকর দেখাল। মেসির প্রতিটা ফ্রি কিক থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করতে মরিয়া ছিল দল।

প্রথম গোলটা অবশ্য মেসি করলেন সরাসরি ফ্রি কিক থেকে। পোস্টের ডান কোণা ঘেঁষে ঢুকে যাওয়া বল ঠেকানোর উপায় ছিল না বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক ওসপিনারও। ২৩ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে খুব জোরালো নয়, কিন্তু মাপা হেডে ডান পোস্টে বল পাঠালেন প্রাতো। দ্বিতীয়ার্ধের একদম শুরুতেই প্রাতো আরেকটি গোলের সুযোগ হারিয়েছেন। এরপর কলম্বিয়া মরিয়া চেষ্টা করেছে। আর্জেন্টিনাও খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চায়নি।

ম্যাচের ৭ মিনিট বাকি থাকতে ডি মারিয়া গোলমুখেই নেওয়া জোরালো শটে সব আর্জেন্টিনার শঙ্কাও যেন ছিটকে যায়। দলের অধিনায়ক হামেস রদ্রিগেজের শেষ দিকে নেওয়া ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফিরে এলে সান্ত্বনার গোলটিও পাওয়া হয়নি কলম্বিয়ার।

দীর্ঘ বিরতিতে যাওয়ার আগে স্বস্তি ফিরল আর্জেন্টিনা শিবিরে। এখন তা ধরে রাখাই তাদের আসল চ্যালেঞ্জ।

Top