জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে আসছেন কারা?

jobolegue-copy-Copy.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক:
সবকিছু ঠিকটাক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যুবলীগের বর্তমান জেলা কমিটির নেতারা ও কেন্দ্র থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই সংক্রান্ত সবুজ সংকেত এসেছে। তাই সম্মেলনকে ঘিরে জেলা যুবলীগের আগামীর কান্ডারিরা সরব হয়ে উঠেছে। যুবলীগের হাল ধরার প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং, জেলা পর্যায়ে নিয়ামক নেতাদের কাছে ধর্ণা ও সাধারণ নেতাকর্মীদের তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এই সব পদ প্রত্যাশীরা। তবে দৌড়ে বেশ কয়েকজন থাকলেও এগিয়ে আছেন শীর্ষ কয়েকজন। এই নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির আমেজ কাটতে না কাটতেই যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে নতুন আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্র মতে, জেলা যুবলীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০০৫ সালে। সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হলেও আজ পর্যন্ত মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও রামু উপজেলার সম্মেলন হয়নি। এর মধ্যে যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পেয়েছেন। এতে দলের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ায় সম্মেলনের তাগিদ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারণী মহল। সে ধারায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

সূত্র মতে, সম্মেলনের আভাস পাওয়ার পর থেকে যুবলীগের আগামী কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়। বিশেষ করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘিরেই সব উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই তালিকায় রয়েছে যুবলীগের বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজনসহ সাবেক কয়েক জন ছাত্রনেতা। তারা সবাই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে পদে লড়ার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শহিদুল হক সোহেল, সোহেল আহমদ বাহাদুর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদ মো. শহিদুল্লাহ’র। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমদ, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক শোয়েব ইফতেখার, ডালিম বড়ুয়া, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক পৌর ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ছোট ভাই সাবেক ছাত্রনেতা মাসুকুর রহমান বাবু ও কুতুব উদ্দীন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদের মধ্যে পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন সভাপতি পদে শহিদুল হক সোহেল। সোহেল আহমদ বাহাদুর। সাধারণ সম্পাদক পদে আশরাফ উদ্দিন আহমদ, শোয়েব ইফতেখার এবং বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক পৌর ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ছোট ভাই সাবেক ছাত্রনেতা মাসুকুর রহমান বাবু। এরা প্রকাশ্যে পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে কেন্দ্র, জেলা ও তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। সেই সাথে তারা জেলার শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত লবিং চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে সাক্ষাতও করেছেন। এছাড়া প্রতিযোগিতার বৈতরণী পার হতে পরাশর্ম নিচ্ছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকেও।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এরাই যুবলীগের হাল ধরার যোগ্য। কেননা তারা দুঃসময়সহ দলের যেকোন প্রয়োজনে সব সময় রাজপথে রয়েছেন। তারাই দলের হাল ধরলে কক্সবাজার জেলা যুবলীগের নিস্ক্রিয়তা কেটে যাবে।

বিশ্লেষণ দেখা গেছে, শহিদুল হক সোহেল যুবলীগের গত সম্মেলনেও সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তার বাবা প্রয়াত এ.কে.এম মোজাম্মেল হক ছিলেন এক প্রকার কক্সবাজার আওয়ামীলীগের জন্মদাতা। ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

সোহেল আহমদ বাহাদুর দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের সাথে জড়িত। তার পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। এ সুবাদে যুবলীগে তার একটি ইমেজ রয়েছে। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল কাউন্সিলরা ভোট দিলে তিনি জয়ী হওয়ার আশা করেন।

আশরাফ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনকে পূর্ণতা দিতে যুবলীগের হাল ধরতে রাজি।

শোয়েব ইফতেখার বর্তমানে পৌর যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। দলে যেমন তার সুনাম রয়েছে তেমনি গ্রহণ যোগ্যতাও কম নেই। তাই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে এবার জেলা যুবলীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন।

সাবেক ছাত্রনেতা কক্সবাজার শহর যুবলীগের দু’বারের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুর রহমান বাবু দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে তার যথেষ্ট নামডাক রয়েছে। এছাড়া বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর ছোট ভাই হিসাবে তার বড় ধরণের ইমেজ তৈরি হয়েছে। ক্লিন ইমেজ, মিষ্টভাষী, ভদ্র নেতা হিসাবে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের নেতা হিসাবে তার পদে সম্ভাবনা খুব বেশি।

কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আমি জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রহমান মাবু সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এসেছে। তারপরও আমরা যুবলীগের কমিটিতে আছি। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে। জেলা সম্মেলনের আগেই কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও রামু উপজেলায় সম্মেলন অথবা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হবে।

তিনি বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থীর নামও শোনা যাচ্ছে। যে যার মতো করে লবিংও চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্র সৎ, কর্মীবান্ধব ও নেতৃত্বের অধিকারীকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Top