জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে জোর লবিং-তদবির

jobolique.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সম্মেলন ও কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের মাঝে সম্মেলন নিয়ে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রার্থীদের নামের তালিকা। কমিটিতে আসতে যে যার মতো দেন দরবার চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক অনেক ছাত্রলীগ নেতাও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাদের পাশাপাশি বর্তমান কমিটিতে থাকা বেশ কয়েকজনের নামও ওঠে আসছে। সব মিলিয়ে জেলা যুবলীগের নেতৃত্বে যোগ্য ও কর্মী বান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন সকলেই।
সুত্র জানিয়েছে, যুবলীগের জেলা কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শহিদুল হক সোহেল, সোহেল আহমদ বাহাদুর, যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন পৌর যুবলীগের আহবায়ক শোয়েব ইফতেখার, জেলা যুবলীগের সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন পুতু, শহর যুবলীগ নেতা ডালিম বড়–য়া ও মাসুকুর রহমান বাবু।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, যদি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাউন্সিলর তালিকা প্রেরণ পূর্বক সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করতে না পারে তাহলে কেন্দ্র থেকে আহবায়ক কমিটি দেয়া হবে। নেতাকর্মীদের দাবী, অতীতের ন্যায় কক্সবাজার জেলা যুবলীগকে একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলার জন্য এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটে নেতা নির্বাচনের জন্য জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আন্তরিক ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।
এদিকে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে অলোচনায় রয়েছেন ইফতেখার উদ্দিন পুতু। তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি জেলা যুবলীগের সদস্য পদে রয়েছেন।
তিনি শহরের রুমালিয়ারছরা এলাকার প্রবীন আওয়ামীলীগার প্রয়াত শামসু মিয়ার বড় ছেলে। দলের ভেতরে বাইরে পুতুর সুনাম রয়েছে। রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি তার সামাজিক সুখ্যাতিও রয়েছে।
এদিকে অন্যান্য প্রার্থীদের ন্যায় সিলেকশনের পাশাপাশি ইলেকশনের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পুতু জেলা যুবলীগ, শহর যুবলীগসহ উপজেলার প্রত্যেক কমিটির নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। জেলা যুবলীগের দুই জনপ্রিয় মুখ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ায় যুবলীগের আগামী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন অন্যান্য প্রার্থীরাও। তবে নেতাকর্মীদের দাবী, অতীতের সম্মেলনের ন্যায় কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচিত হলে জেলা যুবলীগে যোগ্য নেতৃত্ব ওঠে আসবে।
জানা যায়, ২০০৫ সালে জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে নানা প্রতিকূলতার কারনে উক্ত কমিটি অনুমোদন লাভ করে ২০০৯ সালে। দীর্ঘ ১১ বছর জেলা যুবলীগের সম্মেলন না হওয়ার কারনে নেতাকর্মীদের মাঝে অনেকটা হতাশা বিরাজ করছে। পাশাপাশি সংগঠনের নানা কর্মসূচিতেও নেই চাঙ্গাভাব। বলতে গেলে ঝিমিয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নেতাকর্মীরা। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ডিসেম্বরে যুবলীগের সম্মেলন এমন সংবাদে বর্তমানে চাঙ্গা ভাব সৃষ্টি হয়েছে জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে পুতু বলেন, আমার প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে ছিলনা। আমি বঙ্গবন্ধুর আর্দশে নিজেকে গড়ে তুলেছি। দুঃসময়ে সর্বদায় দলের পাশে ও নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।
তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের অনুরোধে ও দাবীর পরিপেক্ষিতে এবং অতীতের ন্যায় জেলা যুবলীগকে একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন হিসেবে কক্সবাজারে টিকিয়ে রাখার জন্য এবারের সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি।
সম্মেলনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের করে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন।
দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী বলেন, যারা দলের দুঃসময়ে ছিল এবং দলকে বিক্রি করে নিজেদের পাঁয়দা লুঠেনি সে রকম নেতা নেতৃত্বে আসা দরকার। আর সেক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদে আমারা পুতু ভাইয়ের বিকল্প দেখছিনা।
কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাবু বলেন, আমি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। তিনি নভেম্বরের মধ্যে কাউন্সিলর তালিকা জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর ডিসেম্বরে জেলা যুবলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল হবে বলে জানিয়েছেন।
জেলা যুবলীগের সভাপতি খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, সম্মেলন করার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে বার বার বলা হচ্ছে। কিন্তু মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও রামু উপজেলার সম্মেলন না হওয়ার কারনে এবং এই তিনটি সাংগঠনিক কমিটির বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না পাওয়ায় সিদ্ধান্তে আসতে পারছিনা। তবে সম্মেলনের প্রস্ততি চলছে।

Top