জেলা পরিষদ নির্বাচন: ফ্যাক্টর সালাহউদ্দিন মাহমুদ!

jila_1.jpg

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:
কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড শুক্রবার রাতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের তৃনমুল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের দপ্তরের নেতাকর্মীরা মোস্তাক চৌধুরীকে একজন সৎ ও আর্দশবান রাজনীতিবিদ বলে জানেন সকলে। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে পছন্দ করেন। এ কারনে দীর্ঘসময় প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করলেও অনুষ্টিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় আনুগত্য আর সততার কারনে সব কিছু বিবেচনা করে তাকে প্রার্থী করেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড।

অপরদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে পর্যটন শহর কক্সবাজারের অনেক ত্যাগী ও সিনিয়র নেতা আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলীয় সিদ্বান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর এখন তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। ফলে এ মুর্হুতে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাক চৌধুরীর বিপরীতে দলের অন্য কোন নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেনা তা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে।

তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার অনেক আগে থেকে অনুষ্টিতব্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন এমন গুঞ্জন উঠে মহাজোট সরকারের শরীকদল জাতীয় পাটির (জেপির) প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং মুজিব বাহিনীর কমান্ডার বরণ্য রাজনীতিবিদ এএইচএম সালাহ উদ্দিন মাহমুদের নাম। তিনি জেলা রিটানিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহও করেছেন। ফলে ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচনী সব ধরণের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে বলে এমন আভাষ পাওয়া যাচ্ছে তার ঘনিষ্ট মহল সুত্রে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকটাক থাকলে আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্টিতব্য কক্সবাজার জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। কক্সবাজার অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা সালাহ উদ্দিন মাহমুদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার এমন ঘোষনায় আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন ১৯৭০ সালে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মোস্তাক চৌধুরী। রাজনীতিতে প্রবীণ এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন বিষয়টি এখন জেলার রাজনীতি অঙ্গনে সরব আলোচনা চলছে। সাধারণ ভোটাররা (তৃনমুলের জনপ্রতিনিধি) মনে করেন, নির্বাচনে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তি ইমেজে দুই প্রার্থীই সমান যোগ্যতার অধিকারী। তৃনমুলে রয়েছে দুইজনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার শেষ দিকে দেশের অন্যসব জেলার সাথে কক্সবাজার জেলা পরিষদে প্রশাসক পদে নিযুক্ত হন নির্লোভ রাজনীতিবিদ ও কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির সন্তান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। সেই থেকে চলতি ২০১৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তাক চৌধুরী। রাজনীতিতে যেমন সজ্জন তেমনি ব্যক্তি ইমেজের ক্ষেত্রেও অসম্ভব পরোপকারী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী দায়িত্ব পালনকালীন পাঁচবছর সময়ে জেলা পরিষদকে একটি কার্যকর প্রতিষ্টান হিসেবে জনগনের কাছে নিয়ে গেছেন। সরকারি বরাদ্দের আওতায় তিনি জেলার আটটি উপজেলার সম্ভব সব ধরণের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্টান ও সামাজিক সকল প্রতিষ্টানের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আওয়ামীলীগের সকল ধরণের কর্মসুচীতে ছিলেন সরব। ধর্মীয় আচার অনুষ্টান থেকে শুরু করে সামাজিক সকল অনুষ্টানে সমবেত হতেন মোস্তাক চৌধুরী। ফলে জনগনের কাতারে একজন নিবেদিত নেতা হিসেবে তিনি মিশে যেতে সক্ষম হন। এ কারনেই দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব কিছু বিবেচনা করে তাকে এবার কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট অপর প্রার্থী কক্সবাজার অঞ্চলের সর্বজনের পরিচিত নেতা জাতীয় পাটির আমলে নির্বাচিত এমপি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। বর্তমানে তিনি জাতীয় পাটি (জেপি-মঞ্জু)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ একজন বরণ্য রাজনীতিবিদ তেমনি সুবক্তাও বটে। এ কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর তাকে সরকারীভাবে স্কলারশীপ দিয়ে বুলগেরিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার (চকরিয়া-পেকুয়া) প্রথম নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। জন্ম চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ডেপুটি বাড়ির সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে। তিনি জন্ম গ্রহন করেন ১৯৫০সালের ২৫ শে নভেম্বর। তাহার পিতার নাম মরহুম এ.এম সুলতান মাহমুদ বি.এ, মাতার নাম মরহুমা আছিয়া বেগম, দাদার নাম মরহুম গোলাম কাদের এম.এ (ডবল) ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট, নানার নাম. মরহুম আলহাজ্ব ফররুখ আহমদ এম.এ বি.এল এডভোকেট।

তার শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়েছে গ্রামের বাড়ি বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ঘাটফরহাদবেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, সরকারি মুসলিম হাইস্কুল, কুমিল্লা মতলবগঞ্জ জেবি হাইস্কুল, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ, যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। ওইসময় কারাভোগও করেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কক্সবাজার মহকুমা মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে বুলগেরিয়া সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে সুফিয়া সোস্যাল সায়েন্স ও পাবলিক এডমিনিষ্ট্রেশন একাডেমী থেকে প্রশাসনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮৫ সালে চকরিয়া উপজেলার প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ, ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদায় কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রথম জেলা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।

জানা গেছে, সালাহউদ্দিন মাহমুদের আমলে অভুতপুর্ব উন্নয়ন ও প্রতিষ্টা হয়েছে চকরিয়া নতুন হাসপাতাল নির্মাণ, চকরিয়া কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ, বাটাখালী সেতু নির্মাণ, পেকুয়া কাটাফাড়ি সেতু নির্মাণ, বাগগুজরা সালাহ উদ্দিন ব্রীজসহ বরইতলী মগনামা সড়ক, বদরখালী সড়কের উন্নয়ন, চিংড়ি জমির সঠিক বরাদ্দের মাধ্যমে চাষের উন্নয়ন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের উন্নয়নসহ গ্রামীণ সড়ক, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ, বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তার আমলে জেলার আট উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে। যা এখনো কালের সাক্ষী হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে।

জনপ্রিয় এ রাজনীতিবিদ ৯০ সাল থেকে শহুরে জীবনের আরাম আয়েশ ত্যাগ করে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি বরইতলী ইউনিয়নে জনগনের সাথে কাটাচ্ছেন।

জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার পর থেকে জনগনের জন্য কাজ করেছি। কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার জনগনের সাথে আমার আত্মার সর্ম্পক তৈরী হয়েছে সেই থেকে। সেই অনুভতি থেকে আমি জীবনের শেষ বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছি। ইনশল্লাহ সম্মানিত ভোটারদের অকুন্ঠ সমর্থনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়ে মানবসেবা সমাজ সংস্কার করতে চাই পাশাপাশি উন্নয়নের মাইল ফলকের মাধ্যমে কক্সবাজার অঞ্চলকে ঢেলে সাজাতে চাই।

Top