জাতিসংঘ মিশন থেকে পুলিশের আয় ২৭ বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

un.jpeg

আমাদের অর্থনীতি :

জাতিসংঘ মিশনের ২১টি দেশে কাজ করে পুলিশবাহিনী ৩৫ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। গত ২৭ বছরে পুলিশবাহিনীর ১৬ হাজার ৭৯৫ সদস্য। বর্তমানে জাতিসংঘের হয়ে বিশ্বের ৮টি দেশে শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত আছে পুলিশের ১ হাজার ১৫৮ জন সদস্য। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর জাতিসংঘ মিশনে যাত্রা শুরু হয়। একাগ্রতা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও আন্তরিকতার সমন্বয়ে প্রথম বর্ষেই পুলিশ জাতিসংঘের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি। দিন যত পেরিয়েছে জাতিসংঘ ততই বাংলাদেশ পুলিশ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। প্রতিবছর লোকবল বেড়েছে। বেড়েছে কাজের পরিধি। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয়ও বেড়েছে।  ৮৯ সাল  থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে পুলিশবাহিনীর সদস্যরা ২১টি শান্তিরক্ষা মিশন থেকে আয় করেছে পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। এই আয়ে পুলিশবাহিনীর সদস্যদের ভবিষ্যৎ যেমন উজ্জ্বল হয়েছে তেমনি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গৌরবোজ্জ¦ল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের মিশনগুলো হচ্ছেÑ নামিবিয়া, কম্বোডিয়া, যুগোসøাভিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, হাইতি, অ্যাঙ্গোলা, পূর্ব সেøাভেনিয়া, বসনিয়া, পূর্ব তিমুর, কসোভো, সিয়েরালিওন, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, কঙ্গো, দারফুর, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মালি ও সোমালিয়া। বর্তমানে বিশ্বের ৮ মিশনে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর ১ হাজার ১৫৮ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মিশনগুলো হচ্ছেÑ হাইতি, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, কঙ্গো, দারফুর, দক্ষিণ সুদান ও মালি।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিদেশের মাটিতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর সদস্যরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। এতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম ও চাহিদা বেড়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়েছে। সূত্র জানায়, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহিলা সদস্যরাও জাতিসংঘ মিশনের শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

এ ব্যাপারে আইজিপি একেএম শহীদুল হক আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশবাহিনীর সদস্যরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বকে পবিত্র দায়িত্ব মনে করে। বিদেশের মাটিতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ইতোপূর্বে নাশকতার হাত থেকে জানমাল রক্ষা করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ নানা দুর্যোগে স্থানীয় মানুষের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে পুলিশ সদস্যরা প্রায়ই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। যা বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা জাতিসংঘ মিশন থেকে অর্থোপার্জনের পাশপাশি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে একধাপ তুলে দিয়েছে। ফলে বরাবরই নতুন কোনো মিশন সৃষ্টি হলে জাতিসংঘ প্রথম পছন্দেই বাংলাদেশ পুলিশকে চায়। আইজিপি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে ঢেলে সাজাচ্ছে। সরকারপ্রধান মনে করেন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গতি পাবে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় এ পুলিশবাহিনীর সদস্যরাই দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

আইজিপি বলেন, পুলিশ এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যরা এখন অন্য কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মিশনে পুলিশ বাংলাদেশের যে সুনাম অর্জন করেছে এটা ধরে রেখে অগ্রসর হলেই মিশন থেকে পুলিশের উপার্জন অনেকাংশে বাড়বে।

Top