জনতার উদ্দেশে যা বললেন এমপি বদি

Coc-MP-Bodi-Pic-2_1.jpg

ইমাম খাইর, সিবিএন:
লাখো মানুষের অপেক্ষা শেষে হাজারো গাড়ী আর পাঁচশতাধিক তোরণে রাজকীয় সম্মাননায় সংবর্ধিত হলেন এমপি আবদুর রহমান বদি।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দিন শেষে রাতেও মানুষের স্নেহ ভালবাসায় অভিসিক্ত হয়েছেন তিনি।
কারামুক্ত হয়ে ফেরার পথে উখিয়া-টেকনাফের ডজনখানেক পথসভায় এমপি বদি বক্তব্য দেন।
এ সময় আবদুর রহমান বদি বলেন, গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে উখিয়া-টেকনাফের গায়ে ইয়াবা-মানবপাচারের কালিমা লেগেছে। এসব হারাম ব্যবসার একটি টাকাও এমপি বদি ও তার পরিবারের কারো রক্তে মিশেনি। অথচ বদনামটি বদির উপরই বার বার পড়েছে। এটি আর চলতে দেয়া যায় না।
বদি বলেন, ইয়াবা ও মানবপাচারকারিদের তালিকা দিন। এরাই আমার জন্য অভিশাপ। সবার সহযোগিতায় তাদের ঘরছাড়া করা হবে। এখান থেকেই শেখ হাসিনার দিন বদলের ঘোষণার বাস্তবায়ন শুরু হবে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
এমপি বদি বলেন, আমার হাত ধরে অন্তত ১৫০০ লোককে চাকরী হয়েছে। তাদের কারোর কাছ থেকে ১ পয়সা নিয়েছি প্রমাণ নেই।
দায়িত্ব পালনের বিগত আট বছরে কোন উন্নয়ন কাজ থেকেই একটি টাকাও নিয়েছি, এমন নজিরও কেউ দিতে পারবে না। দূর্নীতির প্রমাণ দিন, সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেব।
তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকাকাকে নিজের মতো করে সাজিয়েছি। গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষকে আপন করে নিয়েছি। তারা আমাকে বিশ্বাস করে। খেটে খাওয়া মানুষই আমার সম্মানের পাত্র। তাদের ভালবাসা-ঋণ গায়ের চামড়া এমনকি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও শোধ করতে পারবনা।
উখিয়া-টেকনাফের গণমানুষের ভোটে আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি। তাদের কাছে আমি অজীবন কৃতজ্ঞ।
এমপি বদি দুঃখ করে বলেন, কিছু মিডিয়া আমাকে ‘দূর্নীতিবাজ’ বানিয়েছে। ইয়াবা ও মানবপাচারকারী হিসেবে লিখেছে। আদালতে তা প্রমাণ হয়নি। আমি এসব অপকর্ম করে থাকলে মানুষ এভাবে আমাকে ভালবাসতনা। আমাকে বরণ করতে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতনা। বক্তব্য শুনতে পথে পথে মানুষের জমায়েত হতোনা। এটিই প্রকৃত জনপ্রিয়তা ও ভালবাসার প্রমাণ।
আল্লাহকে ‘হাজির নাজির’ জেনে আবদুর রহমান বদি বলেন, আমি জীবনেও টেন্ডারবাজি করিনি। ভূমিদস্যুতা করিনি। চাঁদাবাজি করিনি। দুর্নীতি-অনিয়ম করিনি। আমি জমিদার পরিবারের সন্তান। পিতার অঢেল সম্পদে বড় হয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দেখে-শুনে মনোনয়ন দিয়েছেন। দুর্নীতি করার জন্য নয়।
দুঃখভরে তিনি বলেন, আমি নিয়মিত সরকারী করদাতা। বৈধ বাণিজ্য করেই একাধিকবার সেরা করদাতার স্বীকৃতি পেয়েছি। এবারও সর্বোচ্চ কর দিয়েও মিথ্যা অভিযোগের মামলায় সাজার কারণে স্বীকৃতি হাতছাড়া হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এমপি বদি বলেন, প্রতি বছর সরকারকে কোটি টাকা রাজস্ব দিই। আমাদের টাকায় আপনাদের বেতন। আপনারা যে দুর্নীতি করেন না, তা নয়। সামান্য টাকায় চাকরী করে আপনারাও তো অনেকে অঢেল সম্পদের মালিক। আপনাদের সম্পদের হিসেব আগে দিন।
সম্পদের হিসেব দেওয়ার জন্য যারা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন, তাদের সম্পদের হিসাবে আগে নিন।
আমাকে কারাগারে ঢুকিয়েছেন- ভাল কথা। দূর্নীতি কী বন্ধ হয়েছে?
আল্লাহর হুকুমে আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। দূর্নীতি করলে মানুষের এত ভালবাসা পেতামনা।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে বলেই আমি আদালতে গিয়েছি। আদালতে আমি নির্দূষ হয়েছি। অল্প সময় কারাগারে থাকতে হলেও আমি আবারো জনগণের কাতারে চলে এসেছি। জনগণই আমার সম্বল, শেষ ভরসা।

আবদুর রহমান বদির সাথে পুত্র শাওন

আবদুর রহমান বদির সাথে পুত্র শাওন

আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাতসহ সবদলের চেয়ারম্যানরা আমার মুক্তি আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে। সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছে। তাদের কাছে আমি চিরঋণি।
কোন সরকারই সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়াতে সাহস করেনি। শেখ হাসিনা সরকার সবার বেতন বাড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছে। ঘরে ঘরে চাকরী দিচ্ছে।
দুই উপজেলার সংবর্ধনা সভায় এমপি আবদুর রহমান বদি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে।
আপনাদের সমর্থন পেলে ২০১৯ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পারি।
‘আপনারা কী আমাকে চান?’ প্রশ্ন করলে সভায় উপস্থিত সকলে হাত তুলে সম্মতি জানান।
সভায় তিনি রাস্তাঘাট, দরিদ্র পরিবারের বিবাহ, বেকারদের কর্মসংস্থান, পড়ালেখা সকল বিষয়ে অভাব গ্রস্থদের আবেদনসহ যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানান।
সভায় এমপি আবদুর রহমান বদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর জন্য জনগণের কাছে দোয়া কামনা করেন।
জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের দায়ে ২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত সাংসদ বদিকে তিন বছরের সাজা দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ২০ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বেলা ১টার দিকে কারামুক্ত এমপি বদি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুুুজিবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়ছারুল হক জুয়েল, যুবমহিলা লীগের সভানেত্রী আয়েশা সিরাজ উপস্থিত ছিলেন।
সেখান থেকে শতাধিক গাড়ির বহরে তাকে নিয়ে সমর্তকরা উখিয়া-টেকনাফের পথে রওয়ানা হন। পথে মরিচ্যা, কোর্টবাজার, উখিয়া স্টেশন, উখিয়া কলেজ গেইট, কুতুপালং, বালুখালী স্টেশন, বালুখালী চেকপোস্ট, বালুখালী পানবাজার, থাইনখালী স্টেশন, গয়ালমারা স্টেশন, উলুবনিয়া রওজাতুন্নবী দাখিল মাদরাসা, কানজপাড়াসহ ডজনখানেক পথ সভায় বক্তব্য রাখেন এমপি বদি।
বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসমুদ্রে পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর, ছাত্রলীগ নেতা সরওয়ার আলম, আওয়ামীলীগ নেতা আলম চৌধুরীসহ আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন আঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

Top