চেইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের অন্তহীন দুর্নীতি

Durnit-1i_1.jpg

সংবাদদাতা:
ককসবাজারের রামুর মিঠা ছড়ির চেইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভূতের আছর ভর করেছে। সকল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক ধরা কে সরা জ্ঞান করে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে ধুলো দিয়ে দেদারছে নানা দূর্নীতি অনিয়ম করে যাচ্চে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দপ্তরি নিয়োগে ১ লাখ টাকা ঘুস আদায় , বিদ্যালয়ের নানা বরাদ্ধের ২ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ , অনিয়মের মাধ্যমে এসএমসির কমিটি গঠন, উক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারি জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা করা সহ অন্তহীন অভিযোগ পাওয়া গেছে।দপ্তরি নিয়োগে ঘুস আদায় নিয়ে উক্ত প্রধান শিক্ষক নুর আহমেদ কুতুবির বিরুদ্ধে ককসবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

মামলার এজাহার , চেইন্দার বিভিন্ন অভিভাবক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, কুকুবদিয়ার লেমশী খালীর মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র নুর আহমদ কুতুবি ২০০৭ সালের ১ জুলাই রামু চেইন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের ২বছর শান্তিপূর্নভাবে স্কুল র্কাযক্রম চালালেও কৌশলে গোপনে নানা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন ।

দূর্নীতির বিষয়টি জানাজানি হয় ২০১৩ সালে। সে বছর প্রধান শিক্ষক নুর আহমদ কুতুবি বিভিন্ন প্রক্ল্প থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করলে তৎকালিন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোক্তার আহমেদ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করেন। আত্মসাৎকৃত টাকার মধ্যে স্লিপের টাকা, সকুলের গাছের ডাব বিক্রির টাকা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বর্ধিত ফি আদায়, বিদ্যুৎ বিল, কন্টিজেন্সি ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছবি উত্তোলনের নাম করে টাকা আদায়।

এছাড়াও পিএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাড়পত্রের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ ও রয়েছে। গত কয়েক বছর যবৎ এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসলে ও দেখার কেউ নেই।

অপরদিকে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত দূর্নীতির অভিযোগটি উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগে। গত ২০১৩ সালের ২০ মে স্থানীয় কাইম্যারঘোনার আবদুল মাবুদের পুত্র মোরশেদ আলমের কাছ থেকে দপ্তরি নিয়োগের কথা দিয়ে ১ লাখ টাকায় চুক্তির ঘটনা। মোরমেদ আলম চুক্তিমত ১ লাখ টাকার মধ্যে সেদিন ৪০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষককে প্রদান করে । দরিদ্র পরিবারের সন্তান মোরমেদ অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় এ বছর অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াহয় বলে জানা গেছে অসহায় মোরশেদ আালম উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ককসবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা (যার নং ২৩/১৬ )দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে উক্ত প্রধান শিক্ষক দূর্নীতিকে পাকাপোক্ত করতে নিজের লোক দিয়ে সমস্ত নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে এসএমসির কমিটি গঠন করার অভিযোগ ও রয়েছে। কমিটি অনুমোদনের জন্য উক্ত প্রধান শিক্ষক ২০১৫ সালে রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কতিপয় উশৃংখল লোক পাঠিয়ে ন্যাক্ষারজনক ঘটনার জন্ম দেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তৎকালিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকার্তা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ তার বিরুদ্দে প্রশাসনিক বদলিও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেন । কিন্তু অদ্যাবধি উক্ত দূনীর্তিবাজ প্রধান শিক্ষক বহাল তবিয়তে রয়েছেন অজ্ঞাত শক্তির জোরে ।

প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম ও দপ্তরির করা মামলার বিষয়ে রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকার্ত া সালামত উল্লাহ জানান, উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্দে আগের ডিপিইও স্যার নানা অনিয়মের বিষয়ে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করেছিলেন তা কি অবস্থায় জানবেন ডিডি। তবে দপ্তরির সাথে তার বনিবনা হচ্ছেনা এ বিষয়ে আমি উভয়কে মিলিয়ে ও দিয়েছিলাম । এখন কি পর্যায়ে আছে তা আমার জানা নেই। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদ›ত র্পূবক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Top