চুয়াইঙ্গা ইজম , ভুয়াইঙ্গা ইজম

fayej-ullah-fayej.jpg

ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ

ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ :

আর মাত্র ক’দিন বাদেই ৫০ বৎসর অতিক্রম করতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ইতিহাস।
২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হই তখনি জানতে পারি এখানে দু’টি ইজম বিদ্যমান।ইজম দু’টি হল চুয়াইঙ্গা ইজম ও ভুয়াইঙ্গা ইজম।
ইজম নিয়ে অনেকগুলো সংঘর্ষের ঘটনাও আমি প্রত্যক্ষ করেছি।
ইজম নামক এ শব্দটির বেশি প্রচলন ছিল ছাত্র শিবিরে কিন্তু ছাত্রলীগে ইজম শব্দটির অত বেশি প্রচলন ছিল না।
চুয়াইঙ্গা ইজমের ধারক ও বাহক ছিল কক্সবাজারের অবুঝ ছাত্ররা আর ভুয়াইঙ্গা ইজমের ধারক ও বাহক ছিল অাউট অব চিটাগং এর সুচতুর ছাত্ররা।

দু:খের বিষয় যে,কক্সবাজারের কয়েকজন ছাত্র একসাথে চলাফেরা করলে তাকে বলা হত ইজম আর অাউট অব চিটাগং এর কয়েকজন ছাত্র একসাথে চলাফেরা করলে তাকে বলা হত ভাতৃত্ববোধ।যারা ইজম এবং ভাতৃত্ববোধ এ শব্দ দু’টি ব্যবহার করত মুলত তারাই ছিল ইজমের মূল প্রবক্তা এবং প্রকৃত ইজমবাজ।এরাই ইজম আর ভাতৃত্ববোধের কথা বলে সাধারণ ছাত্রদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করত।আমি এসব সুবিধাপন্থীদের ধিক্কার জানাই।
ইজম জিনিসটাকে যারা উচকানি দিত তাদের মনে রাখা উচিত ছিল যে,ভাষা ও সংস্কৃতিগত অভিন্নতার কারণেই কক্সবাজারের ছেলেরা মিলেমিশে থাকত।

এ কথা বললে হয়ত অনেকেই কষ্ট পাবেন তবুও না বলে পারলাম না….
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেই কক্সবাজারের ছেলেরা চ.বি ক্যাম্পাসকে নিজস্ব সম্পত্তি বলে মনে করে আর এতেই সৃষ্টি হয় নানান সমস্যা।
২০০৫ সালে কক্সবাজারের ছেলেদের প্রতিপত্তি রোধে বিভিন্ন জেলার ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত হয় সুনামি ও খেলসা গ্রুপ।
কক্সবাজারের ছেলেদের সাথে এ গ্রুপ দু’টির অনেক ঝামেলাও হয়েছে।
coxsbazar-forum-of-cuসেসময় কক্সবাজারের সিনিয়র ভাই যারা জেলা ফোরামের হাল ধরেছিলেন তাদের রাজনৈতিক ভীতি,অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে অতি গোপনে কতিপয় সাহসী জুনিয়র ভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয় কক্সবাজারের ছেলেদের একটি শক্তিশালী গ্রুপ।
এ গ্রুপটিই পরবর্তীতে হয়ে উঠে ভঙ্গুর কক্সবাজার জেলা ছাত্র ফোরামের মূল চাবিকাঠি।
ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে শক্তিশালী এ জুনিয়র গ্রুপের হাত ধরেই সূচিত হয়েছিল কক্সবাজার জেলার ছেলেদের অাধিপত্য প্রতিষ্ঠার সোনালি যুগ।ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে মিছিল মিটিং ও সমাবেশের উপর জারি করা হয়েছিল ১৪৪ ধারা।কিন্তু এ গ্রুপটি পুলিশি নির্যাতন,প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে মিছিল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পুরা বিশ্ববিদ্যালয়বাসীকে।

কিন্তু দুর্ভাগ্য, ২০০৮ সালের শেষ দিকে মস্তিষ্ক বিকৃত কিছু ছাত্রের কারণে চ.বি. ক্যাম্পাসে কক্সবাজারের ছেলেদের আরও একটি গ্রুপের আবির্ভাব ঘটে।কক্সবাজারের ছেলেদের এ গ্রুপ দুটি বিভিন্ন সময় সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েছিল।
জনবল বেশি হলেও শক্তির অভাবে অল্প সময়েই পতন ঘটে ২০০৮ সালে গড়ে উঠা গ্রুপটির।

২০১০ সালে এসে কক্সবাজারের সোনার ছেলেদের শিক্ষা পাঠ শেষ হওয়ার পরপর পরিসমাপ্তি ঘটে তাদের সোনালি অধ্যায়ের।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক ছাত্র কক্সবাজারের সংসদ সদস্য,উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউপি চেয়ারম্যান কিংবা বড় বড় রাজনৈতিক সংগঠন গুলোর বড়মাপের নেতা হয়েছিলেন বা হয়েছেন সত্য কিন্তু তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে সাহস করতেন না এবং তাদের দ্বারা কক্সবাজারের সাধারণ ছাত্ররা উপকৃত হত না বললেই চলে।তাই এদের আমি সাহসী সন্তানের পরিচয় দিতে পারিনা,তারা সাহস ও শৌর্যবীর্য প্রদর্শন করতেন মূলত সরকারি দলের সুযোগ-সুবিধা ও পুলিশি নিরাপত্তার পরিগন্ডিতে।
কিন্তু আমি তাদেরকেই প্রকৃত সাহসী সন্তান বলব যারা পুলিশি হামলা-মামলা-নির্যাতন এবং বড় বড় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর হুমকি ধমকি তোয়াক্কা না করে চ.বি. ক্যাম্পাসে সুচনা করেছিল সোনালি ইতিহাস।
আমি সেই সব ভাইয়ের কথা স্মরণ করছি যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ার বাইরে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কক্সবাজারের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বলিষ্ঠ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
এক্ষেত্রে প্রথমেই বলতে হবে রামুর শাহনেওয়াজ ভাই ও মিজানুর রহমান ভাই,মহেশখালীর ভাগিনা করিম,চকরিয়ার সরো মৌ ও বিসিএস কবির,পেকুয়ার ওয়াজেদ হুজুর,কক্সবাজার সদরের সাজ্জাদ খান এবং উখিয়ার তুফা চৌধুরি ও ছুরত আলম আকাশের কথা।
আমি এসব পরাক্রমশালী বীর ভাইয়ের দীর্ঘায়ু ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ,
সাবেক উপদেষ্টা,
কক্সবাজার জেলা ছাত্র ফোরাম,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

(লেখাটির মতামত একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত )

Top