চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনের নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া

ctg.jpg

স্বামীর অগোচরে দীর্ঘদিন ধরে আলাউদ্দিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে জেসমিন আক্তারের। ঘরে যখন কেউ থাকতো না তখন সে প্রেমিককে ডেকে নিয়ে আসতো নিজ বাড়িতে। কখনো আবার নিজেই চলে যেত পার্শ্ববর্তী আলাউদ্দিনের বাড়িতে।

এভাবে একদিন, দুইদিন যাওয়ার পর স্বামী খোকন যখন জানতে পারেন ঘটনাটি তখন এই নিয়ে জেসমিনের সঙ্গে তার প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বাধা দেয়া শুরু করলে জেসমিন ও তার প্রেমিক আলাউদ্দিন ঘরে ঢুকে খোকনকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে।

তবে ঘটনার সময় আশপাশের প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে সন্দেহ করে। তারা তখন দৌড়ে এসে আলাউদ্দিনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। একই সঙ্গে স্ত্রী জেসমিনকেও আটক করা হয়। চট্টগ্রামে জনৈক আবদুল বাতেন খোকন নামের এক ইলেক্ট্রনিক ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে পাওয়া গেছে স্ত্রীর পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত দেড়টায় নগরীর হালিশহর থানার মধ্য রামপুর কেতুরা মসজিদ বাইলেইনে খোকনের ভাড়া বাসায় ঘটে এই খুনের ঘটনা। তার স্ত্রী জেসমিন ও প্রেমিক আলাউদ্দিন পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। দুইজনকে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নিহত ব্যবসায়ী খোকনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকায়। তার পিতার নাম আবদুল মতিন। খোকন পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান ও ব্যবসায়ী। গত দেড় বছর ধরে একই কলোনির বাসিন্দা আলাউদ্দিনের সঙ্গে জেসমিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে বাতেনের সঙ্গে জেসমিনের ঝগড়া হয়। এতে জেসমিন ও আলাউদ্দিন দুজনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুজন মিলে বাতেনকে খুন করার পরিকল্পনা করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে খোকন ঘুমিয়ে থাকলে রাত সাড়ে বারোটায় ওই বাসায় ঢুকে আলাউদ্দিন। মূলত জেসমিনই আলাউদ্দিনকে বাসায় নিয়ে যায়। এরপর দুজন মিলে বাতেনের হাত ও পা বাঁধে। তারপর খোকনের অণ্ডকোষ চেপে ধরে। এই সময় দুজন ব্যর্থ হয়ে বালিশ ও কম্বল দিয়ে চেপে ধরে খোকনের মুখ। চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশিরা জেগে যায়।

বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পুলিশে খবর দেয়। রাত সোয়া দুইটায় পুলিশ গিয়ে জেসমিন ও আলাউদ্দিনকে আটক করে। একজন প্রতিবেশি জানান, ঘটনার পরপরই বাঁচতে আলাউদ্দিন ফ্রিজের পেছনে লুকিয়ে থাকে। পরে তাকে আটক করা হয়।

হালিশহর থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, জেসমিন ও তার প্রেমিক মিলে খোকনকে হত্যা করেছে শ্বাসরোধের মাধ্যমে। তারা স্বীকারও করেছে। আদালতে চালান করে দেয়ার পর দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রতিবেশিরা জানান, প্রায় সময় দুইজনের সংসারে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। জেসমিনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। এর আগেও তার বিয়ে হয়েছিল। সেখানে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এরপর নিহত ব্যবসায়ী খোকনকেও সে পালিয়ে বিয়ে করে আট বছর আগে। এখানেও দুটি ছেলে আছে। খোকন যখন বাসার বাইরে থাকতো তখনই সে কৌশলে আলাউদ্দিনকে ঘরে ডেকে নিয়ে আসতো। http://ctgtimes.com

Top