চকরিয়ায় সমবায়ের নামে সরকারী জমি দখল ও আদালতের আদেশ জালিয়াতি!

jaliat_1.jpg

আতিকুর রহমান মানিক, কক্সবাজার :

ফেঁসে যাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার রামপুর কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সদস্যরা। সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড দিয়ে সরকারী জমি দখল, সরকারের বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং হাইকোর্টের নামে ভূয়া ও জাল আদেশপত্র সৃজন করার অপরাধে ফেঁসে যাচ্ছেন তারা। উপরোক্ত জালিয়াতির অপরাধে এদের বিরূদ্ধে অভিযোগ অামলে নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন। পাশাপাশি সরকার বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনার অপরাধে উপরোক্ত সমিতির নিবন্ধন বাতিল করে সদস্যদের অাইনের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
কক্সবাজার মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে প্রকাশ, বাগদা চিংড়ি চাষে উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারন ও প্রান্তিক চাষীদের উদ্ধুদ্ধকরনের লক্ষ্যে চকরিয়া উপজেলার সাহার বিল ইউনিয়নের রামপুর মৌজার অারএস ১০৮৪ নং দাগে অবস্হিত বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মালিকানাধীন ৪৮ একর জমিতে ১৯৮৬ সালে প্রদর্শনী চিংড়ি খামার স্হাপন করা হয়। মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রনালয় এবং  চিংড়ি চাষ প্রকল্প (এডিবি)’র ব্যবস্হাপনায় ইতিপূর্বে খামারটি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্ত স্হানীয় একদল সন্ত্রাসীর লুলোপ দৃষ্টি পড়ে মূল্যবান এই সরকারী খামার ও জমির উপর। রামপুর কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিঃ, বদরখালী, চকরিয়া, কক্সবাজার (রেজিঃ নং -২৩৯৯) এর ব্যানারে তৎকালীন সভাপতি শামসুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল একদল সন্ত্রাসী সরকারী চিংড়ি খামারটি অবৈধভাবে দখল করে নেয়। এ নিয়ে মামলা করে মৎস্য অধিদপ্তর। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারী উক্ত জমি উদ্ধারের পদক্ষেপ নেয় জেলা প্রশাসন। অবৈধ দখলদাদের উচ্ছেদের জন্য বিগত ১৮/০৩/২০১৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের এক পত্রের মাধ্যমে চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিযুক্ত করা হলে উক্ত সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম এর আদালতে উচ্ছেদের বিরূদ্ধে আপীল মামলা (নং ৭২/২০১৪) দায়ের  করা হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গং কে এতে প্রতিপক্ষ করা হয়। এ মামলায় উক্ত সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে “উচ্ছেদ আপীল মামলা নং-  ৭২/২০১৪ এর উপর ৬ মাসের জন্য স্হগিতাদেশ প্রদান করা হয়েছে” মর্মে  সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের সিভিল রিভিশন নং ১২৯৬৮/২০১৪ এর একপ্রস্হ আদেশপত্র দাখিল করে। কিন্তু এ আদেশপত্রের   সত্যতা নিয়ে আদালতের সন্দেহ হলে তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। আদালতের অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে হাইকোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (বিচার ও প্রশাসন) মোঃ আজিজুল হক বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে ভূয়া বলে মতামত দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরূদ্ধে ব্যবস্হা নিতে পরামর্শ দেন। এরপর উচ্ছেদের বিরূদ্ধে দায়ের করা আপীল নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপরও এ রায়ের বিরূদ্ধে উক্ত সমবায় সমিতি হাইকোর্টে আপীল করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২ নভেম্বর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল করিমের নেতৃত্বে কক্সবাজার আঞ্চলিক মৎস্য কর্মকর্তা একেএম মোখলেছুর রহমান,  প্রকল্প ব্যবস্হাপক মিজানুর রহমান ও চকরিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমানসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিংড়ি প্রদর্শনী খামারের জায়গাটি অবৈধ দখলমুক্ত করে চারদিকে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেন। স্হানীয়রা জানান,  কক্সবাজার মৎস্য অধিদপ্তরীয় কর্মকর্তাদের আপোষহীন ভূমিকার কারনেই মূল্যবান সরকারী জমিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে সরকারী জমি দখল ও হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দূর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফি উল্যা অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। উপরোক্ত সমিতির সদস্যরা বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমিতোষ সেন জানান, অবৈধভাবে সরকারী জমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা, সরকারের বিরূদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ ইত্যাদি সরকার বিরোধী কর্মকান্ড এবং মাননীয় হাইকোর্টের নামে ভূঁয়া ও জাল আদেশপত্র সৃজনের কারনে “রামপুর সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতি”র নিবন্ধন বাতিল, সমিতির সকল কার্যকলাপ অবৈধ ঘোষনা এবং উক্ত সমিতির সদস্যদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করে জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে অফিসিয়াল চিঠি দেয়া হয়েছে। উপরোক্ত সমিতির সদস্যদের বিরূদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। ককোসবাজার জেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য চকরিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর উক্ত সমবায় সমিতির বিরূদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্হা নেয়া হবে।

Top