আ’লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক হলেন লোহাগাড়ার বিপ্লব বড়ুয়া

biplob.jpg

জাহেদুল ইসলাম, লোহাগাড়া
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বড়হাতিয়ার কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত করেন। ৫ নভেম্বর তাকে সদস্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে অাসীন করা হয়। যা লোহাগাড়ার ইতিহাসে এই প্রথম।

উপজেলার বড়হাতিয়া গ্রামেই ১৯৭৩ সনে ১ জানুয়ারী তার জন্ম। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনীল কান্তি বড়ুয়া পেশায় একজন আইনজীবী। ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মনোনীত হওয়ার খবর লোহাগাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে। মিষ্টি বিতরণ হয় চারদিকে। চায়ের দোকানে আলোচনার ঝড় উঠেছে লোহাগাড়ায়। যেন ঈদের আনন্দ।

লোহাগাড়ার সন্তান এই প্রথম ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে এসেছেন। তাই লোহাগাড়ায় জনসাধারণের মাঝে আনন্দ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মুখে শুধু শোনা যাচ্ছে একটি কথা বিপ্লব বড়ুয়া। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লোহাগাড়ার কৃতিসন্তান ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মিয়া মুহাম্মদ শাহজাহান বিন আজিজ বলেন, লোহাগাড়ার ছেলে কেন্দ্রিয় নেতৃত্বে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি আরো বলেন, লোহাগাড়ার সন্তান ২০০১ সালের নির্বাচনে এ্যাডভোকেট আ.ক.ম সিরাজুল ইসলাম মনোনয়ন পান। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপ-দপ্তর সম্পাদকে নির্বাচিত হন।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা: এলএলবি (সম্মান) উল্ভারহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাজ্য), বার ভোকেশনাল কোর্স (PGDL),সিটি ইউনিভার্সিটি (যুক্তরাজ্য), কল টু দ্যা বার “দ্যা অনারেবল সোসাইটি অব গ্রেস ইন” (যুক্তরাজ্য), এম.এ- গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দায়িত্ব পালন: সহ-সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটি। সদস্য, ঘোষণাপত্র উপ-পরিষদ (জাতীয় কাউন্সিল ২০১৬)। সদস্য, অভ্যর্থনা উপ-পরিষদ (জাতীয় কাউন্সিল ২০১৬)। কাউন্সিলর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ (জাতীয় কাউন্সিল ২০১৬)।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগে দায়িত্ব পালন: যুগ্ম আহবায়ক, সাতকানিয়া সরকারী কলেজ শাখা, ছাত্রলীগ। যুগ্ম আহবায়ক, সাতকানিয়া থানা ছাত্রলীগ, এডহক কমিটি। সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সদস্য, জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (ম-ই), ১৯৯২-১৯৯৪।

রাজনৈতিক কারণে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া: ১৯৮৮ সালের ১২ই এপ্রিল সাতকানিয়ায় জামাত-শিবিরের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত। ১৯৯৪ সালে যুদ্ধপরাধের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের হামলায় আহত। ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমির বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আগমণকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত। ২০০২ সালে ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করার অভিযোগে খালেদা জিয়ার জোট সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা বিভাগের প্রযোজক পদ থেকে বে-আইনীভাবে চাকুরীচ্যুত। মর্মান্তিক ২১ শে আগষ্ট বোমা হামলার পর লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিধানের জন্য তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কাছে পত্র প্রেরণ।

ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ১/১১ এর সময় ভূমিকা: ২০০৭ সালের ১/১১ এর পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবীতে বৃটিশ সরকার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন লাভের জন্যে বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ। বিশেষ করে তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কাছে ই-পিটিশন প্রদানে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন।

২০০৮ ও ২০১৪ সালে নির্বাচনে ভূমিকা: ২০০৮ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেন্টারে অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ সফরকারী বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ ও সহযোগিতা প্রদান।

অন্যান্য দলীয় কর্মকান্ড ও ভূমিকা: ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন সফর। ২০১১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে অনূর্ধ্ব ৪০ নেতাদের নিয়ে প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে চীন সফর। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এম.পি এর সাথে চীন সফর। ২০১৬ সালের জুন মাসে ঈজও এর প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চীন সফর। ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চীন সফর। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আমন্ত্রণে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দের বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে ভূমিকা পালন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI) এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (DI) এর সাথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন। যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পরে সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-বিএনপি কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিবরণী বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের দূতাবাসে উপস্থাপন এবং এই নিয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলসহ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা এবং তাইওয়ানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ। ব্যারিস্টার বিপ্লব ২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধ পল্লিতে হামলার পর রামুতে একটানা ১০ দিন অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পূনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ শান্তি সম্মেলন অয়োজনে অন্যতম সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করেন। ২০১১ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এ সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ব্যারিস্টার বিপ্লব ১৯৯৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের অবৈতনিক গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জুবায়ের এর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এর দায়িত্ব পালন করেন এবং নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হন।

বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সেবামূলক সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্টতা: নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। সদস্য সচিব, বাংলাদেশ বৌদ্ধ জাতীয় সুরক্ষা কমিটি। সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন। সভাপতি, ড. বুদ্ধপ্রিয় সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, জগনড়বাথ হল এলমনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্বাহী সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এলমনাই এসোসিয়েশন। ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাধীন বাংলাদেশে বাঙালী বৌদ্ধদের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র বৃটিশ কোয়ালিফাইড ব্যারিষ্টার। ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া ২০০৯ সাল থেকে একক উদ্যোগে নিয়মিতভাবে জাতীয় শোক দিবস এবং প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন।

Top