কুতুবদিয়ায় লবণ মাঠ দখল নিয়ে অস্ত্রের মহড়া, শ্রমিকলীগ নেতা আহত

KDA-Pic.jpg

কুতুবদিয়া সংবাদদাতা:
কুতুবদিয়ায় লবণ মাঠ দখল করতে দিনদুপুরে অস্ত্রের মহড়া দিলো দিলো সন্ত্রাসীরা। উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনী এলাকায় দেয়া হয় এই মহড়া। শনিবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১২ টা থেকে শুরু হওয়া ওই মহড়া চলে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।
এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন শ্রমিকলীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল। তিনি আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য সদস্য প্রার্থী। কুতুবদিয়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। শনিবার রাত দশটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল জড়িত থাকার সন্দেহে জসিম নামে এক যুবককে আটক করেছে। আটককৃত জসিম মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ঝাপুয়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই সন্ত্রাসীরা একজোট হয়ে প্রথমে বড়ঘোপ ইউপি কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১২ টার দিকে তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শণ করে আজম কলোনী এলাকায় পৌঁছে। এরপরই ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কয়েকঘণ্টা বিরাজ করে এই অবস্থা। তিন টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়লেও সন্ত্রাসীদের দমানো যায়নি। উল্টো সন্ত্রাসীরা জবাব হিসেবে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। সন্ধ্যার দিকে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে, এখনো এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুল এ ঘটনার জন্য কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়ী করে বলেন, আমার লিজ নেয়া জমি দখলে নিতেই কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, মিজানুর রহমান টিটু, শহীদ উদ্দিন ছোটন, আজমগীর মাতবর, তার ভাই রাসেল ও রুবেলের নেতৃত্বে আমার উপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরো বলেন, একজন অস্ত্রধারী তার হাতে থাকা রিভলবারের ট্রিগারে টিপ দিলেও গুলি বের না হওয়ায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।
ওই সময় ঘটনাস্থলে কুতুবদিয়া থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিবাকর রায় ও মো. শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে আহত মুকুল জানান, চলতি বছর তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র কাছ থেকে আজম কলোনী এলাকার কিছু জমি লিজ নেন। এরপর থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। হত্যার হুমকি দিতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে চলতি বছর হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) লিপিবদ্ধ করেন।
এ ছাড়া ঘটনার আগে নিজের আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কেও মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে, ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার ঘটনা অস্বীকার করে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বর বলেন, ঘটনায় আমি জড়িত ছিলাম না। বিগত ইউপি নির্বাচনে স্ষ্টৃ বিরোধের জের ধরে আমাকে জড়িত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
নিজেকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে বড়ঘোপ ইউনিয়নে। যেখানে আমার কোন পৈত্রিক জমি নেই। সুতরাং ঘটনায় আমার জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অংসা থোঁয়াই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়।
তবে, এ ঘটনায় জসিম নামে এক ব্যক্তিকে আজম কলোনী এলাকা থেকে আটক করার খবরও নিশ্চিত করেন ওসি।

Top