কাবিন বিহীন বাল্য বিয়ে!

balla.jpg

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আজাদ, ঈদগাঁও:
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে মেয়ের অব্যাহত অনৈতিক কার্যকলাপ ধামাচাপা দিতে কাবিন বিহীন বাল্য বিয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ প্রবাসী হচ্ছে ঈদগাঁও জালালাবাদ ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামের মোহাম্মদ নুরুল কবিরের ছেলে মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ মোছন। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ হোছনের ৯ম শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে সালমা সাদিয়া আফরোজা চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের খামার পাড়ার নুরুল আলমের ছেলে নুরু সুলতানের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে উক্ত সালমা প্রেমিক নুরু সুলতানকে স্বামী হিসাবে পেতে মাদ্রাসা যাওয়ার ছলে প্রেমিকের বাড়ীতে ৩ বার পালিয়ে যায়। প্রত্যেক বারই ৩ থেকে ৪ দিন প্রেমিকের সাথে অবস্থান করে বলে জানিয়েছে প্রেমিক। প্রাপ্ত বয়স্কা না হওয়ায় ছেলে পক্ষ মেয়ের এলাকার মেম্বার আবু তাহের, মেয়ের প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ছেলের এলাকার মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গির মধ্যস্থতায় প্রাপ্ত বয়স্ক হলে সালমাকে নুরু সুলতানের সাথে বিয়ে দেবে শর্তে প্রতিবারই লিখিত কাগজের মাধ্যমে প্রেমিকা সালমাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। সম্প্রতি প্রবাসী মোহাম্মদ হোছন দেশে ফিরে মেয়ের অব্যাহত কার্যকলাপ ধামাচাপা দিতে বিয়ের বয়স না হওয়ার পরও গোপনে পাশর্^বর্তী পোকখালী ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংদিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে আমির হোছনের সাথে মেয়েকে গোপনে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ ঘটনা জানতে পেরে প্রেমিকের পক্ষ বাল্য বিয়ের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে। নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি খোঁজ নিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ঈদগাঁও পুলিশের এএসআই ফিরোজ আহমদকে নির্দেশ দিলে তারা ঘটনাটি খোঁজ নেয় বলে জানা গেছে। এতে বেকায়দায় পড়ে যায় মোহাম্মদ হোছন। পরে মোটা অংকের টাকার প্রলোভনে ফেলে বর নুুরুল হককে বশে এনে কাবিন বিহীন উক্ত বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করে বলে অভিযোগকারী প্রেমিক পক্ষ ও স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে কাবিন বিহীন এ বাল্য বিয়ের বর-কনে ঈদগাঁও জাগির পাড়াস্থ এক কলোনীতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত পিতার সাথে কথা হলে তার মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কা এবং কয়েকবার এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে ঘর থেকে পালিয়ে যায় বলে স্বীকার করে। পরে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাল্য বিয়ের অভিযোগ তুললে সে বেকায়দায় পড়ে বলে স্বীকার করে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে কন্যার এলাকার ইউপি সদস্য আবু তাহের ও এএসআই ফিরোজের সাথে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিষয়টির খোঁজ নিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন। এদিকে প্রবাসী মোহাম্মদ হোছন কন্যার প্রেমিকের পক্ষের সাথে মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্কা হলে বিয়ে দেবে মর্মে মুছলেকা দিয়ে ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার পর গোপনে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রেমিক পক্ষের নুরুল ইসলাম বাঙ্গালী বাদী হয়ে এ বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে চিহ্নিত একটি দালালচক্র এ বাল্য বিয়ের ঘটনায় যাতে প্রশাসন কোন প্রকার বিঘœ না ঘটায় এ অভয় দিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

Top