কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে-মুসলিম লীগ

BML-Working-Committee-meeting_1.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

সকল রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষমতাসীনদের মতো প্রকাশ্যে রাজনীতি করার এবং নির্ভয়ে মত প্রকাশের সমান সুযোগ না দিয়ে সাংবিধানিক অধিকারকে সংকুচিত করা হচ্ছে। ফলে উদারতা, সহনশীলতা ও শিষ্টাচারের স্থলে ব্যক্তি শত্রুতা, প্রতিহিংসা, ঈর্ষা ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে। পরিশেষে প্রসার ঘটেছে উগ্রবাদের। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশটিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। অথচ জনগণের সামষ্টিক অভিপ্রায়কে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের আওতায় স্বাধীন বাংলাদেশ শাসিত হয়েছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫, ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বপ্নের বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চালু ছিল। ১৯৯১ সালের পর গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হলেও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সর্ব মহল স্বীকৃত ভোটার বিহীন ১০ম সংসদ নির্বাচনের পর দেশ পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত অন্ধকার বলয়ে প্রবেশ করেছে। জনগণের মতো মুসলিম লীগও মনে করে যে, দেশে এখন রাজনৈতিক আমাবস্যা বিরাজ করছে এবং আমাবস্যার অন্ধকারে দিকভ্রান্ত রাজনীতির আত্মঘাতী লড়াই চলছে। এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের নির্ভুল ও স্থায়ী পথ জনগণই সঠিক সময়ে খুঁজে নেবে বলে মুসলিম লীগ বিশ্বাস করে বলে পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় বক্তা গন অভিমত প্রকাশ করেন।

আজ সকাল ১০.০০টায় ফেনী সমিতি মিলনায়তনে দলের নির্বাহী সভাপতি আবদুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির জরুরী সভা দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়েরের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজা আহমেদ সুজা, প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুল ইসলাম, আবদুর রশিদ খান চৌধুরী, মোতালিব আখন্দ, কারামত ফরাজী, ওয়াজের আলী মোড়ল, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নবী চৌধুরী, এডভোকেট ফকির জসিমউদ্দীন, আফতাব হোসেন স্বপন ছাড়াও মুরতুজা আলী চৌধুরী, আকবর হোসেন পাঠান, এস.এইচ খান আসাদ, শেখ এ সবুর, আবু মোঃ বদরুদ্দোজা, এড: আবু সাঈদ চৌধুরী, এড: আবদুল মান্নান, হাবিবুর রহমান, ইঞ্জিঃ ওসমান গনী, আবুল কাশেম হাওলাদার, আবদুল খালেক, আবু বক্কর সিদ্দীক, ফারুক আহমেদ, কাজী নাজমুল, কাজী লুৎফর, খাইরুল আলম, মিঞা মোঃ আল আমিন, মশিউর রহমান কায়েশ, মতিউর রহমান পাঠান, আনোয়ার উদ্দীন বোরহানাবাদী, মাওলানা মুহাম্মদ জহুরুল আনোয়ার, হাসমতউল্লাহ শেখ, নুরুল হক, আব্দুর রহমান, আলেয়া আক্তার আলো, খোন্দকার জিল্লুর রহমান, কাজী এ.এ কাফী, ডাঃ হাজেরা, শহুদুল হক ভূঁইয়া, অধ্যাপক জাকির হোসেন, আক্তার হোসেন, আনসার খান, রিপন খান, মোঃ মোফাজ্জল, লিয়াকত আলী, শাহিনূর রহমান, আবদুল্লাহ হাই, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, নানাবিধ কারণে রাজনীতির ব্যাপারে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের নির্লিপ্ততার সুযোগে আধিপত্য-বাদী অপশক্তি আমাদের মাতৃভূমির দিকে শকুনি দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। জনগণের প্রশ্নাতীত সম্পৃক্ততা থেকে গড়ে উঠা একতা ও ঈমানই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ হতে পারে। নেতৃবৃন্দ বাক্ষনবাড়ীয়ার নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৪৭ এ মুসলিম জাতিসত্তার ভিত্তিতে ভারত বিভক্তির পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ৩৫শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ২০১৬ সনে এসে ৮শতাংশে দাঁড়িয়েছে কেন তা নির্ণয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। মুসলিম বিদ্বেষী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর, ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র সহ বিশ্ব মুসলিমের উপর নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে গৃহীত প্রস্তাবে আশংকা করা হয়।

গত অর্ধ শতাব্দী ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম দের উপর মায়ানমার সরকারের হত্যা নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের জান মালের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গে সভায় বলা হয়, নৈতিক শিক্ষা ব্যতীত মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে না বিধায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Top