কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, চলছে প্রচারণা

All-Picture-Zela-Election-Pic-Coxsbazar.jpg

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার:
সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারে ও জেলা পরিষদের নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। জনপ্রতিনিধিদের ভোটেই নির্বাচিত হবে চেয়ারম্যানসহ ২১ জন। তার মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য। এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে দলের ধানমন্ডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন করার আহবান জানানো হয়েছে। এর পর কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শোনা যাচ্ছে সম্ভব্য প্রার্থীদের নাম। এতোমধ্যে কক্সবাজারে চেয়ারম্যান নির্বাচনে কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচেনে অংশ নেয়ার ঘোষনা দিয়েছে। আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারনা শূরু করে দিয়েছে। মনোনয়ন পেতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। নির্বাচনে জেপির এক প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে শোনা গেলেও গোপনে হিসাব কষে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচন করবে কিনা নিশ্চিত না হলে ও প্রস্তুত রয়েছে কয়েকজন। তারা দলের নির্দেশ পেলেই মাঠে নেমে যাবে। ভোটারের মধ্যে দু’ভাগ ভোটার রয়েছে বিএনপি জামায়াতের। চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে মনোনয়ন পেতে জোর লবিং শুরু করেছে অনেকে। জেপির এক প্রার্থী প্রকাশ্যে এক মাস আগে থেকে শুরু করেছে প্রচারনা। আর বিএনপির এক প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করলে ও দলের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। সম্ভব্য প্রার্থীরা নানা ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছেন ভোটারদের সাথে।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন অফিস ও আড্ডায় এখন আলোচনার প্রধান বিষয় জেলা পরিষদ নির্বাচন। কে প্রার্থী হচ্ছেন কোন দল থেকে তা নিয়ে ও চলছে আলোচনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তালিকায় রয়েছে বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক মোশতাক আহমদ চৌধুরী। যদিওবা তিনি বর্তমানে পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে। তফসিল ঘোষনার আগেই তিনি প্রশাসক পদত্যাগও করতে পারেন। যদি আইনী জটিলতায় মোশতাক আহমদ নির্বাচন করতে না পারে তাহলে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন তার সহধর্মণী কক্সবাজার জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা মোশতাক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সিআইপি,সাবেক জনপ্রিয় পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার,নব গঠিত জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনিন সরওয়ার কাবেরী,জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক লুৎফুরন নাহার বাপ্পী ও জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদ ডাঃ মাহবুবুর রহমান।

এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষনা করে প্রচারনা শুরু করেছেন জাতীয় পাটির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন মাহামুদ। ইতোমধ্যে তিনি প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া পেকুয়ার রাজনীতির মাঠে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ জনগন ও রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষন।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ কৌশলে ও জেপির নেতা প্রকাশ্যে তদবির, লবিং চালালেও বিএনপি এক প্রকার নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তবে বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ প্রচারনা শুরু না করলে ও ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের নির্দেশ ফেলেই তিনি মাঠে নামবেন। তবে নির্বাচনের জন্য তার সব রকমের প্রস্তুতি রয়েছে বলে ও জানান তিনি। কক্সবাজার জেলার ৪ পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা মিলে কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বমোট ভোটার হচ্ছে ৯৬৪ জন। তবে এর মধ্যে প্রায় ৭০০ জন ভোটার বিএনপি জামায়াতের বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে এখনো কেন্দ্র থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। যদি কেন্দ্র থেকে নির্বাচন বলে তখন দেখা যাবে।

কক্সবাজার পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, দলীয় সভানেত্রী যদি দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়নের সুযোগ দেয় তাহলে আমি পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবো। এছাড়া আমার আগ্রহও রয়েছে। দল যেটা চায় ওটা করতে হবে। দলের বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে এখনো আমরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। তবে দল থেকে আমাকে নির্বাচন করার নির্দেশ দিলে আমি করবো। তিনি বলেন,দলীয় সভানেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী সেভাবেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

এদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে দলের ধানমন্ডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবেদন করার আহবান জানানো হয়েছে। আগ্রহীদের ২ কপি পাসর্পোট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সহ জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়ার আহবান জানিয়েছেন দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

জানা গেছে, প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও সব কমিশনার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সব কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সব সদস্যের সমন্বয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমন্ডলী গঠিত হবে।’

তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তারা কোনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এ হিসেবে কক্সবাজারে স্থানীয় সরকারের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ৯৬৪ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ভোটার হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। জেলায় ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটিতে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় ৯২৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে। একইভাবে ৮টি উপজেলা পরিষদে ২৪ জন ও ৪টি পৌরসভায় ১৭ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশের ৬১ টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়া কথা রয়েছে।

Top