এস. আলম গ্রুপের জমির দখল-বেদখল নিয়ে পেকুয়া উত্তপ্ত

Pic-Pekua-16-11-16.jpg

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:
পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নে মগনামায় চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের ক্রয়কৃত বিপুল পরিমান জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এস আলম গ্রুপ বিগত কয়েক বছর পুর্বে মগনামার দক্ষিণ অংশে প্রায় ৮শ কানি জমি ক্রয় করেন। আর এসব জমি এস আলম গ্রুপ থেকে সন সন ইজারা নিয়ে দেখভাল করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপি নেতা। আর গত ৫দিন ধরে ওই জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে। এ সংঘাত ও সংঘর্ষ আরো ভয়াবহ রুপ ধারন হওয়ার শংকা তৈরি হয়েছে এলাকায়। আর এস আলম গ্রুপ থেকে ইজারা নেওয়া বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে এলাকাবাসীদের বিস্তর অভিযোগ। বিএনপি নেতাদের ইন্দনেই মগনামার পরিস্থিপি বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।প্রতিনিয়ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা অব্যাত রয়েছে। যে কোন মূহুর্তে এস আলমের জায়গা দখল-বেদখলকে কেন্দ্র ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ প্রাণহানির আশংকা করছেন স্থানীয়রা। গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিন মগনামা এলাকায় এস আলম গ্রুপের জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এর জের ধরে গত বুধবার দিন ব্যাপি একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে। এ সময় উভয়পক্ষের আহত হয়েছে অন্তত ১৩জন। ওই ঘটনার সুত্রধরে এ রির্পোট লেখা (শুক্রবার ৪.৩০মিনিট পর্যন্ত ) আরো দু’দিন থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০জনের কম বেশি আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তেজনা প্রশমিত করতে গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে পেকুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক জিয়া মো.মোস্তাফিজ ভুঁইয়া এবং স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে থানায় বৈঠক করেছেন। পরিস্থিতি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পক্ষদ্বয়কে জমিতে অনুপ্রবেশ না করতে বারন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ওসি ও জমির মালিক এস.আলম শিল্প গ্রুপের পক্ষে এস.আলম শিল্প গ্রুপের ডিরেক্টর মো.আদিল চৌধুরী, মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সদর ইউপির চেয়ারম্যান এম.বাহাদুর শাহ, এস.আলম গ্রুপের মগনামার কার্যকারক রিদুওয়ানুল হক সহ প্রতনিধিরা দক্ষিন মগনামা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে সাক্ষাত করেছেন তারা। এদিকে শুক্রবার তৃতীয় দফা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও সংঘর্ষ হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। বুধবারের সৃষ্ট ঘটনায় দক্ষিন মগনামার ৮টি গ্রামের লোকজন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে যান। এ সবের মধ্যে শুদ্ধখালীপাড়া, বেদেরবিলপাড়া, কাদেরবলির পাড়া, চান্দারপাড়া ও কোদাইল্যাদিয়ার মহল্লাবাসিরা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক রশিদ আহমদের পক্ষে মারামারিতে লিপ্ত হন।

অপরদিকে কালারপাড়া, মরিচ্যাদিয়া, সাতঘরপাড়া, বোডিংপাড়া ও আফজলিয়াপাড়ার লোকজন মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের পক্ষে সংঘাতে জড়ান। এতে করে এলাকায় এলাকায় বিভক্ত হয়েছে দক্ষিন মগনামা। এক গ্রামের লোকজন অন্য গ্রাম দিয়ে চলাফেরা বন্ধ করে দিয়েছে। পথ রুদ্ধ করে সড়কে গাড়ি থামিয়ে মোকামে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। এভাবে দু’পক্ষ পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত বৃহষ্পতিবার মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে বহু শিক্ষার্থী শ্রেনী কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। ভীতি ও ধরপাকড় থাকায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্টানে যায়নি। শুদ্ধখালীসহ বিভিন্ন পাড়ার মানুষ কালারপাড়া দিয়ে লবনমাঠ প্রস্তুতির কাজে যেতে পারছেননা। একইভাবে কালারপাড়ার লোকজন কাজিবাজার আসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সাতঘরপাড়ার উপর দিয়ে রশিদ আহমদের লোকজন যেতে পারছেনা।

তারা বিকল্প সড়ক হিসেবে কোদাইল্যাদিয়া-মটকাভাঙ্গা সড়ক দিয়ে পেকুয়ায় যাতায়ত করছেন। কালারপাড়ার লোকজন পেকুয়ায় যাচ্ছেন কইড়াবাজার-উজানটিয়া জালিয়াপাড়া হয়ে। মগনামার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে ভয়াংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মগনামায় এস.আলম শিল্প গ্রুপের জমির দখল-বেদখল নিয়ে এ পরিস্থিতি দিনদিন মারাত্মক অবনতির দিকে যাচ্ছে। এস.আলম গ্রুপের ওই জমিতে সংঘাত দেখা দেয়ায় চাষিরা এখনো মাঠে নামেনি।

গত কয়েক মাস পুর্বে এস আলম গ্রুপের জায়গা নিয়ে রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল বাশখালীর গন্ডামারা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এস আলম গ্রুপের জায়গা নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়েছে পেকুয়ার উপকুলীয় ইউনিয়ন মগনামায়। এস আলম গ্রুপের পক্ষে মগনামায় ভাড়াটে অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে দিচ্ছেন অস্ত্রের মহডা। ফলে এলাকাবাসির কাছে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা আশংকা করছেন, বাঁশখালীর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে মগনামায়। তাদের দাবি এখনই যদি প্রশাসন উক্ত জায়গায় ১৪৪ ধারার মতো সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে রণক্ষেত্র পরিনত হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তার বাহিনী নিয়ে এস আলম কতৃপক্ষ থেকে আমার লীজ নেওয়া জায়গার উপর সন্ত্রাসী কায়দা করে যাচ্ছেন। আমি এস আলম কতৃপক্ষ থেকে লিজ নিয়েছি। কিন্ত রশিদ মেম্বার লোক জন নিয়ে অহেতুক জায়গা দখল করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এবং তিনি নিজে তার দলীয় অফিস ভেঙে আমার উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্ত্রিতি সৃষ্টি করেছেন বলে ও অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে রশিদ মেম্বার দাবী করেছেন, তিনি এস আলম গ্রুপ থেকে জমি লীজ নিয়েছেন। তার রীজকৃত জমিতে যেতে দিচ্ছেনা চেয়ারম্যানের লোকজন। তার লোকজনের উপর প্রতিনিয়তই হামলা করছেন চেয়ারম্যানের লোকজন।

Top