এমপি বদিকে দেয়া হচ্ছে রাজকীয় সংবর্ধনা!

MP-Bodi-23.11.16_1.jpg

ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার ৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির জন্য রাজকীয় সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিয়েছে তার সমর্থকরা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছে হাজারো তোরণ। উখিয়া ও টেকনাফের প্রধানসড়কসহ গ্রাম মহল্লা ছেয়ে গেছে নজড়কাড়া ব্যানার ও ফেস্টুনে। বদির পুরো নির্বাচনী এলাকায় চলছে সাজ সাজ রব-যেন নতুন বরের আগমণ।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় সংসদ সদস্য বদি বেসরকারি একটি বিমানে কক্সবাজার পৌঁছাবেন। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে গাড়িবহর সহকারে উখিয়া নেয়া হবে। সেখানে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বিশাল গণসংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের উখিয়া উপজেলার কোর্টবাজার থেকে টেকনাফের নয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন অংশে এসব তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি তোরণে লাগানো হয়েছে কারামুক্ত সাংসদ বদির ছবি। তোরণ
নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ১৮ দিন পর সাংসদ বদি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে তিনি ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজারে আসবেন। সেখান থেকে গাড়িবহরযোগে তাঁকে (বদিকে) উখিয়া ও টেকনাফে আনা হবে। তাঁর আগমন উপলক্ষে এবং স্বাগত জানাতে দলের অনুরাগী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সড়কের ওপর তোরণ নির্মাণ করেছেন।
উখিয়ার কোর্টবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে শতাধিক তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। উখিয়া সদরের মাত্র এক কিলোমিটার অংশেই রয়েছে প্রায় তিন শ তোরণ।
সাংসদ বদি জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরে আসছেন, এ কারণে দলীয় নেতা-কর্মী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্থরের জনগণ তাঁকে স্বাগত জানাতে নিজেদের উদ্যোগে এসব তোরণ নির্মাণ করেছেন বলে জানান টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম বাহাদুর। দুই উপজেলা থেকে এক হাজার বিভিন্ন প্রকার যানবাহনে করে নেতা-কর্মীরা কক্সবাজার বিমানবন্দরে আজ সকাল ১১ টায় উপস্থিত থাকছেন।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ার ঘোনার মাস্টার নজির আহমদ বলেন,আমি জীবনে এতগুলো তোরণ ও ব্যানার চোখে দেখিনি। তিনি আরো বলেন,টেকনাফের গরীব, অসহায় জনসাধারন রাস্তা নেমেছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া,নফল নামাষ ও রোযা রেখেছেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে টেকনাফ উপজেলার আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতেও কখনো টেকনাফের সড়কে এত তোরণ বানানো হয়নি।
তোরণ নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকেরা বলেন, প্রতিটি তোরণ নির্মাণ ও একাধিক ডিজিটাল ব্যানার স্থাপনে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। গত দুই দিনে তাঁরা টেকনাফ পৌরসভার দুই কিলোমিটারে ৬৬টি তোরণ নির্মাণ করে দিয়েছেন।
বদিকে কারাগারে পাঠানোর পর গঠন করা ‘আবদুর রহমান বদি মুক্তি পরিষদ’র আহ্বায়ক অধ্যাপক হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, গণমানুষের প্রিয় নেতা আবদুর রহমান বদি কারামুক্তি পেয়ে উখিয়া-টেকনাফের জনগণের মাঝে ফিরে আসতে পারায় আল্লাহর নিকট তার ভক্তরা শুকরিয়া জ্ঞাপন করছেন। তিনি কতটা জনপ্রিয় গণসংবর্ধনায় লোক সমাগমে তা প্রমাণ হবে।
উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি গণসংবর্ধনা গণজোয়ারে পরিণত হবে।’
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী বলেন, উচ্চ আদালত তাঁকে জামিন দিয়েছেন। এতে উল্লাসের কিছু নেই। সাংসদের গাড়িবহরে যোগ দিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামে যারা এলাকায় মাইকিং করছে, তারা আসলে বদির অনুসারী। দলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক জনপ্রতিনিধির জন্য রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজনকে ‘চোরের মায়ের বড় গলা’ বলে অবহিতও করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের দায়ে ২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত সাংসদ বদিকে তিন বছরের সাজা দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর সেদিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ২০ নভেম্বর রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

Top