উন্নয়ন বঞ্চিত দেশের সর্ববৃহৎ নাজিরারটেক শুটকী মহাল

COXSBAZAR-NEWS-najirar-tek.jpg

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার :

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুটকী মহাল। সরকারী সু-দৃষ্টির অভাব, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সুবিধা বঞ্চিত হওয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ এই শুটকী মহালের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা। নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মাথা হাত দেয়ার উপক্রম হয়েছে শুটকী ব্যবসায়ীদের। এখান থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার শুটকী দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলেও সেদিকে খেয়াল নেই কারো। এসব কারনে ক্ষোভের মাত্রাটা আরো বাড়ছে শুটকী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মাঝে। শহরতলীর নাজিরাটেকের বিশাল এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে শুটকীর বাণিজ্য কেন্দ্র। শুটকী ব্যবসা করার লক্ষে জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, উখিয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার অসংখ্য ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া নাজিরারটেক এলাকায় শুটকী মৌসুম উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ টাকার বাঁশের ব্যবসাও হয়ে থাকে। শুটকী মহালে ৬ হাজারের অধিক নারী-পুরুষ মাছ বাছা ও শুকানোর কাজে জড়িত রয়েছে। যার সাথে জড়িয়ে আছে সেসব নারী-পুরুষের ভাগ্য। মৎস্য ব্যবসায়ীরা খুটা জালের ট্রলারে ব্যাংক বা মহাজনী সুদে টাকা নিয়ে মৎস্য আহরণের জন্য সাগরে ফিশিং ট্রলার প্রেরণ করেন। ২/৪ দিন পর মাছ শিকার করে ট্রলার কূলে ফিরলে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিস্থিতির। মাছ শুকানোর জন্য নাজিরারটেক ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয় হাজার হাজার কর্মজীবি নর-নারী। ফলে কর্মজীবি মানুষের মিলনমেলাস্থল হয়ে উঠে উক্ত নাজিরারটেক। মাছ শুকানোর পর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয় শুটকী গুলো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য উক্ত নাজিরারটেকে যাওয়ার জন্য তেমন উল্লেখযোগ্য কোন রাস্তা নেই। সমিতি পাড়া বাজার পর্যন্ত যা আছে তার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। যাতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আবার এ সড়কের অনেকাংশ কাঁচা। কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের কারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় মাছ আনা-নেয়া করতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্থানীয় ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত ব্যবসায়ীদের। উক্ত শুটকী মহাল ১০/১২ লক্ষ টাকা দিয়ে ইজারা দিলেও তা নিয়মিত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে ফাঁকি দেয়া হচ্ছে সরকারী রাজস্ব। নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আতিক জানান-নাজিরারটেক শুটকী মহালটি দেশের সর্ববৃহৎ হলেও সেদিকে কারোই কোন প্রকার খেয়াল নেই। নিরুপায় হয়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে টাকা খরচ করে রাস্তা সংস্কার করা হলেও তারও স্থায়ীত্ব থাকে না। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আক্তার কামাল বলেন-পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১ কিলোমিটার সড়কের কাজ করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করা হবে। অন্যদিকে সমিতি পাড়া থেকে নাজিরারটেক শুটকী মহাল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে শুটকী মহাল রাজস্ব খাতে একটি বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে জানান স্থানীয়রা। তাই সরকারী সুদৃষ্টিসহ নাজিরাটেক শুটকী মহাল স্থায়ী করণ গণদাবীতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবী, শুটকী খাতের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে নাজিরারটেক থেকে সমিতি পাড়া হয়ে হলিডে মোড় পর্যন্ত পরিকল্পিত বড় একটি উন্নত মানের রাস্তা করার।

Top