উখিয়ায় ২০ কোটি টাকার পান উৎপাদন সম্ভব!

pan-ukhiya-coxsbazar-cbn.jpg

আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়া :

উপকরণ সংকট সহ নানা প্রতিকূলতার কারণে গত কয়েক বছর ধরে পানচাষীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থের শিকার হয়ে আসছে। অপর দিকে উৎপাদিত পানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার কারণে প্রান্তিক পানচাষীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের দাবী পানচাষের উপর উন্নত প্রশিক্ষণ সহ সহজশর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহিত করা হলে প্রতি মৌসুমেই উখিয়া উপজেলা থেকে অন্তত ২০ কোটি টাকার পান উৎপাদন সম্ভব বলে চাষীদের অভিমত।

এ উপজেলার বৃহত্তর বনভূমির পাহাড়ী এলাকায় পানচাষ হয়ে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। আশির দশক থেকে পানের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকায় এখানকার হতদরিদ্র পরিবার গুলো বাণিজ্যিক ভাবে পানচাষ শুরু করে। ২০০০ সাল থেকে গাছ পানের পাশাপাশি মিষ্টি পানের চাষাবাদ বৃদ্ধি পেতে থাকায় এখানকার উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে আতœনির্ভরশীল হয়ে উঠে পান চাষের সাথে জড়িত অধিকাংশ পরিবার।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ উপজেলায় ২৪৭০টি পরিবার পান উৎপাদন ও বাজারজাত করণের মাধ্যমে জীবনজীবিকা ও ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার খরচসহ সংসারের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করে আসছে। তৎমধ্যে বাণিজ্যিক ভাবে মিষ্টি পান উৎপাদন করে আসছে প্রায় ১২০টি পরিবার। অবশিষ্ট ২৩৫০টি পরিবার চাষী (গাছপান) উৎপাদন করে আসছে। এসব পানের বরজ থেকে উৎপাদন হয়ে আসছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পান।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য মতে, বর্তমানে প্রতি মৌসুমে এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকার গাছ ও মিষ্টি পান উৎপাদন হয়ে আসছে। তৎমধ্যে উল্লেখযোগ্য, অর্থকরী ফসল পানসুপারী উৎপাদনের সক্ষম উপকূলীয় এলাকা জালিয়াপালং ইউনিয়ন।এ ইউনিয়নের প্রতিটি বসতবাড়িতে পান সুপারী চাষাবাদ হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। হলদিয়ার মৌলভী পাড়া গ্রামের পানচাষী নুরুল হাকিম সওদাগর (৩৫) জানান, এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি পান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বিভিন্ন রোগবালাইয়ে পানের বরজ আক্রান্ত হওয়ায় অধিকাংশ পানচাষী পুঁজি হারিয়ে পেশা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে।

পাগলির বিল গ্রামের মোস্তাক সওদাগর (৩৮) জানান, তার পূর্ব পুরুষের আদি পেশা হিসেবে পানচাষাবাদের সাথে জড়িত। বর্তমানে জমিজমার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী মহল পানচাষের উপযোগী জায়গাগুলি পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করায় পান চাষাবাদের জমি জমা হারিয়ে অনেকেই দেউলিয়া বনে গেছে। কুতুপালং গ্রামের কৃষক সোনালী (৪৫) জানান, অল্প পুঁজিতে বিনিয়োগ করে পানচাষাবাদের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। খুঁটিসহ আনুসাঙ্গিক উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সে পানের বরজের কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছে। এভাবে অসংখ্য কৃষক নানা প্রতিকূলতার কারণে পানচাষাবাদে উৎসাহ হারিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, এখানকার মাটি ও অনুকূল পরিবেশ পান উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে কৃষকেরা উন্নত পান চাষাবাদে সঠিক দিক নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে লাভবান হতে পারছে না। উপরোন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া বিভিন্ন রোগবালাই সহ উপকরণ সংকটের কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, পান চাষের উপর প্রশিক্ষণ সহ স্বল্পসুদে কৃষকদের ঋণ প্রদান করা হলে এবং স্থানীয় কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা পান চাষীদের সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করলে এ উপজেলায় প্রতি মৌসুমে ২০ কোটি টাকার পান উৎপাদন সম্ভব।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পানচাষীদের চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Top