উখিয়ার এক অসহায় গাড়ী চালক

Osohai.gif

আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়াঃ

কক্সবাজারের উখিয়ায় অসাধু দালাল চক্র চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও আপন সহোদরদের বহুমূখী ষড়যন্ত্রে এক অসহায় গাড়ী চালকের পরিবার জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুষ্টচক্রটি গত ১০ বছর ধরে মিথ্যা মামলা, হয়রানি, নির্যাতন এবং বসহ ভিটা দখলে নিতে এ ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। শুধু তাই নয় ওই চক্রটির নানা অপকর্মের প্রতিবাদ এবং বসত ভিটা, দোকান পাট রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় ইয়াবা চোরাচালানি শাহজাহান মিথ্যা মামলা দায়ের করার ও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা কুতুপালং বাজারের পাশ্ববর্তী পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মীর কাশেমের ছেলে মনজুর আলম ড্রাইভারের বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র চলছে। অসাধু চক্রটি একের এক পর এক মিথ্যা মামলা, নির্যাতন, হয়রানি ও জোর পূর্বক জমি দখল করে নেওয়ায় মনজুর ড্রাইভারের পরিবারটি এখন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। গত ২৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮ টায় মনজুরের সহোদরগণ লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বসত বাড়ী ও দোকান পাট দখলে নিতে গেলে দুপক্ষ মার মুখী হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা নিয়ে মনজুর আলম ড্রাইভার বাদী হয়ে ইয়াবা চোরাচালানি শাহজাহান সহ ৪ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক প্রিয়তোষ সাংবাদিকদের জানিয়েছে। এছাড়া ওই দিন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ফিরে আসেন।

জানা যায়, কুতুপালং পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত মীর কাশেমের অপরাপর ছেলে রশিদ, হোছন, শাহ জাহান, আলমগীরসহ কতিপয় লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। তারা ইতিমধ্যে মনজুর আলম ড্রাইভাবের দোকান পাট ও বসত দখলে নেওয়ার তৎপরতা আরম্ভ করেছে। এ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের কবল থেকে মনুজর আলম ড্রাইভারের স্ত্রী ছেলে মেয়ে কেউ বাদ যায় নি। এ সব অপকর্মে সহযোগীতা দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। তাদের সহযোগীতায় মনজুর আলমের সহোদরগণ প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজস করে বসত ঘর ও দোকান পাট গুলো যে কোন উপায়ে জোর করে দখল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এছাড়া স্বার্থন্বেষী এ মহলটির ষড়যন্ত্রের কারণেই কুতুপালং বাজারের মৃত মীর কাশেমের ছেলে মনজুর আলম ড্রাইভারের পরিবার পরিজন আজ শনির দশায় পড়েছে। কুতুপালং এর মনজুর আলম ড্রাইভারের পরিবার পরিজনকে হয়রানীর নেপথ্যে তার আপন সহোদর ও ভাতিজারা জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার সকাল ১০ টার দিকে রশিদ আহমদ অবৈধ ভাবে জোর পূর্বক মনজুর আলম ড্রাইভারের নিজ দখলীয় ও মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে দখলের উদ্দেশ্যে খুঁটি মারে। এ সময় মনজুর ড্রাইভার বাধা প্রদান করলে রশিদ আহমদ ও তার ছেলে ইয়াবা পাচারকারী আলমগীর প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধুমকি দেয়। এতে মনজুর ড্রাইভারের পরিবার পরিজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে অসহায় এ পরিবারের অভিযোগ। এছাড়াও কুতুপালং গ্রামের মৃত মীর কাশেম আলীর সমস্ত সম্পত্তি তার মরণের পূর্বে ছেলে মেয়েদের মধ্যে আইন মতে সম্পত্তি বন্টন করে দেন। কিছু দিন মীর কাশেম আলীর ছেলেরা যার যার জায়গা দখল আমল করে শান্তি পূর্ণভাবে ভোগ করে আসে। ইত্যবসরে মনজুর ড্রাইভারের বসত ভিটা ও দোকান ঘরের প্রতি অপরাপর ভাইদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। মনজুর ড্রাইভারের পৈত্রিক সম্পতি দখলে নিতে তার সহোদরদের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ দিকে মোঃ হোছন ও তার ছেলে ইয়াবা পাচারকারী শাহাজান মনজুর আলম ড্রাইভারকে বিদেশ নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা এখনও মনজুর ড্রাইভার উদ্ধার বা আদায় করতে পারেনি। এ ছাড়া হোছন ও ইয়াবা পাচারকারী শাহজান মনজুর আলম ড্রাইভারকে ষড়যন্ত্রের মারপ্যাচে ফেলে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফাসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পরও জামিনে মুক্ত হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কুতুপালং বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে কবির আহমদকে ৯ শতক জমি বিক্রি করে কোন রকম জেল থেকে ছাড়া পান।

অসহায় মনজুর আলম ড্রাইভার বলেন, আমার বসত ভিটা ও দোকান পাটের জায়গা আতœসাত করতে হোছন, রশিদ, শাহজান , আলমগীরসহ আরো ৫/৬ জন উঠে পড়ে লেগেছে। ইতিপূর্বে কথিত ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকে বিদেশ নেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টো শাহজানের মামা বড়বিল গ্রামের আবুল কালামকে ওই ভিসা দিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দেয়। এ টাকা উদ্ধারের জন্য মনজুর ড্রাইভার দীর্ঘ ৩ বছর ঘোরাঘুরি করলেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুমিদস্যুরা কালক্ষেপন করতে থাকে। এখনো টাকা উদ্ধারের আশায় মনজুর আলম দেউলিয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্না দেওয়াসহ হন্য হয়ে ঘুরছে। এখানে শেষ নয়, কথিত ইয়াবা পাচারকারী শাহজাহান প্রভাবশালীদের সাথে যোগসাজস করে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মূলক একটি মামলায় দিয়ে জেলে পাঠাই। তাদের উদ্দেশ্য আমার টাকা পয়সা ও সম্পত্তি আতœসাত করা।

কুতুপালং গ্রামের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহমান জানান, মীর কাশেমের ছেলে হোছন, রশিদ, নুর আলম, আমির হোছনসহ অপরাপর ভাইগণ নিরীহ মনজুর ড্রাইভারের সম্পত্তি আতœসাতের পায়তারা চালিয়ে আসছে। এছাড়াও বিভিন্ন কায়দায় নিরীহ মনজুরকে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে অবশিষ্ট বসত ঘর, পানের দোকান, মুদির দোকান, সেলুনের দোকান ও বিস্কুট ফ্যাক্টরী দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে তার সহোদরগণ।

স্থানীয়রা জানান, চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও ইয়াবা পাচারকারীর কালো থাবা থেকে অসহায় মনজুর ড্রাইভারকে রক্ষা করতে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের এগিয়ে আসা উচিত। অন্যথায় যে কোন মহুর্তে কুতুপালং এলাকায় সহোদরগণের মধ্যে সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে। এতে কোন সন্দেহ নেই।

ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, এ ধরণের কোন অভিযোগ আমার হাতে আসেনি। তারপরও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইন শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে বিষয়টি দেখভাল করা হবে।

Top