ঈদগড়ে শীতকালীন সবজির দাম না কমায় ক্রেতারা হতাশ

sobji_1.jpg

কামাল শিশির, ঈদগড় ( কক্সবাজার ) :

কক্সবাজার-রামুর ঈদগড় বাজার শীতকালীন সবজিতে ভরে গেলেও দাম কমছেনা কিছুতেই। মাছের দামও রয়েছে নাগালের বাইরে। যার ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কাঁচাবাজারে সবজি ও মাছ কিনতে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে । কাঁচাবাজারে আসা ঈদগড় ইউনিয়ন ্আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বেদার মিয়া জানান ,বাজারে প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন সবজির সবরাহ থাকলেও দাম কমছেনা। অথচ অন্যান্য বছর এ সময়ে আরো কমদামে সবজি বিক্রি হয়েছে। অপর দিকে মাছের দাম ও রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে অন্যান্য বছরের তুলনায়। ২৮ নভেম্বর সোমবার ঈদগড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি যথাক্রমে ফুলকপি-৬০টাকা, বরবটি-৪০টাকা,টমেটো-৮০টাকা, ঢেড়শ-৫০টাকা,কাঁচা মরিচ-৬০টাকা,গাজর-৬০টাকা,বেগুন-৪০টাকা, মুলা-৪০ টাকা,কিরা-৪০টাকা,লাউ ছোট-৪০টাকা,আলু-৩৫-৪০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে প্রতিকেজি তেলাপিয়া মাছ ১৪০-১৫০টাকা,ইলিশমাছ মাঝারী-৪৫০-৫০০টাকা,গুইজ্যা-৩০০টাকা, টেংরা-৩০০টাকা, কোরাল-৩৫০টাকা,সরপুটি-২০০টাকা,পানকাস-১৫০টাকা,লইট্যা-১৪০টাকা ধরে বিক্রি হচ্চে। অথচ এসব মাছ আগে প্রতিকেজিতে ৫০টাকা কমে বিক্রি হয়েছে। বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা বলেছেন ,বেশি দামে ্আড়ত থেকে মাছ কিনতে হচ্ছে । যার কারণে মাছের দাম বেড়ে গেছে। সবজি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চাহিদার তুলনায় এখনো শীতকালীন সবজির সরবরাহ নেই। ক্ষেত থেকে এখনো শীতকালীন সবজি পুরোদমে উঠেনি বলে তারা জানান। অন্যদিকে বাজারে আগত ক্রেতা সেলিম উদ্দিন ,মন্জুর আলম এ প্রতিবেদককে জানান, দাম না কমার কারণে তারা সবজি ও মাছ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বেদার মিয়া আরো জানান, ঈদগড় বাজারে পর্যাপ্ত নেই কোন মনিটরিং ব্যবস্থা। তাই ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত দামে মালামাল বিক্রি করছে। এলাকার সচেতন মহল বাজার তদারকী পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

——————————————————————————-

ঈদগড়ে ফরমালিন মিশ্রিত মাছ বিক্রি হচ্ছে

কক্সবাজার রামু উপজেলার ঈদগড়ের বিভিন্ন হাটাবাজারে মাছ তরতজা ও পচন থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত ফরমালিন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভেজাল বিরোধী অভিযান জিমিয়ে পড়ায় এক শ্রেণীর অসাধু বিক্রেতা মাছের সাথে ফরমালিন সহ বিভিন্ন বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশিয়ে দিচ্ছে। সাগর ও ঘের থেকে আহরিত মাছের মজুদ দীর্ঘদিন ভাল রাখার জন্য তারা এই অপকৌশল প্রয়োগ করছে ফলে ক্রেতারা বুঝতে পারেনা তাজা ও বাসী মাছের পাথর্ক্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিক্রেতা বলেন,আড়ত থেকে বেশি দামের মাছ ক্রয় করে একদিনেই সব মাছ বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই ফরমালিন দিয়ে তাজা রাখা হয়। কারণ এই মাছ বিক্রি করতে তাদের ৪/৫দিন সময় লাগে। এই ব্যাপারে বিএসটিআই,ক্যাব,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ প্রবণতা বেড়েই চলছে। ডা: সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই সব বিষাক্ত মাছ খাওয়ার ফলে ক্যান্সার,শরীরের হাঁড়ের জোড়া ফাঁকা হয়ে যাওয়া,যৌন শক্তি কমে যাওয়া,ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি,শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি সহ মারাত্মক ক্ষতি সাধন হয়। মানুষ এই সব বিষ বহন করে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। বিগত দিনে ট্রলার ও নৌকা থেকে মাছ খালাসের পর তা কোল্ডসেটারেজে সংরক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাজারজাত করা হত। কিন্তু বর্তমানে আহরিত বেশির ভাগ মাছ ট্রাক যোগে অন্যান্য স্থানে পাঠানোর ফলে উপজেলা সহ জেলা পর্যায়ে মৎস্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে উদৃত অল্প সংখ্যক মাছ খুচরা বিক্রেতারা উচ্চ মুল্যে ক্রয় করে তা কয়েকদিন পর্যন্ত বিক্রি করে। পূর্বেরমত প্রতিদিনের মাছ প্রতিদিন বিক্রি করা সম্ভব হলে এই অবস্থা সৃষ্টি হতনা। এলাকার সর্বস্তরের জনতা সহ ইউনিয়ন আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বেদার মিয়া স্বাস্থ্য ঝুকির বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে ফরমালিন মিশ্রিত মাছ বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Top