ঈদগড়ে প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই খেলার মাঠ

Eidgor_1.jpg

কামাল শিশির, ঈদগড় (কক্সবাজার ) প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজার রামুর ঈদগড়ের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই বলে জানা যায়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,ঈদগড় হাসনাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বড় বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ আরো কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলাধুলার জন্য কোন ধরনের মাঠ নেই। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নানা ধরনের বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি দুপুর ছুটিতে ছাত্র -ছাত্রীদেরকে ক্লাসে বসে থাকতে হয় বিদ্যালয় গুলোতে খেলার মাঠ না থাকায়। অনেক বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করার জন্য জায়গা নেই। এছাড়া ঈদগড় ১৩নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং করলিয়ামুরা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য একটু মাঠ থাকলেও তাও খেলার উপযোগী নয় । উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩শতাংশ জায়গার প্রয়োজন। যে সব বিদ্যালয়ে ৩৩শতাংশ জায়গা রয়েছে সেখানে ভবন করার পর বাকী জায়গা টুকু মাঠ করা হয়। এছাড়া যে সমস্ত বিদ্যালয়ে ৩৩শতাংশ জায়গা নেই সে গুলোতে ভবন ছাড়া মাঠ নেই। প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী ।

ঈদগড়ে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে

কক্সবাজার রামুর ঈদগড়ের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সেবন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ধ্বংসাত্মক এ ইয়াবা গ্রাস করছে ঈদগড়ের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। ইয়াবার করাল গ্রাসের শিকার হচ্ছে কলেজ পড়–য়া ছাত্র ও অধিকাংশ যুব সমাজ। ইতিপূর্বে পুলিশ হিরোইন ও সোলাই মদ আটক করলেও রোধ করা যাচ্ছে না ইয়াবা ও মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কোন অভিযান ঈদগড়ে না থাকায় ইয়াবার কালো থাবা ছড়িয়ে পড়ছে ঈদগড়ের বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে। সর্বনাশা ইয়াবা প্রতিদিন ঈদগড়-ঈদগাও সড়ক, বাইশারী সড়ক দিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনি ফাঁকি দিয়ে ঈদগড়ের বিভিন্ন স্পটে পৌঁছে যাচ্ছে এ মরণ নেশা। এ অপব্যবসা রোধ করতে না পারায় ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমানে ঈদগড় ঘুইন্যাপাড়া, চরপাড়া ২নংগেইট, পূর্ব রাজঘাটা, বউঘাট,পানিস্যাঘোনা,হাসনাকাটাসহ আরো বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন বসতবাড়ীতে এবং পরিত্যাক্ত ভবনে প্রকাশ্যে ও গোপনে উঠতি বয়সের তরুনরা ইয়াবা সেবন করছে ।এছাড়া প্রশাসন কতৃক চিহ্নিত কিছু যুবক এ ইয়াবা ব্যবসা এলাকায় প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে এবং সহজেই সেবনকারীরা হাতের নাগালে ইয়াবা পেয়ে যায়। ফলে পুরো ঈদগড়কে গ্রাস করে ফেলছে ইয়াবা । বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষতিকর ইয়াবা এমন এক জাতীয় মাদক যা মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে তুলে । ফলে ইয়াবা সেবনে প্রতিদিন মানব মস্তিষ্কের অসংখ্য কোষের অপমৃত্যু ঘটছেই । মাত্রাতিরিক্ত সেবনের কারনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে। পাশাপাশি যৌন ক্ষমতা পুরুষত্ব অসময়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই ইয়াবা রোধ বা বিরোধী অভিযান জোরদার করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

ঈদগড়ে ফুটপাতের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের ভীড়

শীত আসতে না আসতেই কক্সবাজার রামুর ঈদগড়ে শীতের হাওয়া বইছে মানুষের মাঝে। শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শ্রেণী ভেদে শীত বস্ত্র কিনতে শুরু করেছে মানুষেরা। লেপ-তোষক,কম্বল,নতুন শীত বস্ত্রের মূল্য বেশি থাকায় মধ্যবিত্ত ও দু:স্থ মানুষেরা ছুটছে পুরাতন ও ফুটপাথের শীত বস্ত্রের দোকান গুলোতে। অন্যবারের তুলনায় এবার পুরাতন বস্ত্রের দোকান গুলোতে শীত বস্ত্রের মূল্য বেশি থাকলেও শীতের শুরুতে অভাবী শ্রেণীর মানুষেরা তাদের সাধ্যমত প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্র কিনতে শুরু করেছে। ঈদগড়ের ফুটপতের পুরাতন কাপড়ের দোকান গুলোতে প্রতিদিন ভীড় বেড়েই চলেছে। মহিলারাও তাদের নিজেদের এবং শিশু সন্তানদের জন্য গরম কাপড় কিনতে আসছে দোকান গুলোতে। তবে এলাকার বিত্তশালী ক্রেতারা ঈদগাঁও, ককসবাজার,চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত মার্কেটের দোকান গুলোতে কেনাকাটা করছে। পাশাপাশি রাতের শীতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষেরা ছুটছে বিভিন্ন লেপ-তোষকের দোকানে। অনেকেই কিনছেন মূল্যবান কম্বল। ফুটপাথের স্বল্প মূল্যের কম্বলও বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। লেপ-তোষক তৈরীতেও ধুম পড়েছে। লেপ-তোষকের দোকান গুলোতে চলছে রাতদিন কাজ। কর্মচারীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে চলেছে। লেপ তোষক বিক্রেতারা অনেকেই জানান, তুলাসহ অন্য সামগ্রীর মূল্য এবার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি কিছুটা কম বলে জানা গেছে ।

Top