ঈদগাঁও লুতু মিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে ধীরগতি

loto-Road.jpg

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও:
ঈদগাঁওতে শাহজাহান চৌধুরী লুতু মিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজের ধীরগতিতে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ চলছে। এক সপ্তাহ যাবত এ সড়কে বন্ধ রয়েছে সকল ধরণের যান চলাচল। জন চলাচলও মারাত্মক বিঘিœত হচ্ছে। ঈদগাঁও ডিসি রোডের বিকল্প এ সড়কের মেরামত কাজ দ্রুত শেষ করার দাবী উঠছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, সম্প্রতি ঈদগাঁও জাগির পাড়াস্থ শাহজাহান চৌধূরী লুতু মিয়া সড়কের বিসি দ্বারা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদগাঁও ইউপি অফিস-ভোমরিয়াঘোনা ফরেষ্ট অফিস বাজার ভায়া ভাদিতলা সড়ক পর্যন্ত রাস্তাটি উন্নয়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সড়কটির প্রায় দেড় কি.মি. তথা হাইস্কুল গেইটের সম্মুখ থেকে গরুর বাজার অংশ পর্যন্ত ব্রিক সলিং খুলে ফেলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির বৃহত্তর চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ সড়কটি উন্নয়ন করা হচ্ছে। ৬ মাস আগে প্রকল্পের কার্যাদেশ হয়। পুরো রাস্তাটি কার্পেটিং করা হবে। ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট চওড়ার এ জনগুরুত্বপুর্ণ সড়কটি পর্যায়ক্রমে পাল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ভোমরিয়াঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ ঈদগাঁওগ-ঈদগড় সড়কের সাথে সংযুক্ত হবে।
প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে কক্সবাজার কলাতলীর সোহাগ গেষ্ট হাউজের মেসার্স বজল এন্ড ব্রাদার্স। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প উন্নয়নে ঠিকাদার কোম্পানীর হয়ে ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
জাফর মাঝির নেতৃত্বে হাশেম, আবদুল্লাহ, নাছিরসহ অনেকে এ কাজে জড়িত। শ্রমিকরা জানান, ইট তুলে ফেলার পর প্রথমে বালি তারপর কংকর বসানো হবে। শেষে আবারো বালি বসানোর পর বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং কাজ করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কক্সবাজার সদর প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দেখভাল করছেন।
সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দীন, কার্য সহকারী নজরুল ইসলাম মাঝে মধ্যে এসে কাজ তদারক করছেন।
জনগুরুত্বপুর্ণ এ সড়কটি ঈদগাঁওর প্রধান সড়ক ডিসি রোডের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কচ্ছপ গতিতে কাজ চলতে থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সপ্তাহ যাবত এ সড়কে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লোকজনের চলাচলও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রাসহ অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানমুখীরা।
স্থানীয় সমাজ সেবক মাষ্টার নুরুল আজিম ক্ষোভের সাথে জানান, সপ্তাহ আগে সড়কটির ইট খুলে ফেলা হলেও এখনো পর্যন্ত রোলার গাড়ীর দেখা নেই। তিনি দ্রুত এ সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Top