আলীকদম-লামায় রাখাইন মেয়েরাও এখন স্বাবলম্বি হচ্ছে নিজের কর্ম-ক্ষমতায়

Chakaria-Alikadam-pc-21-11-16_1.jpg

আলীদমের চিনারীর দোকানে টেইলার্স মালিক এথিনু ও কর্মচারী প্রমি

অলি উল্লাহ রনি , চকরিয়া :

আলীকদম-লামায় আদীবাসীদের আদলেই সভ্য সংষ্কৃতির ছোয়ায় এসে রাখাইন বালিকারা এখন নিজেদের স্ব-সখিয়তায় পরের উপর বোঝা না হয়ে পরিবারে অন্যদের সাহায্য করতে রিতীমত আয়ের পথ বেছে নিয়েছে বিভিন্নভাবে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাল্য বিয়ের পিড়িতে বসলেও আবার অনেকে স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে পাহাড়ী এলাকায় জুমিয়ার ভুমিকা নিয়ে দিন মজুরের কাজ করে কোন রকম বেছে রয়েছে। তবে পার্শ্ববতী উপজেলা চকরিয়া-পেকুয়ায় এসব আদীবাসীদের দিন মজুরের কাজ করতে তেমন একটা দেখা যায়না বললেও চলে। তবে এতেও উন্নয়নের ছোয়া বঞ্চিত গোটি কয়েক যুবক যুবতীদের ফেরিওয়ালার কাজ থেকে শুরু করে অনেকেই আবার বাংংরা মদের ব্যাবসাও করে যাচ্ছে। সচেতনতার অভাবে এসব লোক বিপদগামী হলেও সচেতন লোকজন এসব বিষয়ে উদাসীন। এদিকে আলীকদ ও লামাতেও ওইসব বাংলা মদের ব্যাবসার সাথে উপজাতিয় অনেক মারমা, রাখাইনরা তুলনা মুলকভাবে কমবেশি ওইসব বাংলা মদের ব্যাবসা করে যাচ্ছে। সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এসব বিষয় গুলো নিশিশ্চত করেছে এ প্রতিবেদক। া অ্যদিকে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ের জন সতেনতা, শিক্ষা ও উন্নয়নের আলোকে বিভিন্ন উদ্ভুদ্ধকরণ সভা সমাবেশের আদলে গিয়ে শত শত রাখাইন নারী-পূরুষ ও যুবক-যুবতীর জীবনের চাকা পাল্টে গেছে। লামা এবং আলীকদম উপজেলা সদরে উন্নয়নগামী শত শত যুবক-যুবতীর নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে শত শত ব্যাবসা প্রতিষ্টান। এ থেকে তারা প্রতিনিয়ত পরিবারের আয়ের একটি পথ নিশ্চিত করেছে। অনুসন্ধানে সরজমিন গিয়ে জানা যায়, আলীকদমের চিনারীর দোকান এলাকায় জসেন টেইলার্স নামে একটি জরাজীর্ণ ক্ষুদে ব্যাবসা প্রতিষ্টান গড়ে তুলেছে মহেশখালী উপজেলার এক তরুনী। জীবীকার তাড়নায় এ যুবতী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এসে রোজগারের পথ নিশ্চিত করেছে। তার এ টেইলার্সে কর্মজীবী হিসেবে রয়েছে একটি কিশোরী মেয়েও। দেখা গেছে, অথ্যন্ত স্বাচ্ছন্দেই এ দোকানটিতে রকমারী কাপড় সেলাইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্টানের নিজস্ব পোষাক তৈরী ও সব বয়সী মহিলাদের পোষাক সেলাই করে সর্বরাহ করা হচ্ছে। দোকানটির কর্মচারী কিশোরীর নাম প্রুমারী মারমা প্রুমি-পিতা- অংচ মারমা মাতা-ম্যাচিং মারমা, সে মহেশখালীর আদীনাথ মন্দির এলাকার বাসিন্দা। পরিবারে পিতা মাতাকে সাহায্য করতেই বর্তমানে সে আলীকদম এর চৈক্ষং ইউনিয়নের চিনারীর দোকান বাজারে এখিনু রাখাইন এর মালিকানাধীন জসেন টেইলার্স এ খেয়ে পড়ে ১শত টাকা বেতনে সহকারী টেইলার্স এর কাজ করে। দোকানের মালিক এখিনু রাখাইনও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকার বাসিন্দা বলে সে জানায়। এ দোকানে শুধুমাত্র মহিলাদের কাপড় সেলাই করা হয়। বিশেষ করে স্থানীয় কেজি, প্রাইমারী ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় ড্রেস সেলাই করা হয় বলে এথিনু জানায়। এখিনুর ৫ ভাই এবং সেই একমাত্র বোন। এর মধ্যেও ৩ ভাই আলাদা সংসার নিয়ে ব্যাস্ত তারা। বর্তমানে এখিনুর সাথে তার মা বাবা এবং সে সহ ৫ পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে জিবীকা নির্বাহ করে আসছে। ছোট ভাই এসএসসি দেবে। আলাপকালে প্রমি ও এথিনু জানায়, দোকানে কোন সময় ৫শ কোন সময় ১ হাজার টাকা দৈনিক আয় হয়।

Top