আমার মা মনে করিয়ে দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

tanvirul-kabir-ripon.jpg

-তানভীরুল মিরাজ রিপন

বই পড়ি বলেই একটু আধটু লিখি।যারা আমার বই সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্য শোনেছেন তাদের কাছে আমি এই কথাটির মাধ্যমে সবসময় বেঁচে থাকি “বই থেকেই বইয়ের সৃষ্টি” বলে আমি অমুখ সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে বই নিয়ে কথা বলতে এসেছি বা এ বই আমাকে কি শেখালো? এসব নিয়ে কথা বলতাম।

আজ সকালে খবর দেখার জন্য টেলিভিশন খুলে খবর দেখছিল এক চ্যানেল মা। আমিও কিছুক্ষন পর মা’র সাথে চা খেতে খেতে খবর দেখছিলাম।খবরে উপস্থাপিকা বলছেন “আজ নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ “এর ৬৮ তম জন্মবার্ষিকী। খবর শেষে মা বললো রোহিত(মা আমাকে রোহিত নামেও ডাকেন)হুমায়ূন আহমেদ মারা গেলেন চার-চারটি বছর কেটে গেলো?আমি বললাম আশ্চর্য হবার কি আছে?দিনতো স্বাভাবিক নিয়মে চলছে।

তোর এই লেখালিখি কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের আশীর্বাদের ফসল।আমি একটু আশ্চর্য ই হলাম।মানে?মানে উনিই তোকে আশীর্বাদ করেছিল খুব বড় সৃজনশীল মানুষ হবার।আমি একটুর জন্য মনে করতে পারছিলামনা কারন উনি আমাকে খুব ছোট থাকতে আশীর্বাদ করেছেন।এটাতো আমার জন্য খুবই খুশির খবর।আজকে ইনাকে নিয়ে কিছু একটা লিখে কাগজে ছাপবার জন্য দিবি।আচ্ছা ঠিক আছে বলেই আমি এক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে, বিকালেই ফিরলাম ফিরে খেতে যেইনা বসলাম, মা বলল কয় লিখেছিস? দেখাতো।আমি বললাম এখনো লিখিনি।কবে লিখবি?লিখবো বলে খাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে সন্ধ্যায় লিখতে বসলাম মা পাশে বসা ছিল।মায়ের আবদার আর স্যারকে স্মরন করবার কিছু স্মৃতি নিয়ে মূলত আজকে “আমার হুমায়ূন স্যার”কে স্মরন করছি।
আমার হুমায়ূন-১
২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে হুমায়ূন আহমেদের চারটা বই পুরস্কার স্বরুপ পেয়েছিলাম,
১।ভয় (১৯৯১)
২।কাঠ পেন্সিল (২০১০)
৩।হিমু(১৯৯৩)
৪।আমি মিসির আলি(২০০০)
চকচকে ঝকঝকে বইয়ের মলাট দেখে বই গুলো পড়ার ইচ্ছা সামলাতে পারছিলামনা।একদিন স্কুল ব্যাগে করে ভয়(১৯৯১) ক্লাসে পড়ার জন্য নিয়ে গেলাম।ক্লাস প্রথমটা করে কাউকে না বলে, কেউ না দেখে মতো ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলাম, কেউ তেমন খেয়াল করেনি। আমি স্কুলের দেয়াল টপকিয়ে স্কুলের পেছনে এক কোনে কেউ না দেখে মতন বই পড়া শুরু করে দিয়েছি একের পর এক ক্লাস শেষ হচ্ছে আমার পৃষ্টার পর পৃষ্টা শেষ হচ্ছে। তিনটা ক্লাস পর হইতো আমাকে ডাক ছেড়ে ছেড়ে ডাকছে আমি ঐ ডাকের প্রতিউত্তরে বললাম “ওহুম”ডাকটা দেয়ালের ওপারে হয়তো যায়নি , আমি বইটা পড়ে এতোই আনন্দ পাচ্ছিলাম যে আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমি ক্লাস ফাকি দিয়ে বই পড়ছি, আমার এমনটাই। মনে হয়েছিলো আমি বাসাই বসে বইটা পড়ছি।আবার ডাক পড়লো রিপন? আমি জ্বী।স্কুল দপ্তরি শোনতে পেলো আমার আওয়াজ। কই তুমি? তোমাকে স্যার ডাকছে। ভয়ে ভয়ে”ভয়”হাতে নিয়ে দেওয়াল পার হয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে গেলাম,হাতে ‘ ভয়’আর বুকেও ভয় মুখে চোখে ও ভয়।সেদিন স্যার মারতে মারতে কাদালো, সেই শাস্তি পেয়ে হুমায়ুন আহমেদ স্যার আমার বুকে আজো গেথে রয়েছেন।
আমার হুমায়ূন-২
স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ জীবনে পা রাখলাম তবু বইপোকা থেকে মানুষ হতে পারলাম না।একদিন কলেজে এক ইংরেজী ম্যাডাম ক্লাস নিচ্ছিলেন আমি ক্লাসে ইংরেজী বইয়ের ফাকে হুমায়ূন আহমেদের বই রেখে পড়ছিলাম ম্যাডাম অনেক চেষ্টার পরে হাতেনাতে পৃষ্টা উল্টাতে গিয়ে ধরে ফেললেন বললেন ক্লাসে বসে এসব?তুমি না সায়েন্সের স্টুডেন্ট তোমার মাঝে তো তেমন আলাদা কোন বৈশিষ্ট্য দেখছিনা।বললেন? কার লিখা?কি পড়ছিলে?আমি বললাম হুমায়ূন আহমেদের “বৃহন্নলা “পড়ছিলাম। বৃহন্নলা মানে কি জানো সবাই??ক্লাসের কেউ জানেনা।রিপন তুমি বলো।না মানে ইংরেজীতে কি বলবো নাকি ম্যাডাম?ইংরেজীতে হয় shemale।বৃহন্নলার বাংলা হিজড়া।
মায়ের অনুরোধ আর প্রেরনায় হুমায়ূন আহমেদকে স্মরন।খুব গভীরে সারা জীবন বেচে থাকুন সবার হৃদয়ে।

আমাদের এ প্রজন্মের প্রতি-যারা বাংলা সাহিত্যকে আঁকড়ে ধরে নিহের জানার পরিধি বাড়িয়েছেন,তাদের এটা জানা খুবই জরুরী কারন একসময় আমরা এ বাংলার সাহিত্য পশ্চিম বাংলা নির্ভর ছিল,কারন তারা তাদের সাহিত্য আমাদের এ বাংলা পর্যন্ত বিস্তৃতি পেয়েছিল আমরা বাধ্য ছিলাম ওপার বাংলার সাহিত্য পাঠ করতে, এই হুমায়ূন আহমেদ এই শৃঙ্খল থেকে এপার বাংলার সাহিত্যের ভিত্তি শক্ত করেছিল যার ফলশ্রুতিতে আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উপর সিনেমা নির্মান করে বুঝিয়ে দিয়েছে এবাংলার ও নিজস্ব সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীল আধুনিক সিনেমা নির্মাতা আছে,যেমন আজ রবিবার অবলম্বনে ধারাবাহিক নাটক ভারতীয় চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে।কিন্তু আমাদের এই প্রজন্ম শুধু হুমায়ূন মুখি এবং হুমায়ূনে বন্দী,হুমায়ূনে বন্দী হয়ে হুমায়ূন কে ভালবাসা যায়না,আপনার জানার স্থরটা সবখানেই আছে।সব লেখকের লেখা পড়ে আমাদের প্রতিজনকে বাংলাসাহিত্যকে সমৃদ্ধশালী করতে হবে।

শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ।

লেখক:তানভীরুল মিরাজ রিপন।

Top