আওয়ামী লীগে মৌসুমি পাখির স্থান নেই: ওবায়দুল কাদের

obaidol-pic.jpg

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধান মন্ত্রীর শেখ হাসিনার মৌসুমি পাখির দরকার। বসন্তের কোকিলের প্রয়োজন নেই। যারা সুসময়ের বন্ধু হয়ে দলে প্রবেশ করতে চান, তাদের বলছি সময় থাকতে রাস্তা কেটে পড়েন।

শনিবার (১২ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় আওয়ামীগের কার্য্য নির্বাহী কমিটিতে চট্টগ্রাম থেকে সদ্য পদ পাওয়া নেতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দলের হয়ে কাজ করতে চান তাদের নি:শ্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে। যারা মানবে না তাদের দলে থাকার কোন অধিকার নেই। গুটিকয়েকের জন্য গোটা দলের বদনাম হতে পারে না।

দলের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা জানিয়ে সেতু মন্ত্রী বলেন, সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান। দলের যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো মন থেকে ফেলে দিতে হবে। সামনে আমাদের অনেক কাজ পড়ে আছে। প্রধান মন্ত্রী ভিশনকে সমানে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। শত্রুদের কখনো বোকা ভাবা ঠিক হবেনা। বলেন ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি মঞ্চে থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথও করিয়েছেন দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা এই নেতা।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, অভিন্ন। আপনারা ওখান থেকে টুকটাক এটা-সেটা করবেন, ওইদিন চলে গেছে। এটা আর করতে দেয়া হবেনা। সময় থাকতে ‘ঠিক হয়ে যান, অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। কাউকে ছাড়া হবে না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ’ বলেন দলের এই শীর্র্ষ নেতা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি যখন চট্টগ্রামে প্রবেশ করি তথন নগরী ফেসটুন বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। আমার ছবি দিয়ে সড়ক মন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম। বিভিন্ন শ্লোগানে ভরে গেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। তিনি বলেন, আমি এসব দেখতে আসিনি। তোরনের শোভা দেখতে আসিনি। কারণ আমি জানি ফুলের মালা শুকিয়ে যাবে, কাড়জের ফুল শুকিয়ে যাবে, পোস্টার ছিড়ে যাবে, পাথরের ছবি ক্ষয়ে যাবে। কিন্তু হৃদয়ের কথা রয়ে যাবে। আমি চায় হৃদয়ের মাঝে দরকে গেঁথে ফেলুন।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, পোস্টার ব্যানার আমার ছবি দিয়ে আমাকে খুশি করার দরকার নেই। আমাকে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা খুশি করেছেন। এখন আমার দায়িত্ব জনগণকে খুশি করা। জনগনের চাওয়া পাওয়া পূরণ করা। তাই আপনাদের বলছি নেতাদের খুশি করে লাভ নেই, জনগণকে খুশি করুন। জনগণের কাছে যান। যদি অপকর্ম কিছু করে থাকেন, ক্ষমা চান। জনগণের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান, জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কোন লজ্জা নেই। আমি নেতাগিরি পছন্দ করিনা। আমার নামে শ্লোগান দিয়ে আমাকে কখনো খুশি করতে পারবেনা। তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। ভুল করেছেন ক্ষমা চান। ক্ষমা চাইলে মানুষ বড় হয়। কখনো ছোট হয়না। দেখেননি রাস্তাঘাটে যখন জনগন দূর্ভোগে পড়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চায়। এতে কি আমি ছোট হয়ে গেছি?

সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ প্রচার সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাঙামাটির সাবেক সাংসদ দীপংকর তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীতে স্থান পাওয়া সাবেক সাংসদ ইছহাক মিঞা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ ড.অনুপম সেন এবং প্রণব কুমার বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও ডা.দীপু মণি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ‍সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নরুল আলম চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

সমাবেশ পরিচালনা করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

Top