অস্ত্রের ঝণঝনানীতে মহেশখালীর মানুষ ও প্রশাসন অসহায়

arms_1-1.jpg

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের সবচেয়ে ভংকর জনপদখ্যাত মহেশখালীতে আবারো শুরু হয়েছে অস্ত্রের ঝনঝণানী। উপজেলার কয়েকটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উঠেছে মাথাছাড়া। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে তারা জানান দিচ্ছে নিজেদের শক্তি।

জানাগেছে, দ্বীপ উপজেলার সন্ত্রাস কবলিত কালামার ছড়ার তারেক বাহিনীসহ ইউনিয়ন ও গ্রাম ভিত্তিক কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। এদের শক্তি ও প্রভাবের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না স্থানীয় প্রশাসন। মামলা-হামলা ও ইজ্জত বাঁচাতে উপজেলার অসংখ্য শান্তিকামি পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদের অনেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, ঢাকা, কক্সবাজারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা নিয়ে জীবন-যাপন করছেন। ঝামেলা এড়াতে এলাকা ছেড়ে আসা অনেকেই বছরের দু’ঈদ এমনকি গ্রামের আতœীয়-স্বজনের কবর জিয়ারতেও যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় শুধু কালারমারছড়ায় নয়, পুরো উপজেলার গ্রামে গ্রামে বাড়ছে সন্ত্রাস, খুন ও অস্ত্রের ব্যবহার। অপ্রতিরোধ্য এই কর্মকান্ডে শুধু কালারমারছড়ায় দীর্ঘ ১৮ বছরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা ও পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে ৩৫ জন। চোখ হারিয়েছেন ৪ জন ও পঙ্গু হয়েছেন প্রায় ২০ জন।

সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে কেউ হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান কেউ হয়েছেন কোটিপতি। ঘটনার সাথে প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী দায়ী হলেও এতে মামলায় জড়ানো হয়েছে প্রায় ১০/১২ হাজার সাধারণ মানুষকে। যার ফলে কালারমারছড়ায় ৮০ ভাগ পরিবার মিথ্যা মামলার বোঝা টানাছেন দীর্ঘদিন থেকে। এর নেপথ্যে কারা সেই সুবিধাভোগী, এ দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণে কারা লাভবান হয়েছেন এ নিয়ে চুল ছেড়া বিশ্লেষণ করছেন ¯’ানীয় লোকজন। মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কবি, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনেক মৃত ব্যক্তিও। বিদেশে থেকেও হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন এমন দৃষ্টান্ত আছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ইউপি নির্বাচনের পর থেকে কালারমারছড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত শুরু হয়। এর আগে কালারমারছড়ায় কোন সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্তিত্ব না থাকলেও এ সময়েই গড়ে উঠে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সব বাহিনী বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তার করলেও খুনের মত কোন ঘটনা ঘাটেনি। এ সব বাহিনীর লোকজনের নেতৃত্বে শাপলাপুরের তৎকালীন চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে ধরে আনতে শাপলাপুরে হামলা চালিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ওই সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান ওসমান গণীর পরিবারের সাথে পরবর্তিতে সৃষ্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের সাথে কালারমারছড়ার ৭ নং ওয়ার্ডে বি”িছন্ন কোন ঘাটনা ছাড়া তেমন বড় ধরণের ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকায় জনশ্রুতি আছে ২০০৭ সালে ক্রসফায়ারে নিহত সৈয়দ নুরের সাথে একটি বলি খেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সুচনা হয়। তা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে। এ সব ঘটনায় ধীরে ধীরে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন প্রতিপক্ষ লোকজন।

Top