অবসরে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের চুক্তিতে নিয়োগ

primary.jpg

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ঘাটতি পূরণে সাময়িক সমাধান হিসেবে অবসরে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে সরকার। শিক্ষকের মধ্যে যারা এখনও শারীরিকভাবে সক্ষম ও যোগ্যতম তাদেরই চুক্তিতে নিয়োগ দেবে সরকার। তবে প্রাথমিকভাবে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ‘ওয়ার্ক টু পে’ হিসেবেই তাদের নেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি আরও জানায়, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে ৩০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে এবং অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে যোগ্যতমদের কাজে লাগাতে চুক্তিতে নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে সরকার এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় চার মাস আগে সব বিভাগে ও প্রায় কাছাকাছি সময়ে প্রত্যেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে এই পরিকল্পনা নেওয়া হলেও প্যানেল শিক্ষকদের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ হতে পারে এমন ভাবনা থেকে ‘ওয়ার্ক টু পে’ পলিসি নিয়ে ধীরে চলো নীতিতে এগুতে থাকে সরকার। যদিও প্যানেল শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টির কোনও আশঙ্কাই নেই বলে জানান ওই মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা জানান, ‘ওয়ার্ক টু পে’ পলিসি বাস্তবায়নে শিক্ষকদের তালিকা তৈরিরও পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে দেশের সব জেলা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে শারীরিকভাবে সক্ষম ও যোগ্যতমদের তালিকা চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তালিকা তৈরি করে বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠিয়ে দেওয়াও হয়। সম্প্রতি এই অধিদফতর শিক্ষকদের তালিকা পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘চুক্তিতে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত ‘ওয়ার্ক টু পে’ হিসেবেই নিচ্ছি। কারণ চুক্তিতে নিলে না বুঝেই কেউ না কেউ উচ্চ আদালতে মামলা করে দেবে। তখন ৩০ হাজার শিক্ষকের চাহিদা মেটানো যাবে না। এতে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতি হবে।’’

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে যারা শারীরিকভাবে সক্ষম তাদের তালিকা তৈরি করে আমরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ‘ওয়ার্ক টু পে’ পলিসিতে অভিজ্ঞদের কাজে লাগাতে এটা করা হচ্ছে। এর ফলে আপাতত শিক্ষকের ঘাটতি কিছুটা কমবে। পাশাপাশি কিছু সম্মানীও পাবেন এসব বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক। একইসঙ্গে অভিজ্ঞতা আর পরামর্শও পাওয়া যাবে এসব শিক্ষকের কাছ থেকে। তবে চুক্তিতে নিয়োগের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা জেলা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অবসরে যাওয়া সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা অধিদফতরে পাঠিয়েছি। এটি সরকারের ভালো উদ্যোগ বলে মনে করি আমি।’

রাজশাহীর বাগমারা গাঙ্গোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়াবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষক সংকটের বর্তমান এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন গড়তে সহায়তা করবে। দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা উচিত।’

এই শিক্ষকের সঙ্গে সহমত পোষণ করে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পূর্ব কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার ছয়মাস আগেই চিন্তা-ভাবনা করেছিল বলে জানতে পারি। তবে প্রায় চার মাস আগে জেলা শিক্ষা অফিস সামর্থবান শিক্ষকদের তালিকা চায়।’

নওগাঁ জেলার প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম বলেন, যারা অবসরে গেছেন তাদের অনেকেই এখনও পাঁচ বছর, ‘আবার কেউ কেউ ১০ বছর ভালোভাবেই শিক্ষকতা করতে পারবেন। যারা অল্প সময়ে অবসরে যাবেন, তারাও প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারবেন। তাদের নিয়োগ দেওয়া সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করি।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৩ হাজার ৬০১টি। বিদ্যালয়হীন এলাকায় নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৩৪টি। নতুন জাতীয়করণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৪০টি। এছাড়া দেশের পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ৫৫টি। এসব বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ জন। এছাড়া বর্তমানে ৩০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে দেশে।

বাংলা ট্রিবিউন

Top