৩ বছরে বেশিরভাগ সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

63a323cd13f5fbd03c946861aa6a81c3-5750dcafb0238-2.jpg

ডেস্ক নিউজ:

বিএনপিবিগত তিন বছরে বিএনপির বেশিরভাগ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। কখনও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে, কখনও সংঘর্ষ এড়ানো বা কোনও কারণ ছাড়াই অনুমতি চাইলেও বিএনপির আবেদনে সাড়া দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ। এক্ষেত্রে অনুমতি না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে সাতবার । এরমধ্যে ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে শনিবার (৭ জানুয়ারি) সমাবেশ করতে দুটি স্থান চেয়েও অনুমতি পায়নি সাবেক ক্ষমতাসীন এই দলটি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেকটাই নড়েবড়ে এবং দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এ কারণেই সমাবেশের অনুমতি দেয় না প্রশাসন। তবে আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াত জোটবদ্ধ থাকায় নৈরাজ্য ও নাশকতার আশঙ্কায় তাদেরকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যেসব সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি বিএনপি সেগুলো হচ্ছে, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মানববন্ধন, ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকার বাড়ি বাতিলের প্রতিবাদে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে, একই বছরের ৭ নভেম্বর উপলক্ষে সমাবেশ করতে ৭, ৮ ও ১৩ নভেম্বর অনুমতি চাইলেও প্রশাসন সাড়া দেয়নি। এছাড়া ২০১৪ সালের ১৪ মে, একই বছরের ২২ মে গুম-খুনের প্রতিবাদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট-এ সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে সমাবেশ করতে ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী বা নয়া পল্টন চাইলেও প্রশাসন চুপ থাকে।

বিএনপির সূত্র জানায়, মূলত ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে সমাবেশ করতে সক্ষম হয়নি দলটি। ওই দিন সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। তবে বিএনপি গাজীপুর বিভাগে এ দিন হরতাল পালন করে। এরপর থেকেই বিএনপির সমাবেশ ঘিরে কড়া অবস্থানে যায় সরকার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমতের জনসভা বা মতামত তারা সহ্য করতে চায় না। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ২০১৪ সালে ভোটবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার কারণে আওয়ামী লীগ সব সময় কমপ্লেক্সে ভোগে। ফলে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দিতে চায় না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বছরও আমরা ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে সমাবেশ করতে পারিনি। এটাতো সরকার পতনের সমাবেশ নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছিল, আমরা জাতির সামনে সেটি ‍তুলে ধরতে চাই ।’

বিএনপির মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৩ সালে কড়াকড়ির মধ্য দিয়ে ঢাকায় কিছু সমাবেশ করেছে বিএনপি। কিন্তু তার পরের তিন বছর বেশিরভাগ সমাবেশই করতে পারেনি। ২০১৩ সালে ছাত্রদল সমাবেশ করার পর ২০১৬ ও ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী করতে সক্ষম হয়েছে। মাঝখানের দুবছর ছাত্রদল কোনও সমাবেশ করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘ ২০১৪ সালে স্বেচ্ছাসেবক দল একটি সমাবেশ করে। আর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সমাবেশের আগেই খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছিল।’

শায়রুল কবির খানের দাবি, ‘সরকারের ভয় জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। আর যেহেতু বিএনপি জনগণের বড় প্লাটফর্ম, সে কারণে সমাবেশ করতে দিলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়বে। এই ভয়েই মূলত অনুমতি দেওয়া হয় না।’

৭ জানুয়ারি সমাবেশ করতে আগের দিন শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন নেতা বসে থাকলেও কমিশনার বিএনপি নেতাদেরকে সাক্ষাৎ দেননি।

বিএনপি কেন সমাবেশের অনুমতি পায় না, জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ডেপুটি কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ আগের ঘটনা সম্পর্কে আমি বলতে পারবো না। তবে এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ছিল। এ কারণে ভিভিআইপি নিরাপত্তা বিবেচনায় বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। ’

এ প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সভা-সমাবেশ করা সাংবিধানিক অধিকার, এ অধিকার সবারই রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মতো জঙ্গিবাদী সংগঠন আছে। তারা কর্মসূচির নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা, বোমাবাজি , বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর করে। এ কারণেই হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে।’

শনিবার (৭ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানেও আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, ‘বিএনপি দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। এ তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে আছে বলেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হয় হয়নি।’

উল্লেখ্য, বড় অনুষ্ঠানের মধ্যে গত বছরের মার্চে ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সিটিটিউশনে একদিন কাউন্সিল করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি।

Top