রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যবাহী জাহাজ প্রবেশে মিয়ানমারের না

48458_f3.jpg

ডেস্ক নিউজ:
শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য বোঝাই জাহাজ মিয়ানমার তার জলসীমায় প্রবেশ করতে দেবে না। জাপানি সংবাদ সংস্থা কিয়োদোর বরাতে শনিবার ব্যাংকক পোস্ট এই খবর প্রকাশ করেছে। ওই খবরে বলা হয়, মিয়ানমার স্বীকার করেছে যে, তারা মালয়েশিয়াকে তাদের দেশ থেকে খাদ্য বোঝাই জাহাজ না পাঠাতে অনুরোধ করেছে।
ইয়াঙ্গুনে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা মালয়েশীয় দূতাবাসকে জানিয়েছে যে, তারা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ থাকবে, যদি মালয়েশীয় সরকার তার দেশ থেকে কথিতমতে, কতিপয় এনজিও দ্বারা রোহিঙ্গাদের খাদ্য সাহায্য পাঠানোর কাজ বন্ধ রাখে। কারণ মিয়ানমার সরকারের পূর্ব অনুমতি ব্যতীত এ ধরনের খাদ্য বোঝাই জাহাজ মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করার অনুমতি পাওয়া যাবে না। ঐ মুখপাত্র আরো বলেন, যদিও মিয়ানমার তার সহযোগী আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কাছ থেকে মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়ে থাকে। কিন্তু এ ধরনের সাহায্য হতে হবে কোনো বৈষম্য প্রদর্শন ছাড়াই রাখাইন রাজ্যের উভয় সম্প্রদায়ের জন্য। এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অবশ্যই যথাযথ কূটনৈতিক চ্যানেলে আসতে হবে।
কিয়োদো বলেছে, এখানে উভয় সম্প্র্রদায় বলতে, মিয়ানমার সরকার রাখাইন সম্প্রদায়কে বুঝিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সর্বশেষ সহিংসতার সূচনা ঘটেছিল গত ৯ই অক্টোবর। যখন সন্দেহভাজন সশস্ত্র রোহিঙ্গারা সীমান্তের পুলিশ স্টেশন ও ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালিয়ে নয়জন কর্মকর্তা হত্যা এবং অস্ত্রশস্ত্র লুটে নেয়।
সামরিক বাহিনী সেই থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন্স’ পরিচালনা করছে। তারা রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং হাজার হাজার না হলেও শত শত রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করছে। এর ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক ধর্ষণ এবং অন্যান্য অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসবের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। কারণ ঐসব এলাকাগুলোতে বাইরের কারোর প্রবেশাধিকার দারুণভাবে নিয়ন্ত্রিত। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী রাজিব নাজাক মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার রয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনারের মতে, ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মালয়েশিয়ার অফিসে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬ শ’ ৬৯ জন উদ্বাস্তু আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত হয়েছেন। এরমধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ মিয়ানমার থেকে এসেছে। যাদের শতকরা ৪০ ভাগ অথবা ৫৪ হাজার ৮শ’ ৫৬ জন জাতিগত রোহিঙ্গা।

Top