রাশিয়ার হ্যাকিং নিয়ে সাক্ষ্য দেবেন এফবিআই ডিরেক্টর

52858b000d882b4ccc5067cd8b9ca751-5875762a07f17.jpg

বিদেশ ডেস্ক:
এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কমিমার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার সাইবার আক্রমণের ভূমিকা নিয়ে সিনেট কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) ডিরেক্টর জেমস কমি। তার সঙ্গে মার্কিন অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বস্থানীয়রাও উপস্থিত থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (১১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে সিনেট কমিটির এই অধিবেশন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস কমির পাশাপাশি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জেমস ক্ল্যাপার, সিআইএ ডিরেক্টর জন ব্রেন্যান এবং এনএসএ ও সাইবার কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল মাইক রজার্সও সিনেট কমিটির সামনে রাশিয়ার হ্যাকিং নিয়ে কথা বলবেন।

তবে, গত শুক্রবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অনুরোধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ‘নির্দেশ’ দিয়েছিলেন, যেন ‘মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা কমে যায়’।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন জেমস ক্ল্যাপার ও মাইক রজার্স। তারা ওই দিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন যে, কোনও প্রেসিডেন্ট যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনকে অবমূল্যায়ন করেন তিনি প্রকারান্তরে এসব সংস্থার কার্যকারিতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেন। তাদের এমন মন্তব্যের কারণ হলো—নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

একজন সিনেটরের প্রশ্নের জবাবে ক্ল্যাপার বলেন, ‘সন্দেহ পোষণ করা এবং অবমূল্যায়ন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে আমি মনে করি।’ ট্রাম্প তাদের রিপোর্টকে অবমূল্যায়ন করেছেন বলে ইঙ্গিত করেন তিনি। একই ধরনের সতর্কতার কথা বলেন রজার্সও।

এদিকে, মার্কিন নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভারের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে তদন্ত করা নিয়ে তিনি যে বক্তব্য রেখেছিলেন, সিনেট কমিটির সামনে তা নিয়েও জেমস কমি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য রখার সুযোগ পাবেন। এফবিআইয়ের নতুন করে করা ওই তদন্তেও হিলারি ক্লিটনের কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। নির্বাচনের একদিন আগেই এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে হিলারি ক্লিনটনকে নির্দোষও ঘোষণা করা হয়। এরপরও ডেমোক্রেটরা নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারির পরাজয়ের পেছনে এফবিআই পরিচালকের ওই তদন্তের নির্দেশনাকে বড় একটি কারণ হিসেবে মনে করে থাকেন।

নির্বাচনের ঠিক আগের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জেমস কমি কেন হিলারির ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভারের ঘটনা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আজকের সিনেট অধিবেশনে ডেমোক্রেটরা প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবেন।

Top