‘ভিক্ষা করতেন অর্থমন্ত্রীর মা ও ভাই’

Professor-m.a-Momen-.jpg

দৈনিক শিক্ষা :

ভিখারি ছিলেন ড. একেএম মোমেন! দ্বারে দ্বারে ধান-চাল, টাকা-পয়সা ভিক্ষা করে বেড়াতেন ছোটবেলায়! তিনি একা নন, ভিক্ষা করতেন তার মাও!

ছোটবেলার সেই ভিক্ষাবৃত্তির কথা খুব তৃপ্তির সঙ্গেই সবাইকে জানিয়ে দিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই ড. একেএম মোমেন।

অবশ্য এমন ভিক্ষাবৃত্তির কথা স্বীকার করতে লজ্জা নয়, গর্ব হওয়ারই কথা। নিজের বা পরিবারের জন্য নয়, মা-ছেলে ভিক্ষা করতেন স্কুলের জন্য। অন্ধকার দূর করে শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করার জন্যই তারা ঘুরতেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। আর যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আলোকিত হয়েছেন সেটি হলো- কিশোরীমোহন সরকারি (বালক) প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত স্কুলটি অনেকবার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে।

অর্থমন্ত্রী ও একেএম মোমেনের মা সৈয়দা শাহারবানু চৌধুরী বহু বছর এ স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনাটা তখনকার। স্কুলের আর্থিক অসচ্ছলতা দূর করতে শাহারবানু শহরের বিত্তশালীদের কাছে যেতেন। বাসায় বাসায় গিয়ে টাকা-পয়সা বা ধান-চাল জোগাড় করতেন। নিজের আত্মীয়স্বজনসহ সবার কাছেই তিনি স্কুলটির জন্য সাহায্য চাইতেন। তখন ছোট্ট মোমেনও মা’র সহযাত্রী হতেন। প্রাপ্ত সাহায্য নিয়ে বাসায় ফিরতেন।

কিশোরীমোহন সরকারি (বালক) বিদ্যালয়ে সেই মহীয়সী মহিলার নামে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ‘সৈয়দা শাহারবানু চৌধুরী ভবন’। চারতলা ফাউন্ডেশনের ২ তলার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে তা উদ্বোধন করতে যান অর্থমন্ত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। গিয়েছিলেন সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়েই মোমেন জানালেন স্কুলটির জন্য তাদের মা ও পরিবারের অবদানের কথা।

Top