‘নির্বাচনে রুশ হ্যাকিং নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প’

9615efccac7ac40558b60e4488857e7f-58727681c2ac9.jpg

বিদেশ ডেস্ক: 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হ্যাকিং বিতর্কের শুরু থেকে অস্বীকার করে আসলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তথ্য ও উপসংহার মেনে নিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্পের শীর্ষ পরামর্শক ও রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান রেইন্স প্রেইবাস। তবে ট্রাম্প নিজ মুখে এখনও মেনে নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। রবিবার এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রেইবাস ফক্স নিউজ সানডে অনুষ্ঠানে বলেন, ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) ও পার্টির ই-মেইল হ্যাকিংয়ের নেপথ্যে যে মস্কো রয়েছে, তা ট্রাম্প মেনে নিয়েছেন।

প্রেইবাসের এই মন্তব্য ট্রাম্পের বক্তব্যের চেয়ে বিপরীত। শনিবারও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ডিএনসির অবহেলার কারণেই হ্যাকাররা তাদের কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করতে পেরেছিল। এর আগেও বার বার ট্রাম্প হ্যাকিংয়ে রুশ সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে আসছিলেন।

প্রেইবাসের এই মন্তব্যের ফলে ট্রাম্পের অন্তবর্তী টিমের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের কেউ হ্যাকিংয়ে রাশিয়ার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন।

অবশ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাম্পকে সহযোগিতার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও ডেমোক্র্যাট দলের দাবির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রেইবাস।

প্রেইবাস জানান, ট্রাম্প গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হ্যাকিংয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা সুপারিশ আকারে প্রস্তুত করতে বলেছেন। পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন শুক্রবার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর ঠিক পরদিনই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘নির্বোধ’ ও ‘বোকা’-রাই শুধু রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্কের বিরোধিতা করে।

বহুল আলোচিত ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনধিকারচর্চার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দোষারোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্পষ্ট পক্ষপাত ছিল।

ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই বলে আসছেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বিদেশি শক্তির হ্যাকিংয়ের কোনও প্রভাব ছিল না।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া, চীনসহ অপর দেশ এবং বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে আমাদের সরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় সাইবার হামলা চালাতে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ন্যাশনাল কমিটিও রয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলে এ হ্যাকিংয়ের কোনও প্রভাব ছিল না। সূত্র: রয়টার্স।

Top