নানা অব্যবস্থাপনায় ধুকছে পেকুয়া বাজার

Pekua-Pic-29-11-16-2_1.jpg

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া :
পেকুয়া উপজেলার অন্যতম ব্যস্ততম বাজার ‘পেকুয়া বাজার’ ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। অবৈধ স্থাপনা, অব্যবস্থাপনা, দখল, দূষণ ও ড্রেনেজ অব্যবস্থার কারণে আগের সেই জৌলুস ক্রমশ হারাচ্ছে বাজারটি।

বহুকাল ধরে এ বাজারের অনেক সুনাম থাকলেও এখন তাতে যেন ভাটার টান। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় না থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে না প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো এ বাজারে।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলার মানুষ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন এ বাজারে বাজার করতে আসে। সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার বসে বাজার। বাকি দিনগুলোতে সওদা কম হয়না এ বাজারে।

পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ী সাকের সওদাগর, ওসমান গণি ও রহিম উল্লাহ সহ সচেতন ব্যবসায়ীরা বলেন, নিয়ম-নীতি না মেনে যেখানে সেখানে বসছে বাজার, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ড্রেনগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া সড়কের এক-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে ভাসমান দোকান বসার কারণে প্রতিদিন মগনামা-বরইতলি সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সম্প্রতি উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে চুরির ঘটনা। গত তিনমাসে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুরি হয়েছে।

pekua-29-11-16সরজমিনে পেকুয়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, যত্রতত্র দোকানপাট, সড়ক দখল করে সিএনজি/টমটম স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া দোকানের বাহিরে ফুটপাতে বা রাস্তায় বসেছে অসংখ্য ভাসমান দোকান। বাজারটি এই অঞ্চলের প্রাচীন বাজার হলেও নেই কোন স্বাস্থ্যসম্মত গণ শৌচাগার ব্যবস্থা। এমনকি বাজারের বিভিন্ন স্পটে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা।
পেকুয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী আকতার আহমদ বলেন, বাজারে প্রায় ৫শতাধিক ছোট-বড় ব্যবসায়ী রয়েছে। সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব নিয়ে বাজার ইজারা দিলেও উন্নয়ন নগন্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৪সালের ১৯জানুয়ারি বাজার কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছর মেয়াদী এ কমিটির মেয়াদ উত্তীন্ন হতে চলেছে আগামী জানুয়ারিতে। কিন্তু এই কমিটির উদাসীনতার কারণে বাজারের এই হাল বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।

২০১৪সালের এপ্রিল থেকে টানা তিন বছর পেকুয়া বাজারের ইজারা নিয়ে আসছেন পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বাজার অব্যবস্থাপনার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি ব্যক্তিগত খরচে প্রত্যেকদিন বাজার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাই।

পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ বাজারে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, পেকুয়া বাজার ছোট হওয়াতে জায়গার সংকট রয়েছে। সে তুলনায় অনেক জিনিসের বাজার বসে এখানে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন বলেন, পেকুয়া বাজারের বিভিন্ন সমস্যার ব্যাপারে আমাকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। আমি খোঁজ খবর নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

Top