দুপুরে ডাকাত রাতে মেয়রের সাথে সাক্ষাৎ

azm-nasir-ctg-mayor-_-coxsbazar-news.jpg

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছিরের সঙ্গে তার বাসায় বৈঠকে করেছেন সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের ছয় নেতা। বুধবার রাত ৯টায় এ বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠক প্রায় ৫৫ মিনিট ধরে চলে। মেয়র নাছিরের বাসায় পরস্পরবিরোধী দুই নেতার বৈঠক বেশ আলোচিত হয় নগরীতে। মহিউদ্দিন চৌধুরী নাছিরের বাসায় পৌঁছানোর আগেই সেখানে ভিড় জমান গণমাধ্যম কর্মীরা।

বৈঠককালে মেয়রের বাসার বাইরে বেশকিছু গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অবশ্য মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র আ জ ম নাছিরের বাসায় যাওয়ার আগেই সেখানে ভিড় জমান গণমাধ্যমকর্মীরা।

মহিউদ্দিন চৌধুরী রাত ৯টার দিকে মেয়রের বাসায় যায়। ১০ মিনিট পর মেয়র বৈঠক খানায় আসেন। এসময় সাংবাদিকদের দেখে মহিউদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ক্ষুব্ধ মহিউদ্দিনকে সামলাতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সাংবাদিকদের বের হয়ে যাবার অনুরোধ করেন। সাংবাদিকরা বের হয়ে গেলে তারা রূদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন।

মূলত ১২ নভেম্বর বিকেলে নগরীর লালদিঘি ময়দানে এই সংবর্ধনা অনষ্টানকে কেন্দ্র করে এ বৈঠক। সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নিয়ে গত সোমবার মহিউদ্দিনের বাসায় আরেকটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গিয়েছিলেন। পরবর্তী বৈঠক মেয়র তার বাসায় করার জন্য শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত বাকি চার নেতা হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

বৈঠকের বিষয়ে এম এ সালাম বলেন, শনিবার (১২ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ চট্টগ্রাম থেকে যারা কেন্দ্রে স্থান পেয়েছেন তাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। এই বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে আমরা বৈঠকে বসেছি।

এর আগে দুপুরে ‘বন্দর খেয়ে ফেলা ডাকাত’ হিসেবে আ জ ম নাছিরকে আখ্যায়িত করার পর রাতেই তার আন্দরকিল্লার বাসায় গিয়ে ‘সাংগঠনিক বৈঠক’ করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আ জ ম নাছির ছাড়াও সাংদস এম এ লতিফ, সংসদ শামসুল হক চৌধুরী এবং সাইফপাওয়ারটেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন।

এরপর সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের কাছে দুপুরে মহিউদ্দিনের করা মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকলেও নেতৃত্বে কোনো বিভাজন নেই। আওয়ামী বড় একটি দল। টুকটাক কিছু ‘গ্যাপ’ থাকতে পারে, এগুলো সব সংগঠনেই থাকে। তাছাড়া প্রধান মন্ত্রী হাত শক্তিশালী করতে হলে আমাদের পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসতে হবে। ছোটখাটো ভূল থাকলে মূল নেতৃত্বের মধ্যে কোনো বিভক্তি বিভাজন নেই। বলেন আ জ ম নাছির উদ্দিন।

 

Top