টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারল বাংলাদেশ

b4d816e2682057f687219d9a09ee891b-586f2789ae4cc.jpg

স্পোর্টস ডেস্ক:
একটি জয় চাই, একটি জয় ঘুরে দিতে পারে বাংলাদেশকে। তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি হারের পর মাউন্ট মাঙ্গানুইতে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে এমন আকাঙ্ক্ষা ছিল মাশরাফি মর্তুজাদের মনে। কিন্তু দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও জয় ধরা দিল না তাদের হাতে। বরং তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ হাতে রেখেই খোঁয়াল বাংলাদেশ। ৪৭ রানে হেরেছে তারা। ২-০ তে এগিয়ে থেকে রবিবার হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়েই শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা আশা জাগানিয়া হলেও কলিন মুনরো ও টম ব্রুসের দুটি শক্ত ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি সফরকারীরা। সিরিজে ফিরতে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯৬ রান। বিশাল লক্ষ্যে নেমে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও সৌম্য সরকার ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে আশা জাগে। কিন্তু ২২ গজে থিঁতু হওয়া এ দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরতেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস। ১৮.১ ওভারে ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।

লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মাত্র ৩ বল খেলে রানের খাতা না খুলেই মিচেল স্যান্টনারের বলে টম ব্রুসের ক্যাচ হন ইমরুল কায়েস। মাত্র ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের জুটি ধাক্কা সামলায়। কিন্তু সাব্বিরের ভুল বোঝাবুঝির ফাঁদে পড়ে তামিম হন রান আউট। ৭ বলে দুটি চারে সাজানো তার ১৩ রানের ইনিংস থামে। মাঠে নেমেই দ্বিতীয় বলে বেন হুইলারের শিকার হন সাকিব আল হাসান (১)। মাত্র ৩৬ রানের মধ্যে দল তিন উইকেট হারালেও সৌম্য সরকার ও সাব্বিরের ব্যাটিং নৈপুণ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্টের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে আউট হন সৌম্য। ভাঙে ৬.৪ ওভারে গড়া ৬৮ রানের দারুণ জুটিটি। তিন চার ও দুই ছয়ে থামে সৌম্যের ২৬ বলে সাজানো ৩৯ রানের ইনিংস।

সাব্বির কিছুক্ষণ পরই সৌম্যকে অনুসরণ করে সাজঘরে ফিরে যান। হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ক্রিজ ছাড়েন তিনি। ইশ সোধির বলে বোল্টের হাতে ক্যাচ দেন সাব্বির। ৩২ বলে তিনটি করে চার ও ছয়ে ইনিংস সেরা ৪৮ রানে আউট হন তিনি। এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর রানের গতি স্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। মোসাদ্দেক হোসেন খেলতে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ১ রানে কেন উইলিয়ামসনকে উইকেট দেন তিনি। ১৫ বলে ১৯ রানে সোধির দ্বিতীয় শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। ওই ওভারেই মাশরাফিকে ১ রানে ফেরান সোধি। পরের ওভারে উইলিয়ামসনকে উইকেট দেন নুরুল (১০)। ১৮.১ ওভারে রুবেল হোসেনকে ফিরিয়ে শেষ উইকেটটি তুলে নেন হুইলার। ১০৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ ৬ উইকেট হারায় ৪৪ রানের ব্যবধানে।

এর আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত শুরুতেই বাংলাদেশের অনুকূলে যায়। প্রথম বলেই মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ তুলে দেন স্বাগতিক ওপেনার লুক রনচি, উইকেট শিকারি ছিলেন মাশরাফি।

এরপর একপাশে কলিন মুনরো ব্যাটে ঝড় তুললেও উইলিয়ামসন বেশিদূর এগোতে পারেননি। গত ম্যাচের জয়ের নায়ক উইলিয়ামসনকে মাত্র ১২ রানে তামিমের ক্যাচ বানান সাকিব। কোরি এন্ডারসন ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নিজের তৃতীয় বলে মাত্র ৪ রান করে মোসাদ্দেকের কাছে বোল্ড হন তিনি। ৪৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

কিন্তু মুনরো শুরু থেকে আগ্রাসী ছিলেন। যার ফলে ৩১ বলে পঞ্চাশ ছোঁন তিনি। সেখানেই থেমে যাননি মুনরো। হাফসেঞ্চুরিকে নিয়ে যান তিন অঙ্কের ঘরে। মাত্র ৫২ বলে ৭টি করে চার ও ছয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য কঠিন সময় তৈরি করেন মুনরো। তবে নিজের ৫৪তম বলে রুবেলের কাছে উইকেট দেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ইনিংস সেরা ১০১ রান করেন তিনি। ওই ওভারেই রুবেল বোল্ড করেন কলিন ডি গ্রান্ডহোমকে। নিজের ও ইনিংসের শেষ ওভারে রুবেল আরও দুটি উইকেট তুলে নেন। জিমি নিশামকে বোল্ড করার পর মিচেল স্যান্টনারকে রান আউট করেন তিনি।

২০ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ১৯৫ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে নিউজিল্যান্ড। রুবেল সবচেয়ে বেশি ৩টি উইকেট নেন ৩৭ রান দিয়ে।

-বাংলা ট্রিবিউন:

Top