জেলা উন্মুক্ত মহিলা ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

sports.jpg

এম.এ আজিজ রাসেল, কক্সবাজার:
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে জেলা উন্মুক্ত মহিলা ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা’১৭।
শনিবার (৭ জানুয়ারী) বিকালে সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে দ্বৈত ক্যাটাগরিতে মুখোমুখি হয় জুবাইদা-মিথিলা জুটি বনাম বৃষ্টি-তৈয়বা জুটি। উত্তেজনাপূর্ণ প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে থাকে বৃষ্টি-তৈয়বা। কিন্তু পরের রাউন্ডে খেলায় সমতায় ফেরান মিথিলা জুটি। চূড়ান্ত ম্যাচে বৃষ্টি-তৈয়বা জুটিকে ২-১ সেটে পরাজিত করে জুবাইদা-মিথিলা জুটি। অপরদিকে এককে মুখোমুখি হয় দুর্দান্ত মিথিলা বনাম চৌকষ লড়াকু হালিমা। তাদের খেলায় প্রথম দিকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হালিমার কাছে ২-০ সেটে হেরে যায় মিথিলা। তবে তার শৈল্পিক নৈপুণ্য প্রশংসা কুঁড়িয়েছে সবার। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সেলিনা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আশেক উল্লাহ রফিক এমপি। বিশেষ অতিথি অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়–য়া অপু। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ারুল নাসের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম মজুমদার, সহকারি কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য, মাশেদুল হক মার্শেল, রাশেদ আবেদীন নান্নু, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভানেত্রী ফাতেমা বেগম লাবনী, সাধারণ সম্পাদিকা গোপা সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা খালেদা জেসমিন, সদস্য পান্না ও আইরিন। অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রেস্ট তুলে দেন। প্রতিযোগিতায় সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট ছিনিয়ে নেয় একক চ্যাম্পিয়ন হালিমা। এছাড়া তৃণমূলে উদীয়মান খেলোয়াড়ের খ্যাতি অর্জন করে তৈয়বা। এর আগে খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হন অতিথিরা। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন। খেলায় রেফারি কোচের দায়িত্বে ছিলেন জেলার মেধাবী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় আজাদ ও মনিরুল ইসলাম মনির।

এসময় জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সেলিনা রহমান জানান, কক্সবাজারের মেয়েদের প্রতিভা রয়েছে। তাই তাদের মাঠমূখী করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে এই প্রতিযোগিতা অন্যতম। এরপর শুরু হবে মহিলা ভলিবল প্রতিযোগিতা। পর্যায়ক্রমে সব ক্রীড়ায় মেয়েদের সম্পৃক্ততা করা হবে। যাতে ক্রীড়া চর্চায় এগিয়ে যায় কক্সবাজারের মেয়েরা। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা হলে জাতীয় পর্যায়েও এখানকার মেয়েরা কক্সবাজারের সুনাম বৃদ্ধি করবে। তাই ঘরে বসে না থেকে তিনি মেয়েদের ক্রীড়া চর্চায় আগ্রহী হওয়ার আহবান জানান। তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন স্কুল থেকে ৩০ জন মেয়ে বাছাই করে ১৫ দিন ব্যাপী ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের অনুপ্রেরণার জন্য ৩ জানুয়ারী শুরু হয় জেলা উন্মুক্ত মহিলা ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। যার ফাইনাল আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ পেয়ে মেধার বিকাশ করতে পারছে। তাই এরকম সুযোগ আরো বাড়ানো হবে। যাতে তারা আরো অনেকদূর এগিয়ে যায়। তাদের দেখে এগিয়ে আসবে অন্যরাও। সেই সাথে অনুপ্রাণিত হবে ভবিষ্যত প্রজন্ম।

Top