চবি’র কেন্দ্রীয় নেতার মৃত্যু নিয়ে সংশয়, হত্যা না আত্মহত্যা?

diaz.jpg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিজ বাসায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও অনুসারীরা। তাদের দাবি টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ও একটি ২৫ লাখ টাকার চেককে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়েছে মেধাবী ছাত্রনেতা দিয়াজকে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির নিচে মালিক পানি ছাড়তে গেলে দিয়াজের ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে আইনি প্রক্রিয়া মোতাবেক রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে তার হাটহাজারীর বাসায় লাশ আনা হলে দিয়াজ ইরফানের অনুসারীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহকারী প্রক্টর আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। তাদের দাবি দিয়াজ ইরফান আত্মহত্যা করেনি। একটি ২৫ লাখ টাকার চেকের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে।
দিয়াজের ভগ্নিপতি সরওয়ার আলম চেকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দিয়াজ আমাকে একটি ২৫ লাখ টাকার চেকের কথা বলেছিল। তবে এটি এখনো আমি দেখিনি। খোঁজ করলে এটি পাওয়া যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, টেন্ডারসংক্রান্ত বিরোধের সমঝোতার জন্য দিয়াজকে একটি ২৫ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। দিয়াজের মত ছেলে কখনো আত্মহত্যা করতে পারেনা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা রেরিয়ে আসবে দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মঙ্গলের জন্য এটি করতে হবে।
হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা বিলকিস সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন ময়না তদন্তের পর বলা যাবে এটা কি আত্মহত্যা নাকি খুন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৭ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগের সিটি মেয়র অনুসারীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। একপক্ষে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাবেক সহ-সভাপতি আবুল মনসুর জামশেদ। অন্যপক্ষে নেতৃত্ব দিতেন দিয়াজ ইরফান চৌধুরী। বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও টিপু-জামশেদ অনুসারী তাইফুল হক তপুকে ২৮ অক্টোবর রাতে সাড়ে ৯টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। এজন্য দিয়াজ পক্ষকে দায়ী করে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুর অনুসারীরা দিয়াজ ইরফানসহ তার অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাদের বাসায় হামলা চালায়। ঘর ভাংচুরের ঘটনায় মামলা করতে গেলে হাটহাজারী থানার ওসি মামলা নিতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে দিয়াজের পরিবারের। ঘর ভাংচুরের পর থেকে দিয়াজের মা ভাড়া বাসাটিতে থাকতেন না। দিয়াজ বাসায় একা থাকতেন।

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক পূর্বকোন, চ.বি. প্রতিনিধি।

Top