কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত সকাল ৮টায়

eidgah_1.jpg

মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার :

আগামী কাল, মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আযহা। এ উপলক্ষে পর্যটন নগরী ঈদুল আযহা উদ্যাপনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করবেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সুলায়মান কাশেমী। কক্সবাজার পৌরসভার আয়োজনে প্রধান ঈদ জামাতে বৃষ্টি হলেও যদি মাঠে পানি না জমে তাহলে ঈদের জামাত আদায় করা যাবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান। এছাড়া এবারই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র । একই সাথে পশুর বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দিলে তা খুব দ্রুত পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কক্সবাজারে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮ টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। এতে ইমামতি করবেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি সুলায়মান কাশেমী। নিয়মিত ইমাম খতিব মৌলানা মাহমুদুল হক পবিত্র হজ্ব পালনের কারণে সৌদিআরবে আছেন। তাই ইমাম মৌলানা মুফতি সুলায়মান কাশেমী নামাজ পড়াবেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঈদ জামাতের যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে। উপরে তেরপল লাগানো হয়েছে যাতে বৃষ্টি হলেও নামাজ আদায় করা যায়। তবে অতিবৃষ্টির কারণে যদি মাঠে পানি জমে যায় তাহলে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান বলেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে যথারীতি ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করবো পৌরবাসী সকাল ৮ টার আগেই ঈদের মাঠে চলে আসবেন। তিনি বলেন, এবারই প্রথম পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষমূলকভাবে কয়েকটি ওয়ার্ডে পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করা হবে। আমরা সেসব নির্ধারিত স্থানকে পশু জবাইয়ের উপযুক্ত করে তৈরি করেছি এবং সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং রোগজীবাণুমুক্ত থাকা যাবে এবং আগামীতে সব ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই করার ব্যবস্থা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও যারা নিজ বাসা বাড়িতে কোরবানীর পশু জবাই করবে তাদের পশুর বর্জ্য যেখানে সেখানে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে রাখার আহবান করছি। সব বর্জ্য দুপুরের মধ্যেই পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়ে আসবে বলে তিনি জানান। কোনভাবেই পশুর নাড়িভুড়ি নালাতে না ফেলার অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে কয়েক লক্ষ পর্যটক কক্সবাজারে আসবে বলে জানান হোটেল মালিকরা। আলাপকালে কয়েকজন হোটেল মালিক জানান, আমাদের ৮০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হোটেলে বুকিং আছে আবার এখনো অনেক পর্যটক যোগাযোগ করছে। সে হিসাবে আমরা আশা করছি এবার ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হবে। সে হিসাবে আমাদের ব্যবসাও ভাল হবে আশা করছি।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ঈদ হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এবং আনন্দের দিন। তাই এই দিনে যাতে সর্বস্তরের মানুষ নিরাপদে নির্বিঘ্নে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে-সেজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল রাখতে সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে সাদা পোষাকে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গরুর বাজারসহ সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কাজ করছে। ঈদের দিন থেকে পরবর্র্তী কয়েক দিন সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।

Top