আমার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

abu-saied.jpg

তানভীরুল মিরাজ রিপন :

শিশুদের চাকর হওয়ার স্বপ্ন আমাদের অভিভাবকরা গেথে দেন।কেন গেথে দিবেন?একজন মানুষ সম্পূর্ন আলাদা জীবন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।একজন মানুষের ভাবনা আলাদা ও ভিন্ন রকম ভাবে হয়।আর আমাদের শিশুদের ওপর আমারই চাকর হওয়ার স্বপ্ন স্থাপন করি।যখন একজন শিশুকে প্রশ্ন করা হয়-তুমি বড় হয়ে কি হবে?তখন একজন শিশু অকপটে উত্তর দিয়ে দেই, বড় হয়ে বিল গেটসের মাইক্রোসফট প্রতিষ্টানের কাজ করবো,বা গুগলে কাজ করবো।কিন্তু আমরা কখনো আমাদের শিশুদের এটা বুঝাতে চাইনা যে,বড় হয়ে নিজেই নিজেকে গড়ে তুলতে।তাতে আমরা একজন আমলা,কামলা সহজ ভাষায় চাকর পাবোনা।পাবো একজন মানুষ-সুন্দর মানুষ।

“আমি আমিই হবো পুরাতন নিয়মের কেউ নই,আইনস্টাইন,নিউটন হয়ে গেছে-আমি নতুন করে আমাকে নতুন ভাবে পরিচিত করবো।”এই অদম্য স্পৃহা গুলো আমাদের অভিভাবকেরা আমাদের শেখাননা।আমাদের স্বপ্নগুলো মেরে ফেলেন।আমাদের অভিভাবকেরাই শিশুদের স্পৃহাকে খুন করে।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অধীনে আমি কাজ করেছি-মাঝখানে বিরতি থাকার কারনে আমি একটু দূরে ছিলাম।আমার বই পড়া অভ্যেস যদিওবা ক্লাস থ্রী থেকে শুরু করেছি কিন্তু ক্লাস সিক্স থেকে আমি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের নিয়মিত পাঠক তবে তখন থেকে আমি আব্দুল্লাহ আবু সায়্যেদ কে চেনতাম না।বই গুলো পড়তাম।পালাক্রমে ভাল পাঠক হওয়ার ফলে আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠ্যভাস পুরস্কার ও পেয়েছিলাম কেন্দ্রীয়ভাবে।পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে আমি আব্দুল্লাহ আবু সায়্যেদ স্যার কে মনে ও প্রানে চিনি কারন আমি তার ভক্ত, খুব সুন্দর ভাটাহীন, অনুপ্রেরনা মুলক কথা গুলো আমাকে সহ অসংখ্য প্রানকে বদলিয়ে দেই।তারই অনুপ্রেরনায় আমরা বই ভিত্তিক একটি সংগঠন পরিচালনা করছি।সময় সুযোগ করে স্যারকে আমি আমার সামাজিক সংগঠনের কথা গুলো উপস্থাপন করবো,স্যার এর পরামর্শ চাইবো ভাবছি অনেকদিন।কিন্তু সময় হয়তো সুযোগ হয়না,সুযোগ হয়তো সময় হয়না।আজ সকালে স্যার কক্সবাজার এ একটি ববিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়েছেন এতে সৌভাগ্যক্রমে আমিও দাওয়াত পাই।স্যার এর বক্তৃতা শুনলেও আমার প্রশ্ন স্যার কে শুনাতে পারলেও , একান্তভাবে কথা বলার সুযোগ হয়নি। হঠাৎ করে স্যার এর একজন পাগলা ভক্ত অনেকদূর থেকে স্যার এর সাথে দেখা করতে আসলেন শহরে কিন্তু তিনি পৌছবার দু ঘন্টা আগেই স্যার এর আজকের নির্ধারিত অনুষ্টান শেষ হয়ে গেলো।তিনি এসে হতাশ হলেন শেষ পর্যন্ত দেখা হলোনা।আমি বললাম চলুন দেখা যখন হলোনা আমি সী বীচে যায়না অনেকদিন চলুন ঘুরে আসি।উনি সম্মতি দেওয়াতে কিছু দুর যেতেই আমি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একজন লাইব্রেরীয়ানের কার্ড ছিল, ভাবলাম ট্রাই করে দেখি ফোনে পাওয়া যায় কিনা।ফোন করলাম, জেনে নিলাম স্যার কোন হোটেলে উঠেছেন।আনন্দ নিয়ে মনে বিশাল স্বপ্নের হিমালয় চূড়া নিয়ে গেলাম স্বপ্নের ফেরিওয়ালার কাছে।রিচেপশনে গেলাম বললাম আব্দুল্লাহ আবু সায়্যেদ স্যার এর সাথে দেখা করতে আসলাম।রিচেপসনের ভদ্র জন খুব ভারী গলাই বললেন যে আমরা তো সরাসরি রুমে যাবার অনুমতি দিতে পারিনা।এককাজ করুন আপনি চিঠি লিখুন স্যার বরাবর যদি তিনি লবি তে আসেন তাহলে আমরা চিঠিটা দিয়ে দিবো। আপনার ততোক্ষন অপেক্ষা করুন-আমি আর শাহজালাল সাহেব (স্যার এর পাগলা ভক্ত)বসে লেখালেখি বিষয়ে আলাপ করতে করতে আমরা কবিতার দিকে চলে গেলাম -মানে রিচেপশনের ওয়েটিং এর জন্য ঠিক করে দেওয়া নির্ধারিত জায়গাতে কবিতা পাঠ করছি যে যার মতো।হঠাৎ রিচিপসনের ভদ্রজন এসে বললেন স্যার এর রুমে কেউ নেই তবে আমরা চিঠিটা রেখে আসছি,উনি আসলে দেখবেন যদি অনুমতি দেন তো দেখা হবে নয়তো না।আমরা ততোক্ষন অপেক্ষা করছিলাম তারই মাঝখানে স্যার নিজেই এসে আমাদের খুজতে লাগলেন।প্রথমে আমরা বলেছিলাম ইতস্তত বোধ করলেন যে না তুমি নয়।পরক্ষনে চিঠিটা পড়ে বুঝতে পারলেন রিপন আমিই।স্যার বসলেন আমরা ও বসলাম – স্যারের পাগলা ভক্তের কথা শুনালেন স্যারকে-আপনাকে দেখতে আমি ছ’শত টাকা নিয়ে ঢাকা গিয়ে দেখা করতে পারিনি, পর পর তিনবার দেখা করতে চেয়েও পারিনি আজ পারলাম।স্যার হেসে বললেন তুমি তো আমার ভক্ত তাহলে। আমার আবার ভক্ত কম। তরুনদের বই পড়া নিয়ে প্রশ্ন করলাম-আমরা খুব কম সংখ্যক তরুন বইয়ের দিকে ছুটছি কিন্তু তার বেশি সংখ্যক তরুন মাদকের দিকে ছুটছে তাদের জন্য আপনার বক্তব্য টা কি জানাবেন?স্যার সাথে সাথে বললেন-আমরা প্রজন্মকে এগিয়ে আনার জন্য কাজ করছি একসময় দেখবে তরুনরাও তোমাদের দ্বারা প্রভাবিত হবে।তবে কিভাবে সেটা হবে?সেটার একটা গল্প বলি,পাঠ্য বই পড়াই যারা শুধু তারা শিক্ষক নয়,আমার জীবনে একজন মহান মানুষ আছেন,আমি যখন গ্রামে থাকতাম তখন আমাকে এক কাকা এসে এসে বলতেন বলতো এ সপ্তাহে কোন বইটি পড়েছো?তখন আমি বলতাম না এ সপ্তাহে বই পড়িনি,তারপর তিনি কি চমৎকার করে হেসে বলতেন তাতে কি হয়েছে?এভাবে বারবার প্রশ্ন করতেন পরে অভ্যেস হয় বই পড়ার তার বদোলতে আমি আজ এই স্থানে।

তোমরাইতো পৌছে দিবো আলোর প্রদীপ।দেশ একদিন অনেকদূর এগিয়ে যাবে আর সেই এগিয়ে যাওয়াটা কে দ্রুততর করবে শুধু তোমরা তবে, নিজের নৈতিকতা কে বিসর্জন দিবেনা,আর নিজেকে বেচবে না,কারন তুমি নিজেও একটি মতবাদ স্থাপন করতে পারো।স্যার কে প্রশ্ন করলাম ফেইসবুকে আসছেননা কেনো?বড় বড় মানুষ গুলো তো ফেইসবুক ছাড়া ছিলেন এতে তাদের ক্ষতিওতো হয়নি।তাহলে আমার ও ক্ষতি হবেনা। আমি মনেকরি প্রচারমুখিতা একটা ব্যবসা এটির আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো হারিয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়।যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন গেলাম তখন আমি এক বন্ধুর রুমে গেলাম। দেখি তার রুম পুরোই সাফ সাফ। তা দেখে আমি বললাম তোমার বউ থাকবেনা।কারন একটা নির্দিষ্ট মানুষের কাজ হলো এই গুলো গুছানোর,সত্যি তার বউ একদিন অন্যজনের সাথে পালিয়ে গেলো।মানুষ কিছু দিতে চাই,দেওয়ার স্থরটা রাখো।

সবশেস স্যার কে বললামম স্যার আজকাল লেখক বা কবি হতে গেলে অনেকে মাদক ছাড়া এ পেশায় থাকা যায়না বলছে আর মনসতত্ব বা রকমেটালের নাম দিয়ে যে মাদকটাকে একেবারে আপন করে নিয়েছে তারা বলছে এসব ছাড়া হয়না জয়-
স্যার উত্তরে বললেন,মদ হলো একটা কৃত্রিম উত্তেজক পানীয় যেটা নিজেকে একটা আবেগীয়তায় নিয়ে আসতে পারে কিন্তু সঠিক ভাবনায় স্থাপন করতে পারেনা।এসব নিয়ে মনে হচ্ছে আমার ফেইসবুকে আসতে হবে,কারন একটা মহল তরুন প্রজন্মকে নষ্ট করছে।

স্যার এর কাছ থেকে দুঘন্টা দীক্ষা নিয়ে দীক্ষিত হয়ে বললেন এবার তোমরা ছড়িয়ে যাও,পুরো পৃথিবীতে।

লেখক-তানভীরুল মিরাজ রিপন।
সিনিয়র আর জে,রেডিও লাইভ বিডি।

Top